০৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত 

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৮৩ Time View

 

 

মাহাবুর রহমান, কেশবপুর (যশোর):

 

জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনায় যশোরের কেশবপুরে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বাদ যোহর কেশবপুর উপজেলার পাবলিক মাঠে বিপ্লবী ছাত্র-জনতার উদ্যোগে এ গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

গায়েবানা জানাজায় দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

জানাজা নামাজ পরিচালনা করেন হাবিবুল্লাহ বিলালি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর-০৬ কেশবপুর আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, কেশবপুর উপজেলা আমির), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুস সামাদ, কেশবপুর উপজেলা কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ওয়াজিউর রহমান, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন, সদর ইউনিয়ন বিএনপির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলা,জাতীয়তাবাদী বিএনপির সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল হালিম অটল।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জুলাই যোদ্ধা মো. সম্রাট হোসেন, জুলাই যোদ্ধা মো. মিরাজ বিশ্বাস,জুলাই যোদ্ধা তাহমিদ আহসান,জুলাই যোদ্ধা ইমরান হোসাইন, যোদ্ধা আনোয়ার হোসেন,জুলাই যোদ্ধা ইমন হোসেন,জুলাই যোদ্ধা জাহিদ হোসেন, জুলাই যোদ্ধা সাজিদ,জুলাই যোদ্ধা আরাফাত হোসেনসহ বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

জানাজা শেষে বক্তারা বলেন, ওসমান হাদীকে হত্যার মাধ্যমে একটি প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জনগণ কখনোই বরদাশত করবে না। দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারীদের অন্যতম ছিলেন শহীদ ওসমান হাদী। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। জানাজা থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে; অন্যথায় জনগণের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ওসমান হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কেশবপুরে জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত 

Update Time : ১২:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

 

 

মাহাবুর রহমান, কেশবপুর (যশোর):

 

জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনায় যশোরের কেশবপুরে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বাদ যোহর কেশবপুর উপজেলার পাবলিক মাঠে বিপ্লবী ছাত্র-জনতার উদ্যোগে এ গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

গায়েবানা জানাজায় দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

জানাজা নামাজ পরিচালনা করেন হাবিবুল্লাহ বিলালি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর-০৬ কেশবপুর আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, কেশবপুর উপজেলা আমির), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুস সামাদ, কেশবপুর উপজেলা কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ওয়াজিউর রহমান, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন, সদর ইউনিয়ন বিএনপির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলা,জাতীয়তাবাদী বিএনপির সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল হালিম অটল।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জুলাই যোদ্ধা মো. সম্রাট হোসেন, জুলাই যোদ্ধা মো. মিরাজ বিশ্বাস,জুলাই যোদ্ধা তাহমিদ আহসান,জুলাই যোদ্ধা ইমরান হোসাইন, যোদ্ধা আনোয়ার হোসেন,জুলাই যোদ্ধা ইমন হোসেন,জুলাই যোদ্ধা জাহিদ হোসেন, জুলাই যোদ্ধা সাজিদ,জুলাই যোদ্ধা আরাফাত হোসেনসহ বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

জানাজা শেষে বক্তারা বলেন, ওসমান হাদীকে হত্যার মাধ্যমে একটি প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জনগণ কখনোই বরদাশত করবে না। দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারীদের অন্যতম ছিলেন শহীদ ওসমান হাদী। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। জানাজা থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে; অন্যথায় জনগণের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ওসমান হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।