১২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুমকিতে উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে বৃদ্ধার ২দশকেও জোটেনি বিধবা ভাতা: প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে দ্বারেদ্বারে

মোঃ আরিফুর রহমান (মামুন)
  • Update Time : ১২:০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / ১১ Time View

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নে অসহায়ত্বের এক চরম দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন আছিয়া বেগম। স্বামী মারা যাওয়ার প্রায় দুই দশক পার হতে চললেও আজও তার ভাগ্যে জোটেনি একটি বিধবা ভাতার কার্ড। বর্তমানে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে জীবন পার করছেন এই বৃদ্ধা।

দক্ষিণ পাঙ্গাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা আছিয়া বেগম জানান, ২০০৭ সালে তার স্বামী আবদুল মজিদ হাওলাদার মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই তিনি চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তার ওপর রয়েছে একজন প্রতিবন্ধী ছেলের ভরণপোষণের দায়িত্ব। অভাবের তাড়নায় শেষ বয়সে এসে তাকে বেছে নিতে হয়েছে ভিক্ষাবৃত্তি। আছিয়া বেগমের অভিযোগ, বিধবা ভাতার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বছরের পর বছর ঘুরেও কোনো সুরাহা পাননি তিনি।

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে বিত্তবান বা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের স্বজনরা নানা সুযোগ-সুবিধা পায়, সেখানে আছিয়া বেগমের মতো একজন প্রকৃত দুস্থ নারী কেন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত? স্থানীয়দের প্রশ্ন, তিনি ভিক্ষা করেন বলেই কি তাকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে, নাকি কার্ড পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে পারছেন না বলে তার নাম তালিকায় উঠছে না?
এ বিষয়ে পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম গাজীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, উনি কি আবেদন করেছেন? যদিও ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, কার্ড করে দেওয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যান ইতিপূর্বে একাধিকবার অঙ্গীকার করলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। বারবার যোগাযোগ করার পরও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা  অলিউল ইসলাম বলেন সংশ্লিষ্ট  ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভাতা প্রাপ্তির তালিকা প্রেরন করা হয়, আমাদের কাছে পাংগাশিয়া ইউনিয়ন থেকে প্রাপ্ত তালিকায় আছিয়া বেগম নামে কোন নাম পাই নাই। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাম পাঠালে আমরা ব্যবস্থা নিবো।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

দুমকিতে উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে বৃদ্ধার ২দশকেও জোটেনি বিধবা ভাতা: প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে দ্বারেদ্বারে

Update Time : ১২:০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নে অসহায়ত্বের এক চরম দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন আছিয়া বেগম। স্বামী মারা যাওয়ার প্রায় দুই দশক পার হতে চললেও আজও তার ভাগ্যে জোটেনি একটি বিধবা ভাতার কার্ড। বর্তমানে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে জীবন পার করছেন এই বৃদ্ধা।

দক্ষিণ পাঙ্গাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা আছিয়া বেগম জানান, ২০০৭ সালে তার স্বামী আবদুল মজিদ হাওলাদার মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই তিনি চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তার ওপর রয়েছে একজন প্রতিবন্ধী ছেলের ভরণপোষণের দায়িত্ব। অভাবের তাড়নায় শেষ বয়সে এসে তাকে বেছে নিতে হয়েছে ভিক্ষাবৃত্তি। আছিয়া বেগমের অভিযোগ, বিধবা ভাতার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বছরের পর বছর ঘুরেও কোনো সুরাহা পাননি তিনি।

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে বিত্তবান বা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের স্বজনরা নানা সুযোগ-সুবিধা পায়, সেখানে আছিয়া বেগমের মতো একজন প্রকৃত দুস্থ নারী কেন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত? স্থানীয়দের প্রশ্ন, তিনি ভিক্ষা করেন বলেই কি তাকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে, নাকি কার্ড পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে পারছেন না বলে তার নাম তালিকায় উঠছে না?
এ বিষয়ে পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম গাজীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, উনি কি আবেদন করেছেন? যদিও ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, কার্ড করে দেওয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যান ইতিপূর্বে একাধিকবার অঙ্গীকার করলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। বারবার যোগাযোগ করার পরও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা  অলিউল ইসলাম বলেন সংশ্লিষ্ট  ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভাতা প্রাপ্তির তালিকা প্রেরন করা হয়, আমাদের কাছে পাংগাশিয়া ইউনিয়ন থেকে প্রাপ্ত তালিকায় আছিয়া বেগম নামে কোন নাম পাই নাই। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাম পাঠালে আমরা ব্যবস্থা নিবো।