০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে সাবেক এসপি আনিস ও টিএসআই রফিকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা

Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১১৯ Time View

 

উৎপল ঘোষ,ক্রাইম রিপোর্টার :

যশোরের সাইদুর রহমান ও শাওনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে তৎকালীন এসপি আনিস ও টিএসআই রফিকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। রোববার ভাইপো সাইদের পিতা খোকন কাজী ওরফে কাজী তৌহিদুর রহমান খোকন এ মামলা করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রহমত আলী অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন কোতয়ালি থানার ওসিকে।

মামলার অপর আসামি হলো, যশোরের তৎকালিন টিএসআই রফিকুল ইসলাম রফিক, যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা, পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমারখালী গ্রামের মৃত শ্যাম হাওলাদারের ছেলে ফুলু মিয়া, মৃত হাকিম শেখের দুই ছেলে রমিজ ও নাসির, মৃত আব্দুল হাই শেখের ছেলে সাইফুল ইসলাম, মৃত আব্দুল জব্বার শেখের ছেলে হারুন অর রশিদ, মৃত সেলিম শেখের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর তালুকদারের ছেলে আল আমিন।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, সাইদুর রহমান ওরফে ভাইপো সাইদ লেখাপড়া করতো। তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলো। সে কারণে তার প্রতি তৎকালীন সরকারের দমন-নীপিড়ন আচারণ ছিলো। অন্য আসামিরা পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং পদস্থ ছিলো। ৪ থেকে ১০ নম্বর আসামিরা সাইদদের পিরোজপুরের কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি জবর-দখল করে নেয়। লোকমারফত বিষয়টি জানতে পেরে খোকন কাজী তার ছেলে সাইদকে ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল পিরোজপুরের গ্রামের বাড়িতে পাঠায়। সেখানে গিয়ে খোকন কাজীর সম্পত্তি জবর-দখলের ব্যাপারে আসামিদের সাথে কথা বলে। এতে তারা ক্ষীপ্ত হয়ে ছেলেকে খুন-জখমের হুমকি দেয়। বিষয়টি সাইদ তার মাকে জানায়।

 

একই বছরের ৫ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে বন্ধু শাওনকে সাথে নিয়ে সাইদ যশোর পৌরপার্কে ঘুরতে গিয়েছিল। এসময় তৎকালিন যশোরের এসপি আনিসুর রহমানের নির্দেশে টিএসআই রফিকসহ অন্য সকল আসামি পৌরপার্ক থেকে সাইদ ও শাওনকে তুলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে কিছুক্ষণ পরে কোতোয়ালি থানায় গেলে তৎকালিন ওসি জানিয়েছিলেন, টিএসআই রফিক ওই দুইজনকে এখনও থানায় সোপর্দ না করে সদর ফাঁড়িতে নিয়ে গেছে। এরপর তৎকালিন এসপির নির্দেশে টিএসআই রফিক ও কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফার মাধ্যমে আটক সাইদ ও শাওনকে আদালতে সোপর্দের কথা বলে ১০ লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে তাদের আদালতে সোপর্দ না করায় খোকন কাজীর স্ত্রী তৎকালিন এসপি আনিসুর রহমানের কাছে যান। এসময় ওই দুইজনকে সামনে পেলে গুলি করে হত্যা করবে বলে হুকুম দিয়েছিলেন এসপি আনিসুর রহমান। একই সাথে সাইদের মাকে এলোপাতাড়ি ভাবে মারপিট করে গুরুতর আহত করা হয়।

এ ঘটনার পর সাইদের মা বাদী হয়ে টিএসআই রফিক, গোলাম মোস্তফা এবং আল আমিনের নামে আদালতে মামলা করেন। মামলা করায় সাইদের মাকে শাহীন চাকলাদারের বাড়িতে আটকে রেখে মারপিট ও পরে এসপি অফিসে ডেকে নিয়ে বৈদ্যুতিক শট দিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়। আহত অবস্থায় কিছুদিন পর সাইদের মা মারা যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে পরিবেশ অনুকূলে আসায় আদালতে এ মামলা করেছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

যশোরে সাবেক এসপি আনিস ও টিএসআই রফিকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা

Update Time : ০১:০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

 

উৎপল ঘোষ,ক্রাইম রিপোর্টার :

যশোরের সাইদুর রহমান ও শাওনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে তৎকালীন এসপি আনিস ও টিএসআই রফিকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। রোববার ভাইপো সাইদের পিতা খোকন কাজী ওরফে কাজী তৌহিদুর রহমান খোকন এ মামলা করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রহমত আলী অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন কোতয়ালি থানার ওসিকে।

মামলার অপর আসামি হলো, যশোরের তৎকালিন টিএসআই রফিকুল ইসলাম রফিক, যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা, পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমারখালী গ্রামের মৃত শ্যাম হাওলাদারের ছেলে ফুলু মিয়া, মৃত হাকিম শেখের দুই ছেলে রমিজ ও নাসির, মৃত আব্দুল হাই শেখের ছেলে সাইফুল ইসলাম, মৃত আব্দুল জব্বার শেখের ছেলে হারুন অর রশিদ, মৃত সেলিম শেখের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর তালুকদারের ছেলে আল আমিন।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, সাইদুর রহমান ওরফে ভাইপো সাইদ লেখাপড়া করতো। তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলো। সে কারণে তার প্রতি তৎকালীন সরকারের দমন-নীপিড়ন আচারণ ছিলো। অন্য আসামিরা পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং পদস্থ ছিলো। ৪ থেকে ১০ নম্বর আসামিরা সাইদদের পিরোজপুরের কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি জবর-দখল করে নেয়। লোকমারফত বিষয়টি জানতে পেরে খোকন কাজী তার ছেলে সাইদকে ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল পিরোজপুরের গ্রামের বাড়িতে পাঠায়। সেখানে গিয়ে খোকন কাজীর সম্পত্তি জবর-দখলের ব্যাপারে আসামিদের সাথে কথা বলে। এতে তারা ক্ষীপ্ত হয়ে ছেলেকে খুন-জখমের হুমকি দেয়। বিষয়টি সাইদ তার মাকে জানায়।

 

একই বছরের ৫ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে বন্ধু শাওনকে সাথে নিয়ে সাইদ যশোর পৌরপার্কে ঘুরতে গিয়েছিল। এসময় তৎকালিন যশোরের এসপি আনিসুর রহমানের নির্দেশে টিএসআই রফিকসহ অন্য সকল আসামি পৌরপার্ক থেকে সাইদ ও শাওনকে তুলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে কিছুক্ষণ পরে কোতোয়ালি থানায় গেলে তৎকালিন ওসি জানিয়েছিলেন, টিএসআই রফিক ওই দুইজনকে এখনও থানায় সোপর্দ না করে সদর ফাঁড়িতে নিয়ে গেছে। এরপর তৎকালিন এসপির নির্দেশে টিএসআই রফিক ও কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফার মাধ্যমে আটক সাইদ ও শাওনকে আদালতে সোপর্দের কথা বলে ১০ লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে তাদের আদালতে সোপর্দ না করায় খোকন কাজীর স্ত্রী তৎকালিন এসপি আনিসুর রহমানের কাছে যান। এসময় ওই দুইজনকে সামনে পেলে গুলি করে হত্যা করবে বলে হুকুম দিয়েছিলেন এসপি আনিসুর রহমান। একই সাথে সাইদের মাকে এলোপাতাড়ি ভাবে মারপিট করে গুরুতর আহত করা হয়।

এ ঘটনার পর সাইদের মা বাদী হয়ে টিএসআই রফিক, গোলাম মোস্তফা এবং আল আমিনের নামে আদালতে মামলা করেন। মামলা করায় সাইদের মাকে শাহীন চাকলাদারের বাড়িতে আটকে রেখে মারপিট ও পরে এসপি অফিসে ডেকে নিয়ে বৈদ্যুতিক শট দিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়। আহত অবস্থায় কিছুদিন পর সাইদের মা মারা যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে পরিবেশ অনুকূলে আসায় আদালতে এ মামলা করেছেন।