১১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আষাঢ়ের শেষে কাঙ্খিত বৃষ্টি না থাকলেও থেমে নেই নাচোলের কৃষকদের কর্মযজ্ঞঃ

Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • / ১১ Time View

 

  1. মোঃ হেলাল উদ্দীন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় আষাঢ় মাসের শেষ সময়েও পর্যাপ্ত বৃষ্টির দেখা নেই। তীব্র অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে কৃষকরা রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরি এবং মাটিতে হাল চাষ করতে পারছে না। পানি সংকটে মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের এই উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা।

বৃষ্টির পানি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক গভীর নলকূপ ও পুকুরের পানির উপর নির্ভর করছেন, যা আমন চাষের উৎপাদন খরচ বহুগুণে বাড়িয়ে দিবে।

বর্ষার পানিতে যেখানে চাষাবাদের খরচ কম হয়, সেখানে সেচের পানি ব্যবহার করায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহু গুণে বেড়ে যাচ্ছে।

প্রকৃতির বৈরী আচরণ ও অনাবৃষ্টির কারণে চাষাবাদ কিছুটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়লেও কৃষকদের অদম্য প্রচেষ্টায় ফসল ফলানোর এই কাজ এক মুহূর্তের জন্যও থেমে নেই।
বৃষ্টির অপেক্ষায় না থেকে বরেন্দ্র এই অঞ্চলে গভীর-অগভীর নলকূপ ও সেচ পাম্পের সাহায্যে সময় মতো জমি প্রস্তুত ও চারা রোপন করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কৃষকরা।

এলাইপুর গ্রামের কৃষক মোঃ আলমগির রহমান বলেন,
বৃষ্টির জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ কপালে উঠে যাচ্ছে। আষাঢ় মাস শেষ হয়ে গেল অথচ মাঠে কাদা করার মত এক ফোঁটা পানি নেই। তাই বাধ্য হয়ে সেচ পাম্পের মাধ্যমে জমি চাষাবাদ করার চেষ্টা করছি।

স্থানীয় কৃষকদের এই সংকটের সময় প্রয়োজনীয় সেচ সুবিধা নিশ্চিত না করা গেলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলেও কৃষকদের হতাশা হওয়ার কারণ নেই। খরিফ-২ মৌসুমে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে উন্নত জাতের ধান বীজ ও রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির উপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ফিতা পাইপ এর মাধ্যমে সম্পূরক সেচ দিয়ে বীজতলা সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নাচোল উপজেলায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। সেই আশাতেই এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছেন বরেন্দ্রভূমি নাচোলের হাজারো কৃষক।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

আষাঢ়ের শেষে কাঙ্খিত বৃষ্টি না থাকলেও থেমে নেই নাচোলের কৃষকদের কর্মযজ্ঞঃ

Update Time : ১০:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

 

  1. মোঃ হেলাল উদ্দীন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় আষাঢ় মাসের শেষ সময়েও পর্যাপ্ত বৃষ্টির দেখা নেই। তীব্র অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে কৃষকরা রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরি এবং মাটিতে হাল চাষ করতে পারছে না। পানি সংকটে মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের এই উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা।

বৃষ্টির পানি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক গভীর নলকূপ ও পুকুরের পানির উপর নির্ভর করছেন, যা আমন চাষের উৎপাদন খরচ বহুগুণে বাড়িয়ে দিবে।

বর্ষার পানিতে যেখানে চাষাবাদের খরচ কম হয়, সেখানে সেচের পানি ব্যবহার করায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহু গুণে বেড়ে যাচ্ছে।

প্রকৃতির বৈরী আচরণ ও অনাবৃষ্টির কারণে চাষাবাদ কিছুটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়লেও কৃষকদের অদম্য প্রচেষ্টায় ফসল ফলানোর এই কাজ এক মুহূর্তের জন্যও থেমে নেই।
বৃষ্টির অপেক্ষায় না থেকে বরেন্দ্র এই অঞ্চলে গভীর-অগভীর নলকূপ ও সেচ পাম্পের সাহায্যে সময় মতো জমি প্রস্তুত ও চারা রোপন করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কৃষকরা।

এলাইপুর গ্রামের কৃষক মোঃ আলমগির রহমান বলেন,
বৃষ্টির জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ কপালে উঠে যাচ্ছে। আষাঢ় মাস শেষ হয়ে গেল অথচ মাঠে কাদা করার মত এক ফোঁটা পানি নেই। তাই বাধ্য হয়ে সেচ পাম্পের মাধ্যমে জমি চাষাবাদ করার চেষ্টা করছি।

স্থানীয় কৃষকদের এই সংকটের সময় প্রয়োজনীয় সেচ সুবিধা নিশ্চিত না করা গেলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলেও কৃষকদের হতাশা হওয়ার কারণ নেই। খরিফ-২ মৌসুমে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে উন্নত জাতের ধান বীজ ও রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির উপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ফিতা পাইপ এর মাধ্যমে সম্পূরক সেচ দিয়ে বীজতলা সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নাচোল উপজেলায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। সেই আশাতেই এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছেন বরেন্দ্রভূমি নাচোলের হাজারো কৃষক।