সাতক্ষীরার কুখরালী মোড়ে রাতভর মাদক-জুয়ার আসর, আতঙ্কে এলাকাবাসী
- Update Time : ১২:৫৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
- / ১৪৫ Time View

মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কুখরালী আমতলা মোড় এলাকাটি এখন আর আগের মতো নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নয়। সন্ধ্যা নামলেই এ এলাকায় নেমে আসে অন্য এক ‘অন্ধকার রাত’। মাদকসেবন, অনলাইন জুয়া, অশ্লীলতা আর অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে মোড় সংলগ্ন একাধিক চায়ের দোকান। আর এই ভয়ংকর চিত্রের সামনে দাঁড়িয়ে প্রশাসন যেন নির্বিকার দর্শক।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন রাতভর চায়ের দোকানে বসে চলে মাদকসেবন ও অনলাইন জুয়ার আসর। ধোঁয়ার কুন্ডলি, উচ্চস্বরে বাজানো হিন্দি গান, অশ্লীল কথাবার্তা আর হাসাহাসিতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে আশেপাশের বাসিন্দারা। আতঙ্কে অনেকেই সন্ধ্যার পর বাইরে বের হন না। বিশেষ করে নারীরা এবং স্কুল-কলেজপড়ুয়া মেয়েরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
একজন নারী অভিযোগ করেন, “আমার কলেজপড়ুয়া মেয়েকে একদিন কয়েকজন যুবক ‘বেবি বেবি’ বলে ডাকছিল। এরপর থেকে সন্ধ্যার পর মেয়েকে আর বাইরে যেতে দেই না।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমতলা মোড়ে চায়ের দোকানে উঠতি বয়সী ছেলেরা বসে অনলাইন জুয়া খেলে, মাদক সেবন করে। এতে যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। অথচ কেউ কিছু বলতেও সাহস করে না।”
একজন মুদি দোকানদার জানান, “চায়ের দোকানের পাশেই আমার দোকান। আমি রাত ১০টার পর দোকান বন্ধ করে দেই, কারণ ওরা এমন বাজে ভাষায় গালিগালাজ করে যে মনে হয় কেউ কিছু বললে তাকে মেরে ফেলবে।”
স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “যারা আগে রাজনৈতিক দলের ছায়ায় থেকে এলাকায় দাপট চালাত, তারাই এখন মাদক ও জুয়ার পেছনে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, “রাতভর চলা এসব অপরাধের আসরে এলাকার তরুণরা আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে সামাজিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। মা-বোনেরা রাতে রাস্তায় বের হতেও ভয় পান। প্রশাসনের নীরবতা আমাদের হতাশ করেছে।”
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শামিনুল হক বলেন, “আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগ করেও কার্যকর ব্যবস্থা পান না তারা। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসীর আহ্বান—মাদক, জুয়া ও অশ্লীলতার এই চক্রকে এখনই থামাতে হবে। প্রশাসন ও সমাজ একসাথে এগিয়ে না এলে কুখরালী হয়ে উঠতে পারে সাতক্ষীরার একটি নতুন অপরাধ জোন।
























