সুন্দরবনে দস্যুতা ও বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর
- Update Time : ১২:০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
- / ১০ Time View

মো: রাজু আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার)
সুন্দরবনের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। বন ও বনাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না উল্লেখ করে তিনি দস্যুতা এবং নদী-খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
২৫ জুলাই শনিবার সকালে মোংলা উপজেলা মিলনায়তনে ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য সুন্দরবন ও উপকূলীয় জীবিকার সুরক্ষা’ শীর্ষক এক দিনব্যাপী সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), ব্রাইটার্স, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, সচেতন ফাউন্ডেশন এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, সম্প্রতি নজরদারির কিছুটা ঘাটতি থাকার সুযোগে বনাঞ্চলে জলদস্যুদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সুন্দরবনে স্থায়িত্ব ও শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকার ইতোমধ্যে জোরালো অভিযান ও পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। দস্যুতা ছেড়ে অপরাধীদের ভালো পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এবার আর দস্যুদের জন্য কোনো নতুন পুনর্বাসন সুবিধার সুযোগ থাকবে না; বরং স্বাভাবিক জীবনে না ফিরলে তাদের কঠিন আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
উপকূলীয় এলাকার একটি স্বার্থান্বেষী মহল দ্বারা সুন্দরবনের অপপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিষ ঢেলে মাছ শিকারীদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে বনের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ ও প্রকৃত জেলেদের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, জীবনজীবিকা নির্বাহের জন্য ইতোমধ্যে ৮ হাজার ২৭১টি নিবন্ধিত জেলে পরিবারের মধ্যে ৬৬১ টন চাল বিতরণ ও বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের সমন্বয়কারী মোঃ নূর আলম শেখের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা প্রদান করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, স্থানীয় সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং মোংলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী। বক্তারা সবাই সুন্দরবনের ঐতিহ্য ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের টেকসই জীবনযাত্রা রক্ষায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।























