০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঘারপাড়ার বরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছুটি ও কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই শিক্ষক আরতিবালার ভারতে গমণ

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪২:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৯ Time View

 

বাঘারপাড়া প্রতিনিধিঃ কোন বিধি বিধান না মেনেই বারবার ভারতে গমণ করার অভিযোগ পাওয়াগেছে বাঘারপাড়ার এক স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। প্রতিষ্টান প্রধান বা ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি, এমনকি তিনি এনওসি ছাড়াই অসংখ্যবার ভারতে গমণ করেছেন। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। অভিযুক্ত শিক্ষিকার নাম আরতিবালাবিশ্বাস। তিনি বাঘারপাড়ার ধলগ্রাম ইউনিয়নের বরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ।
বিদ্যালয়ের একটি সূত্রে জানাগেছে, গত ২৮ জুন থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত আরতিবালা বিশ্বাস নিজ প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। কোন অসুস্থতা ছাড়াই তার ২০ দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির বিষয় নিয়ে অন্য শিক্ষকদের মধ্যে কানাকানি শুরু হয়। কিছু শিক্ষক এ নিয়ে কথা বলতেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান আরতিবালার পক্ষ অবলম্বন করেন। এক পর্যায়ে শিক্ষক হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত ২০ দিনের স্বাক্ষর করিয়ে নেন। ঐ সুত্রের দাবি প্রধান শিক্ষক সাইদুর অনৈতিক সুবিধা নিয়েই এ কাজটি করেছেন।

নিয়ম রয়েছে কোন এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ভারতের ভিসার আবেদন এবং ভ্রমণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে অফিসিয়াল আদেশ বা বহিঃবাংলাদেশ ছুটি মঞ্জুর করা বাধ্যতামূলক। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভুত ও অসসদাচরণ। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে শিক্ষা অফিস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে অনাপত্তি সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ সব নিয়মের কোন কিছুই মানেননি আরতিবালা বিশ্বাস। এমনকি তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে ছুটিও নেননি। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে সভাপতিও কিছুই জানেন না।
অনুসন্ধানে জানাগেছে আরতিবালা বিশ্বাসের তিনটি পাসপোর্ট রয়েছে। তার প্রথম পাসপোর্ট নং BF 0234894G ও দ্বিতীয় পাসপোর্ট নং EF 0351234 । দ্বিতীয় পাসপোর্টেই তিনি সর্বাধিকবার ভারতে গমণ করেছেন। এ পাসপোর্টের মেয়াদ হয়েছে ১৯/০২/২০২৫ তারিখে। বর্তমানে তিনি ই পাসপোর্ট করেছেন। সর্বশেষ ভারতে তিনি ই পাসপোর্টে গমণ করেছেন।
উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের নিখিল কুমার আঢ্যের স্ত্রী আরতিবালা বিশ্বাস গত ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ে আসেননি ঠিকমতো। নিখিল কুমার আঢ্য জামদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি। তৎকালিন এমপি রণজিত রায়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কোন কিছুই পরোয়া করতেন না আরতিবালা বিশ্বাস। বিভিন্ন সূত্রের দাবি নিখিল আরতি দম্পত্তি ভারতে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। গত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সাবেক এমপি রণজিৎ রায়ের নিয়োগ বানিজ্যর প্রধান মাধ্যম ছিলেন এই দম্পত্তি। তাদের একমাত্র সন্তান জিকো আঢ্য ১০ বছর বয়স থেকে ভারতে থাকেন। জিকো আঢ্য সেখানে বিএসসি নার্সিং শেষ করে চাকরি করেন।
জানতে চাইলে আরতিবালা বিশ্বাস জানান, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান সব জানেন। তিনি আমাকে ছুটি দিয়েছেন। তবে অনুপস্থিতির দিনে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি এড়িয়ে যান।
বরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান জানান, আরতিবালা বিশ্বাস দুইদিনের সিএল ছুটি নিয়েছে। পরিক্ষার ভিতর সে আসেননি। পরে অন্য শিক্ষকদের সাথে কথা বলে তার অনুপস্থিতির বিষয়টি হাজিরা খাতায় মেকআপ দেওয়া হয়েছে।
এ বিদ্যালয়ের সভাপতি বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভুপালি সরকার জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে ঘটনার সত্যতা পেলে যতাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বাঘারপাড়ার বরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছুটি ও কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই শিক্ষক আরতিবালার ভারতে গমণ

Update Time : ০১:৪২:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

 

বাঘারপাড়া প্রতিনিধিঃ কোন বিধি বিধান না মেনেই বারবার ভারতে গমণ করার অভিযোগ পাওয়াগেছে বাঘারপাড়ার এক স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। প্রতিষ্টান প্রধান বা ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি, এমনকি তিনি এনওসি ছাড়াই অসংখ্যবার ভারতে গমণ করেছেন। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। অভিযুক্ত শিক্ষিকার নাম আরতিবালাবিশ্বাস। তিনি বাঘারপাড়ার ধলগ্রাম ইউনিয়নের বরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ।
বিদ্যালয়ের একটি সূত্রে জানাগেছে, গত ২৮ জুন থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত আরতিবালা বিশ্বাস নিজ প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। কোন অসুস্থতা ছাড়াই তার ২০ দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির বিষয় নিয়ে অন্য শিক্ষকদের মধ্যে কানাকানি শুরু হয়। কিছু শিক্ষক এ নিয়ে কথা বলতেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান আরতিবালার পক্ষ অবলম্বন করেন। এক পর্যায়ে শিক্ষক হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত ২০ দিনের স্বাক্ষর করিয়ে নেন। ঐ সুত্রের দাবি প্রধান শিক্ষক সাইদুর অনৈতিক সুবিধা নিয়েই এ কাজটি করেছেন।

নিয়ম রয়েছে কোন এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ভারতের ভিসার আবেদন এবং ভ্রমণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে অফিসিয়াল আদেশ বা বহিঃবাংলাদেশ ছুটি মঞ্জুর করা বাধ্যতামূলক। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভুত ও অসসদাচরণ। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে শিক্ষা অফিস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে অনাপত্তি সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ সব নিয়মের কোন কিছুই মানেননি আরতিবালা বিশ্বাস। এমনকি তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে ছুটিও নেননি। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে সভাপতিও কিছুই জানেন না।
অনুসন্ধানে জানাগেছে আরতিবালা বিশ্বাসের তিনটি পাসপোর্ট রয়েছে। তার প্রথম পাসপোর্ট নং BF 0234894G ও দ্বিতীয় পাসপোর্ট নং EF 0351234 । দ্বিতীয় পাসপোর্টেই তিনি সর্বাধিকবার ভারতে গমণ করেছেন। এ পাসপোর্টের মেয়াদ হয়েছে ১৯/০২/২০২৫ তারিখে। বর্তমানে তিনি ই পাসপোর্ট করেছেন। সর্বশেষ ভারতে তিনি ই পাসপোর্টে গমণ করেছেন।
উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের নিখিল কুমার আঢ্যের স্ত্রী আরতিবালা বিশ্বাস গত ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ে আসেননি ঠিকমতো। নিখিল কুমার আঢ্য জামদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি। তৎকালিন এমপি রণজিত রায়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কোন কিছুই পরোয়া করতেন না আরতিবালা বিশ্বাস। বিভিন্ন সূত্রের দাবি নিখিল আরতি দম্পত্তি ভারতে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। গত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সাবেক এমপি রণজিৎ রায়ের নিয়োগ বানিজ্যর প্রধান মাধ্যম ছিলেন এই দম্পত্তি। তাদের একমাত্র সন্তান জিকো আঢ্য ১০ বছর বয়স থেকে ভারতে থাকেন। জিকো আঢ্য সেখানে বিএসসি নার্সিং শেষ করে চাকরি করেন।
জানতে চাইলে আরতিবালা বিশ্বাস জানান, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান সব জানেন। তিনি আমাকে ছুটি দিয়েছেন। তবে অনুপস্থিতির দিনে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি এড়িয়ে যান।
বরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান জানান, আরতিবালা বিশ্বাস দুইদিনের সিএল ছুটি নিয়েছে। পরিক্ষার ভিতর সে আসেননি। পরে অন্য শিক্ষকদের সাথে কথা বলে তার অনুপস্থিতির বিষয়টি হাজিরা খাতায় মেকআপ দেওয়া হয়েছে।
এ বিদ্যালয়ের সভাপতি বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভুপালি সরকার জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে ঘটনার সত্যতা পেলে যতাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।