আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৫: যুক্তি আর চিন্তার রণক্ষেত্রে সোহরাওয়ার্দী কলেজ
- Update Time : ১২:১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
- / ২৬৪ Time View

রুমা আক্তার ; প্রতিনিধি, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ
আজ মঙ্গলবার (২৯ ই জুলাই) ডিবেটিং ক্লাবের ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে আয়োজিত হয়ে গেলো এক ব্যতিক্রমধর্মী ও প্রাণবন্ত আয়োজন— আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৫। যুক্তি ও বক্তৃতার মঞ্চে মুখোমুখি হয়েছিল কলেজের বিভিন্ন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
এবারের প্রতিযোগিতার বিতর্ক বিষয় ছিল— “এই সংসদ মনে করে যে, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আর জনসেবার মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিস্বার্থের হাতিয়ার।” বিষয়টি যেমন সময়োপযোগী, তেমনই ছিল বিতার্কিকদের যুক্তিপূর্ণ উপস্থাপনা। কথার ধার, যুক্তির জোর আর আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় শ্রোতা-দর্শক সবাই ছিল বিমুগ্ধ। চূড়ান্ত পর্বে জোরালো যুক্তির ভিত্তিতে সরকার পক্ষ দল বিজয়ী হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকুলি মুখোপাধ্যায়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াহইয়া এবং ডিবেটিং ক্লাবের চিফ মডারেটর অধ্যাপক নাসিমা আক্তার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, যিনি বিচারকের মূল্যায়নেও সক্রিয় ছিলেন।
বিচারকের আসনে ছিলেন দেশের তিনটি খ্যাতনামা কলেজের বিতার্কিক নেতৃত্ব: মো. শাহাদাত হোসেন, সভাপতি, ঢাকা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব। হাবিবুল্লাহ রনি, সভাপতি, তিতুমীর কলেজ ডিবেটিং ক্লাব। আজম খান, সভাপতি, কবি নজরুল কলেজ ডিবেটিং ক্লাব
সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও অফিসার্স কাউন্সিলের সম্পাদক ড. মোছা: আছমা আক্তার বেলী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—রবিউল ইসলাম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদল। ইয়াসিন মোল্লা, সভাপতি, সাংবাদিক সমিতি। মোহাম্মদ নূর নবী, সভাপতি, ছাত্র শিবির
উপাধ্যক্ষ ড. ফরিদা ইয়াসমিন বলেন:“এমন সৃজনশীল আয়োজনে অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা গড়ে তুলছে। শুধু পাঠ্যপুস্তক নয়, বিতর্কের মতো চিন্তামূলক চর্চাও তাদের একজন গঠনমূল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।”
অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম মন্তব্য করেন: “বিতর্ক মানেই ইতিবাচক মানসিকতা দিয়ে চিন্তাকে প্রসারিত করা। আমি চাই আমাদের কলেজ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন অনুষ্ঠান আয়োজন করুক।”
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতাটি শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং সাহসিক মতপ্রকাশে উৎসাহিত করেছে। এবারের বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রমাণ করেছে— যুক্তি দিয়ে গড়া এক নতুন প্রজন্মই গড়ে তুলবে একটি সচেতন, প্রশ্নমুখর, এবং জবাবদিহিমূলক সমাজ।























