১২:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে পুঁতে রাখা ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৭৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার,

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১০ Time View

 

মোঃ আছাদুল হক, (কয়রা প্রতিনিধি):

সুন্দরবনে জলদস্যু ‘আলিফ বাহিনী’র সদস্যদের আত্মসমর্পণের পর বনের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭৪ রাউন্ড গুলি, ২৩টি খালি কার্তুজ, সাতটি ওয়াকিটকি সেট ও ছয়টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। তিন থেকে চার মাস আগে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) খুলনায় এসআরবি-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীটির উপ-অধিনায়ক মেজর মো. নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মুখে সুন্দরবনের গভীরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ায় জলদস্যুরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে আত্মসমর্পণকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বনের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলো উদ্ধার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২ মার্চ থেকে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। কোস্ট গার্ড, এসআরবি, স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগ সমন্বিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ অক্টোবর সুন্দরবনে অভিযান চালানো হয়। পরে ৯ অক্টোবর আড় পাঙ্গাসিয়া নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে আলিফ বাহিনীর দুই গ্রুপের ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

মেজর নাজমুল ইসলাম বলেন, আত্মসমর্পণের সময় তাঁদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বনের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। এ কাজে দুই দিন সময় লাগে।

আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের অনেকেই নিজেদের বিরুদ্ধে কোন কোন থানায় মামলা রয়েছে, তা জানতেন না। তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায়।

আত্মসমর্পণকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জলদস্যুদের অস্ত্র সরবরাহ, চাঁদা আদায় এবং জেলেদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। সাতক্ষীরা, কয়রা, দাকোপ ও পটুয়াখালী এলাকার অস্ত্র সরবরাহকারীদের পরিচয়, যোগাযোগের নম্বর এবং অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থ লেনদেনের পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সুন্দরবনের অন্য জলদস্যুদেরও অপরাধ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান মেজর নাজমুল ইসলাম। একই সঙ্গে অপরাধ অব্যাহত রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট বাহিনীর আশা, জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধারের এ ঘটনা সুন্দরবনের বনজীবীদের নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সুন্দরবনে পুঁতে রাখা ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৭৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার,

Update Time : ১১:৫৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

 

মোঃ আছাদুল হক, (কয়রা প্রতিনিধি):

সুন্দরবনে জলদস্যু ‘আলিফ বাহিনী’র সদস্যদের আত্মসমর্পণের পর বনের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭৪ রাউন্ড গুলি, ২৩টি খালি কার্তুজ, সাতটি ওয়াকিটকি সেট ও ছয়টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। তিন থেকে চার মাস আগে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) খুলনায় এসআরবি-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীটির উপ-অধিনায়ক মেজর মো. নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মুখে সুন্দরবনের গভীরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ায় জলদস্যুরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে আত্মসমর্পণকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বনের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলো উদ্ধার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২ মার্চ থেকে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। কোস্ট গার্ড, এসআরবি, স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগ সমন্বিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ অক্টোবর সুন্দরবনে অভিযান চালানো হয়। পরে ৯ অক্টোবর আড় পাঙ্গাসিয়া নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে আলিফ বাহিনীর দুই গ্রুপের ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

মেজর নাজমুল ইসলাম বলেন, আত্মসমর্পণের সময় তাঁদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বনের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। এ কাজে দুই দিন সময় লাগে।

আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের অনেকেই নিজেদের বিরুদ্ধে কোন কোন থানায় মামলা রয়েছে, তা জানতেন না। তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায়।

আত্মসমর্পণকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জলদস্যুদের অস্ত্র সরবরাহ, চাঁদা আদায় এবং জেলেদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। সাতক্ষীরা, কয়রা, দাকোপ ও পটুয়াখালী এলাকার অস্ত্র সরবরাহকারীদের পরিচয়, যোগাযোগের নম্বর এবং অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থ লেনদেনের পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সুন্দরবনের অন্য জলদস্যুদেরও অপরাধ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান মেজর নাজমুল ইসলাম। একই সঙ্গে অপরাধ অব্যাহত রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট বাহিনীর আশা, জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধারের এ ঘটনা সুন্দরবনের বনজীবীদের নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।