০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে র‍্যাবের বড় সাফল্য ০৪ বাহিনীর ৫২ জন সদস্য আত্মসমর্পণ র্পণ

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৩:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৮ Time View

৪ বাহিনীর ৫২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ, বনজীবীদের মাঝে স্বস্তি

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে র‍্যাবের ধারাবাহিক অভিযান ও কৌশলগত সাফল্যের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় ৪টি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ জন সদস্য অস্ত্রসহ র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

সোমবার র‍্যাব-৬ এর সদর দপ্তর, খুলনায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয় সুন্দরবন বাংলাদেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ হাজার হাজার মানুষ সরাসরি এই বনের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, অস্ত্রের মহড়া ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বনজীবী ও স্থানীয়দের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে পূর্বেও সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজনের পুনরায় অপরাধে জড়ানোর তথ্য পাওয়া যায়। একইসাথে জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ, মুক্তিপণ দাবির ঘটনাও বাড়তে থাকে।

এ প্রেক্ষাপটে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাব-৬ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করে।
র‍্যাব-৬ এর টানা নজরদারি, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখে সুন্দরবনে সক্রিয় ৪টি জলদস্যু বাহিনীর মোট ৫২ জন সদস্য র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

বাহিনীভিত্তিক আত্মসমর্পণকারীর তালিকা:
১)বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী – ১৬ জন
২) আনারুল বাহিনী* – ১৩ জন
৩) আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনী – ১৫ জন
৪)আফতাব বাহিনী – ০৮ জন
একযোগে চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ জন সদস্যের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। র‍্যাবের মতে, এর ফলে সংশ্লিষ্ট দস্যু বাহিনীগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অপরাধমূলক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।এর ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে বনজীবীদের নিরাপত্তা: জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালরা নিরাপদে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে। অবৈধভাবে কাঠ ও বনজ সম্পদ আহরণ, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার কমবে। সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।
র‍্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।পর্যটকদের জন্য সুন্দরবন খুলছে
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল।

তিন মাসের এ নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে প্রযোজ্য বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন পুনরায় পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার ঠিক আগের দিন দস্যুদের এই গণ-আত্মসমর্পণ বনজীবীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

র‍্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপতৎপরতা থেকে মুক্ত রাখতে এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাবের অভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনজীবীদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা এবং দেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে র‍্যাব সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সুন্দরবনে র‍্যাবের বড় সাফল্য ০৪ বাহিনীর ৫২ জন সদস্য আত্মসমর্পণ র্পণ

Update Time : ১২:৫৩:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৪ বাহিনীর ৫২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ, বনজীবীদের মাঝে স্বস্তি

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে র‍্যাবের ধারাবাহিক অভিযান ও কৌশলগত সাফল্যের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় ৪টি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ জন সদস্য অস্ত্রসহ র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

সোমবার র‍্যাব-৬ এর সদর দপ্তর, খুলনায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয় সুন্দরবন বাংলাদেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ হাজার হাজার মানুষ সরাসরি এই বনের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, অস্ত্রের মহড়া ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বনজীবী ও স্থানীয়দের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে পূর্বেও সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজনের পুনরায় অপরাধে জড়ানোর তথ্য পাওয়া যায়। একইসাথে জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ, মুক্তিপণ দাবির ঘটনাও বাড়তে থাকে।

এ প্রেক্ষাপটে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাব-৬ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করে।
র‍্যাব-৬ এর টানা নজরদারি, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখে সুন্দরবনে সক্রিয় ৪টি জলদস্যু বাহিনীর মোট ৫২ জন সদস্য র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

বাহিনীভিত্তিক আত্মসমর্পণকারীর তালিকা:
১)বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী – ১৬ জন
২) আনারুল বাহিনী* – ১৩ জন
৩) আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনী – ১৫ জন
৪)আফতাব বাহিনী – ০৮ জন
একযোগে চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ জন সদস্যের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। র‍্যাবের মতে, এর ফলে সংশ্লিষ্ট দস্যু বাহিনীগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অপরাধমূলক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।এর ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে বনজীবীদের নিরাপত্তা: জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালরা নিরাপদে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে। অবৈধভাবে কাঠ ও বনজ সম্পদ আহরণ, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার কমবে। সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।
র‍্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।পর্যটকদের জন্য সুন্দরবন খুলছে
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল।

তিন মাসের এ নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে প্রযোজ্য বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন পুনরায় পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার ঠিক আগের দিন দস্যুদের এই গণ-আত্মসমর্পণ বনজীবীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

র‍্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপতৎপরতা থেকে মুক্ত রাখতে এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাবের অভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনজীবীদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা এবং দেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে র‍্যাব সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।