১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্ভাব্য পাচার রুটে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন

মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা:
  • Update Time : ১২:৩৮:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • / ১৭ Time View

সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার ও অপব্যবহার প্রতিরোধে সতর্কতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন, স্থলবন্দর এবং সম্ভাব্য পাচার রুটে বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে পাচার প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

শনিবার (৭ মার্চ) সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব দেশের অভ্যন্তরেও পড়তে পারে। তাই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও জানান, অনেক সময় বিদেশি কার্গো যানবাহন কম জ্বালানি নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে স্থানীয়ভাবে ট্যাংক পূর্ণ করে আবার সীমান্ত অতিক্রম করে। আবার বাংলাদেশি কার্গো যানবাহন প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করে। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে বিজিবি বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এ লক্ষ্যে সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের বিক্রি ও বিপণন কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় কঠোর নজরদারি ও বিশেষ তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য পাচার রুটগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিদ্যমান চেকপোস্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং মোবাইল টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ ছাড়া সীমান্ত এলাকার জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে বিভিন্ন মতবিনিময় সভা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে সবাই মিলে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত সুরক্ষিত থাকলে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের উপঅধিনায়ক সাদমান সাদিক, উপসহকারী পরিচালক মাসুম বেগসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সম্ভাব্য পাচার রুটে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন

Update Time : ১২:৩৮:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার ও অপব্যবহার প্রতিরোধে সতর্কতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন, স্থলবন্দর এবং সম্ভাব্য পাচার রুটে বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে পাচার প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

শনিবার (৭ মার্চ) সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব দেশের অভ্যন্তরেও পড়তে পারে। তাই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও জানান, অনেক সময় বিদেশি কার্গো যানবাহন কম জ্বালানি নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে স্থানীয়ভাবে ট্যাংক পূর্ণ করে আবার সীমান্ত অতিক্রম করে। আবার বাংলাদেশি কার্গো যানবাহন প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করে। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে বিজিবি বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এ লক্ষ্যে সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের বিক্রি ও বিপণন কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় কঠোর নজরদারি ও বিশেষ তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য পাচার রুটগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিদ্যমান চেকপোস্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং মোবাইল টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ ছাড়া সীমান্ত এলাকার জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে বিভিন্ন মতবিনিময় সভা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে সবাই মিলে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত সুরক্ষিত থাকলে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের উপঅধিনায়ক সাদমান সাদিক, উপসহকারী পরিচালক মাসুম বেগসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।