০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় মারাত্মক ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যসেবা, ওমর ফারুকের মৃত্যুতে প্রকাশ পেলো ডেঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থার নির্মম বাস্তবতা

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৮ Time View

 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবার ভঙ্গুর ও অকার্যকর চিত্র আবারও সামনে এলো এক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায়। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, হোটেল সানডে ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং দৈনিক ফলাফল পত্রিকার খুলনা বিভাগীয় প্রধান মোস্তফা এ করিমের ছোট শ্যালক মো. ওমর ফারুক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি মরহুম জয়নাল আবেদীনের ছোট ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রথমে তাঁকে খুলনার সার্জিক্যাল মোড়স্থ গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসার অচল অবস্থার কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় পরবর্তীতে তাঁকে সন্ধানী ক্লিনিকে নেওয়া হয়।তবে স্বজনদের দাবি, সেখানেও চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর ও অকার্যকর। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনার চিকিৎসা ব্যবস্থার এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার আশায় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দ্রুত তাঁকে রাজধানীর ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।ওমর ফারুকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; এটি খুলনার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে গভীর উদ্বেগেরও প্রতীক।ডেঙ্গুর মতো সময়-সংবেদনশীল রোগে আক্রান্ত একজন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করতে হওয়া এবং এর আগে একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের অসন্তোষ—এসব ঘটনা নগরীর স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয়, নিবিড় পর্যবেক্ষণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং জরুরি সেবার কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, খুলনায় সেই কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মৃত্যুকালে মো. ওমর ফারুক তাঁর স্ত্রী, সন্তান, বয়োবৃদ্ধ মা এবং তিন বোন—ফরিদা খাতুন, লাইজু ও সাবরিনাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ রবিবার বাদ এশা নূরনগর পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে, যেন মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

খুলনায় মারাত্মক ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যসেবা, ওমর ফারুকের মৃত্যুতে প্রকাশ পেলো ডেঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থার নির্মম বাস্তবতা

Update Time : ০৩:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবার ভঙ্গুর ও অকার্যকর চিত্র আবারও সামনে এলো এক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায়। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, হোটেল সানডে ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং দৈনিক ফলাফল পত্রিকার খুলনা বিভাগীয় প্রধান মোস্তফা এ করিমের ছোট শ্যালক মো. ওমর ফারুক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি মরহুম জয়নাল আবেদীনের ছোট ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রথমে তাঁকে খুলনার সার্জিক্যাল মোড়স্থ গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসার অচল অবস্থার কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় পরবর্তীতে তাঁকে সন্ধানী ক্লিনিকে নেওয়া হয়।তবে স্বজনদের দাবি, সেখানেও চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর ও অকার্যকর। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনার চিকিৎসা ব্যবস্থার এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার আশায় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দ্রুত তাঁকে রাজধানীর ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।ওমর ফারুকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; এটি খুলনার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে গভীর উদ্বেগেরও প্রতীক।ডেঙ্গুর মতো সময়-সংবেদনশীল রোগে আক্রান্ত একজন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করতে হওয়া এবং এর আগে একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের অসন্তোষ—এসব ঘটনা নগরীর স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয়, নিবিড় পর্যবেক্ষণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং জরুরি সেবার কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, খুলনায় সেই কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মৃত্যুকালে মো. ওমর ফারুক তাঁর স্ত্রী, সন্তান, বয়োবৃদ্ধ মা এবং তিন বোন—ফরিদা খাতুন, লাইজু ও সাবরিনাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ রবিবার বাদ এশা নূরনগর পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে, যেন মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।