ঝিনাইদহে গত ৫ মাসে খুনের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৩।
- Update Time : ১২:৩৪:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
- / ১৯৮ Time View

লিখনী ডেক্স:
ঝিনাইদহে গত ৫ মাসে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুনোখুনির ঘটনা বেড়েছে । সম্প্রতি ঝিনাইদহ জেলার ছয় উপজেলায়
বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। সব গুলো প্রায় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যা
করা হয়েছে । সন্ত্রাসীদের বিরোধেও হয়েছে হত্যা পড়েছে লাশ । আবার স্বজনের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে আপনজনের
হাত, বন্ধুর হাতে বন্ধু ও পরকীয়া প্রেমিকের হাতেও ঘটছে হত্যা কান্ড অহরহ। বেড়েছে
রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা সেই সঙ্গে পারিবারিক কলহ-বিরোধের জেরে ঘটছে
একের পর এক হত্যাকান্ড। এতে করে জনজিবনে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে অধিক।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন,বিচারহীনতার কারণে হত্যাকান্ডের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধ
বেড়েছে সাথে নেই আইনের কঠোর প্রয়োগ শাস্তি না থাকায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।একের পর এক তুচ্ছ
ঘটনায় যাচ্ছে মানুষের তাজা প্রাণ । এ জন্য সামাজিক অবক্ষয়কে দায়ী করছেন তারা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, পারিবারিক ও সামাজিক
বিরোধসহ নানা রকম অস্থিরতার কারণে সম্প্রতি হত্যার ঘটনা বেড়েছ। তবে প্রশাসন
হত্যাকান্ডের জড়িতদের গ্রেপ্তার ও রহস্য উদঘাটনেও কাজ করছে সফল ভাবে,
জানা গেছে,গত ৩০ মে বিকেলে জেলা শহরের ব্যাপারীপাড়া এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা
দেওয়ার একপর্যায়ে বাক-বিতন্ডাতা হয়ে জীবন হোসেন নামের এক যুবকের, সে সময়
প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় ওই যুবককে। গত ২৮ মে কালীগঞ্জের মালিয়াট
গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে নায়েব আলী মোল্লা নামের এক কৃষককে
পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত ২১ মে শৈলকুপার ত্রিবেণী গ্রামে স্বামীকে নতুন কাপড়
কিনে দেওয়ার অনুরোধ করেন গৃহবধূ পিংকী রানী দাস, এতে স্বামী সুমন কুমার ক্ষুব্ধ
হয়ে স্ত্রী পিংকীকে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে স্বামীর মারধরের শিকার হয়ে মারা যায়
পিংকী রানী। ১ মে সদর উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামে বিএনপি কর্মী মোশারফ
হোসেকে তাঁর বাড়িতে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত
হয় নাহিদ হোসেন নামের এক যুবক। ৩ মে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল সদর উপজেলার বাদপুকুর
এলাকায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মোহম্মদ আলী নামের এক মুদি দোকানিকে
পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত ৭ মার্চ কোটচাঁদপুরের ভোমরাডাঙ্গা গ্রামে সাত বছর
বয়সী শিশু মাহমুদাকে জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ায় সৎমা হুমাইরা খাতুন। এর
তিনদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মাহমুদা। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে
শৈলকুপার রামচন্দ্রপুর এলাকায় নিজেদের আধিপত্য জানান দিতে এক চরমপন্থী নেতাসহ
তিনজনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ঝিনাইদহের
ছয় উপজেলাতে ২৩ ব্যক্তি হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে শৈলকুপা থানায় ৬ জন,
সদরে ৫ জন, কালীগঞ্জে ৩ জন,হরিণাকুন্ডুতে ২ জন, কোটচাঁদপুরে ৩ জন ও মহেশপুরে ৪
জনকে হত্যা করা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা কমিটির সভাপতি মানবাধিকার কর্মী
আমিনুর রহমান টুকু বলেন, ‘হঠাৎ করেই ৫ আগষ্টের পরে ঝিনাইদহ সহ সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ফলে তুচ্ছ ঘটনায় খুনোখুনি পর্যন্ত ঘটছে।
প্রশাসন কঠোর না হলে এসব ঘটনা থামবে না। এজন্য প্রশাসনের মেরুদন্ড আরো শক্ত
করতে হবে। নইলে একর পর এক এ ঘটনা ঘটেই যাবে।’
অপরাধ বিশ্লেষক মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘বিচারহীনতার কারণে এসব ঘটনা বেড়েই
চলেছে। সেই সঙ্গে পারবিারকি সর্ম্পক দূর্বল হওয়া, নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক
মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ও আত্মকেন্দ্রিক মানসকিতার কারণে মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে
পড়ছে। ফলে একে অপরকে খুন করতে দ্বিধাবোধ করছে না।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘সামাজিক ও
পারিবারিক বিরোধেরে জেরে সম্প্রতি কয়েকটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ
প্রতিটি হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন,‘শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হলেই এসব অপরাধ দমন করা
সম্ভব হবে না। এ জন্য সমাজের সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে
হবে।
এবিষয়ে ঝিনাইদহের সচেতন মহলের দাবি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
আরো বেশি শক্ত হাতে পরিচালনা করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন।
























