উজিরপুরে ইনকিলাব পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশে জনতার ঢল সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি, সময়মতো জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে উত্তাল স্লোগান
- Update Time : ০৯:৩০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৩৯ Time View

সহ নির্বাহী সম্পাদক নিজস্ব প্রতিবেদন :
বরিশালের উজিরপুর। শান্ত-স্নিগ্ধ এক উপজেলা। কিন্তু শান্ত এই জনপদ গতকাল শুক্রবার বিকেলে পরিণত হয়েছিল রাজনৈতিক উত্তাপে ভরপুর এক সমাবেশস্থলে। উপজেলা পরিষদ চত্বরজুড়ে তখন সমবেত হয় শতাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। একদিকে মঞ্চে বক্তাদের জোরালো কণ্ঠ, অন্যদিকে জনতার প্রতিধ্বনি—সব মিলিয়ে গোটা পরিবেশ যেন এক অন্যরকম আবহ তৈরি করেছিল।
বাংলাদেশ ইনকিলাব পার্টি (দক্ষিণাঞ্চল) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশের মূল দাবি ছিল স্পষ্ট—সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলটির সমন্বয় সদস্য মো. আকবর হোসেন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মো. সাইদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ ইনকিলাব পার্টির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আহমেদ শাকিল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বাংলাদেশকে অন্ধকারের গহ্বরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাস, মাদক আর চাঁদাবাজির দাপটে সাধারণ মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। জনগণ এখন পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের একমাত্র উপায় হলো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন।”
প্রধান বক্তা সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক ড. শামসুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের বিকল্প নেই। কিন্তু এখানে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।”
এছাড়া বক্তব্য রাখেন শোলক ইউনিয়ন যুবদলের নেতা মেজর টিপু, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান লিখনসহ স্থানীয় নেতারা। তাদের বক্তব্যেও উঠে আসে একটাই সুর—দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে হলে মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের শেকড় থেকে উৎখাত করতে হবে।
সমাবেশে উপস্থিত শতাধিক নেতাকর্মীর মুখে স্লোগান ছিল, “সন্ত্রাস-মাদক দমনে চাই অবিলম্বে ব্যবস্থা” এবং “সময়ের মধ্যে নির্বাচন চাই”। তাদের দাবির প্রতি সাধারণ মানুষেরও প্রবল সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশ শেষে স্থানীয়রা মন্তব্য করেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিটি আজ কেবল কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং সমগ্র জনগণের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ইনকিলাব পার্টি তুলনামূলকভাবে ছোট একটি রাজনৈতিক দল হলেও দক্ষিণাঞ্চলে তাদের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করছে। বিশেষ করে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়ে তারা সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই আন্দোলন ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উপসংহারে বক্তারা কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন না হয়, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সারাদেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণের ভোটাধিকার ছাড়া দেশে কোনো গণতন্ত্র টিকবে না, আর গণতন্ত্রের অভাব মানেই হবে আরও অস্থিরতা ও অরাজকতা।”
সেদিনের সমাবেশ শেষে সূর্য যখন পশ্চিমে হেলে পড়েছে, তখনও জনতার কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল একই দাবি—“আমরা চাই সন্ত্রাসমুক্ত দেশ, আমরা চাই নিরপেক্ষ নির্বাচন।”















