মোংলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব নদী দিবস পালিত: নদীতে ফুল ছিটিয়ে শিশুদের ভালোবাসার বার্তা
- Update Time : ০৫:১৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১১ Time View

নদী রক্ষা ও জেলেদের জীবন সুরক্ষার দাবি নিয়ে নানা বৈচিত্র্যময় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মোংলায় পালিত হয়েছে বিশ্ব নদী দিবস। ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সকালে মোংলার নারিকেলতলা নদীপাড় এলাকায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, উত্তরণ এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ বছরের নদী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—”বন বাঁচলে নদী বাঁচবে, নদী বাঁচলে পানি বাঁচবে, পানি বাঁচলে জীবন বাঁচবে”।
দিনের শুরুতেই নদী ও জেলেদের সুরক্ষায় মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন আয়োজকরা। পরবর্তীতে নারিকেলতলায় ”নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই” শীর্ষক আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘ধরা’-র কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই, গরম পানি ও কয়লা দূষণ সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদীসহ আশেপাশের নদ-নদীর জলজ জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। নদী-প্রকৃতি, পানি ও জমির উর্বরতা রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অনতিবিলম্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উত্তরণের ফিসনেট প্রকল্পের অ্যাডভোকেসি অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান, পরিবেশকর্মী রাফিয়া জাহান মিশু, জেলে সমিতি নেতা বিদ্যুৎ মন্ডল, আব্দুর রশিদ হাওলাদার, উত্তরণের মনিটরিং অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোংলা এরিয়া ম্যানেজার মোঃ মোখলেছুর রহমান, পরিবেশযোদ্ধা মেহেদী হাসান এবং ‘ইয়ুথ ফর সুন্দরবন’-এর সোহেল রানা ও মোহাম্মদ শাহীন খলিফা।
বক্তারা আদালতের রায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন যে নদী একটি ‘জীবন্ত সত্তা’। তাই নদী দখল ও শিল্প দূষণ অনতিবিলম্বে বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য বিকল্প জীবিকায়নের ব্যবস্থার ওপর জোর দেন বক্তারা।
আনুষ্ঠানিক সভা শেষে নদীতে রঙিন কাগজের নৌকা ভাসিয়ে ও ভালোবাসার ফুল ছিটিয়ে নদীর প্রতি অনন্য ভালোবাসা প্রকাশ করে শিশুরা। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে নদীতে গণগোসল, সাঁতার ও ঐতিহ্যবাহী হাঁস ধরা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিবসের আয়োজন শেষ হয়।






















