০১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়া-৪ আসন : বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে চার নেতার সমীকরণ

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৩৩২ Time View

 

নিজস্ব প্রতিনিধি :

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনটি বর্তমানে অন্যতম আলোচিত আসন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে। একদিকে জামায়াত প্রার্থী আফজাল হোসাইন ইতোমধ্যেই একক প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে ঝড় তুলেছেন, অন্যদিকে বিএনপির চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী আছেন—সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, তরুণ কৃষকনেতা হাফেজ মোঃ মঈন উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক পৌর মেয়র আনসার প্রামাণিক, এবং কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক শেখ সাদী।

 

সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী : প্রবীণ রাজনীতির স্থিতিশীল ভরসা, দীর্ঘদিনের রাজনীতিক, সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তার রয়েছে একটি সুদৃঢ় ভোট ব্যাংক। বয়স ও অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি একজন “স্থির” ও “পরীক্ষিত” নেতা হিসেবে পরিচিত। ভোটারদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে কাজ করছে বলেও এলাকায় আলোচনা শোনা যাচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রবীণ কর্মীদের আনুগত্য তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।

 

হাফেজ মোঃ মঈন উদ্দিন : তরুণদের উদ্দীপনায় ‘নতুন বিপ্লবের’ সম্ভাবনা অন্যদিকে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হাফেজ মোঃ মঈন উদ্দিনকে ঘিরে তরুণদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সদকী ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্ম নেওয়া এই তরুণ নেতা কয়েক হাজার কর্মীর মটরসাইকেল বহর নিয়ে শোডাউন করে ভোটের মাঠে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি তরুণ প্রজন্মের কাছে নতুন রাজনীতির প্রতীক হয়ে উঠছে। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়, তিনি সামাজিক ও পরিবেশগত আন্দোলনকেও রাজনীতির অংশ করে তুলেছেন। কুমারখালী ও খোকসার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন—এই দুই উপজেলায় মোট দুই লাখ বৃক্ষরোপণ করবেন (খোকসায় এক লাখ, কুমারখালীতে এক লাখ)। তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ার এক প্রতিশ্রুতিশীল উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার গণসংযোগের ধরণও ভিন্নধর্মী—বাজার, হাট, গ্রামীণ জনপদ কিংবা তরুণদের আড্ডাখানায় গিয়ে তিনি সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, শুনছেন তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা। বিশেষ করে কৃষক, যুবক এবং প্রথমবারের ভোটারদের কাছে তিনি “উদ্যমী, স্বপ্নবাজ ও সময়োপযোগী রাজনীতিক” হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কুষ্টিয়া-৪ আসনে যদি তরুণ ভোটাররা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নকেন্দ্রিক রাজনীতিকে গুরুত্ব দেয়, তবে হাফেজ মোঃ মঈন উদ্দিনকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ থাকবে না। তিনি এখন অনেকের কাছেই “বুলেটের নয়, ব্যালট ও সবুজের বাংলাদেশ” গড়ার প্রতীক হয়ে উঠছেন।

 

মুক্তিযোদ্ধা আনসার প্রামাণিক : অভিজ্ঞতা ও কুমারখালী কেন্দ্রিক প্রভাব, চারবার কুমারখালী পৌরসভার মেয়র থাকা এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মানজনক অবস্থান আনসার প্রামাণিককে ভিন্ন উচ্চতায় রেখেছে। কুমারখালীতে তার ব্যক্তিগত প্রভাব ও নেটওয়ার্ক এখনো শক্তিশালী। তবে খোকসা উপজেলায় তার দুর্বলতা স্পষ্ট। স্থানভেদে ভোটারদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন ভিন্ন। দলীয় ভেতরে প্রবীণ নেতৃত্বের অংশ হিসেবে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একজন প্রতিদ্বন্দ্বী।

 

শেখ সাদী : বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক হিসেবে আছে অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী স্থপতি শেখ সাদী। তিনি বিএনপির হাইকমান্ডের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। গ্রামীণ ভোটারদের কাছে শক্তভাবে জায়গা করে নিতে কাজ করে চলেছে। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা এবং কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থাে রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের তার প্রভাবই তাকে মনোনয়ন এনে দেবে।

 

বিএনপি বিভক্ত, জামায়াত এগিয়ে?

কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপির এই চারজন নেতার মধ্যে কে দলীয় মনোনয়ন পাবেন তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর। তবে একাধিক গ্রুপিং ও কোন্দল বিএনপিকে জটিল অবস্থায় ফেলছে। অনেক ভোটারই আশঙ্কা করছেন, বিএনপি ঐক্যবদ্ধ না হলে জামায়াতের প্রার্থী আফজাল হোসাইন সহজেই বিজয়ী হতে পারেন।

 

তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি বিএনপি হাইকমান্ড সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং বিভক্ত নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়, তাহলে এই আসনে ধানের শীষ ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কুষ্টিয়া-৪ আসন : বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে চার নেতার সমীকরণ

Update Time : ০৬:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

 

নিজস্ব প্রতিনিধি :

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনটি বর্তমানে অন্যতম আলোচিত আসন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে। একদিকে জামায়াত প্রার্থী আফজাল হোসাইন ইতোমধ্যেই একক প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে ঝড় তুলেছেন, অন্যদিকে বিএনপির চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী আছেন—সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, তরুণ কৃষকনেতা হাফেজ মোঃ মঈন উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক পৌর মেয়র আনসার প্রামাণিক, এবং কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক শেখ সাদী।

 

সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী : প্রবীণ রাজনীতির স্থিতিশীল ভরসা, দীর্ঘদিনের রাজনীতিক, সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তার রয়েছে একটি সুদৃঢ় ভোট ব্যাংক। বয়স ও অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি একজন “স্থির” ও “পরীক্ষিত” নেতা হিসেবে পরিচিত। ভোটারদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে কাজ করছে বলেও এলাকায় আলোচনা শোনা যাচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রবীণ কর্মীদের আনুগত্য তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।

 

হাফেজ মোঃ মঈন উদ্দিন : তরুণদের উদ্দীপনায় ‘নতুন বিপ্লবের’ সম্ভাবনা অন্যদিকে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হাফেজ মোঃ মঈন উদ্দিনকে ঘিরে তরুণদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সদকী ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্ম নেওয়া এই তরুণ নেতা কয়েক হাজার কর্মীর মটরসাইকেল বহর নিয়ে শোডাউন করে ভোটের মাঠে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি তরুণ প্রজন্মের কাছে নতুন রাজনীতির প্রতীক হয়ে উঠছে। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়, তিনি সামাজিক ও পরিবেশগত আন্দোলনকেও রাজনীতির অংশ করে তুলেছেন। কুমারখালী ও খোকসার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন—এই দুই উপজেলায় মোট দুই লাখ বৃক্ষরোপণ করবেন (খোকসায় এক লাখ, কুমারখালীতে এক লাখ)। তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ার এক প্রতিশ্রুতিশীল উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার গণসংযোগের ধরণও ভিন্নধর্মী—বাজার, হাট, গ্রামীণ জনপদ কিংবা তরুণদের আড্ডাখানায় গিয়ে তিনি সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, শুনছেন তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা। বিশেষ করে কৃষক, যুবক এবং প্রথমবারের ভোটারদের কাছে তিনি “উদ্যমী, স্বপ্নবাজ ও সময়োপযোগী রাজনীতিক” হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কুষ্টিয়া-৪ আসনে যদি তরুণ ভোটাররা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নকেন্দ্রিক রাজনীতিকে গুরুত্ব দেয়, তবে হাফেজ মোঃ মঈন উদ্দিনকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ থাকবে না। তিনি এখন অনেকের কাছেই “বুলেটের নয়, ব্যালট ও সবুজের বাংলাদেশ” গড়ার প্রতীক হয়ে উঠছেন।

 

মুক্তিযোদ্ধা আনসার প্রামাণিক : অভিজ্ঞতা ও কুমারখালী কেন্দ্রিক প্রভাব, চারবার কুমারখালী পৌরসভার মেয়র থাকা এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মানজনক অবস্থান আনসার প্রামাণিককে ভিন্ন উচ্চতায় রেখেছে। কুমারখালীতে তার ব্যক্তিগত প্রভাব ও নেটওয়ার্ক এখনো শক্তিশালী। তবে খোকসা উপজেলায় তার দুর্বলতা স্পষ্ট। স্থানভেদে ভোটারদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন ভিন্ন। দলীয় ভেতরে প্রবীণ নেতৃত্বের অংশ হিসেবে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একজন প্রতিদ্বন্দ্বী।

 

শেখ সাদী : বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক হিসেবে আছে অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী স্থপতি শেখ সাদী। তিনি বিএনপির হাইকমান্ডের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। গ্রামীণ ভোটারদের কাছে শক্তভাবে জায়গা করে নিতে কাজ করে চলেছে। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা এবং কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থাে রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের তার প্রভাবই তাকে মনোনয়ন এনে দেবে।

 

বিএনপি বিভক্ত, জামায়াত এগিয়ে?

কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপির এই চারজন নেতার মধ্যে কে দলীয় মনোনয়ন পাবেন তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর। তবে একাধিক গ্রুপিং ও কোন্দল বিএনপিকে জটিল অবস্থায় ফেলছে। অনেক ভোটারই আশঙ্কা করছেন, বিএনপি ঐক্যবদ্ধ না হলে জামায়াতের প্রার্থী আফজাল হোসাইন সহজেই বিজয়ী হতে পারেন।

 

তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি বিএনপি হাইকমান্ড সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং বিভক্ত নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়, তাহলে এই আসনে ধানের শীষ ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।