১২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে এসআরবি-৬ এর সাফল্য: আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ

মোঃ রানা আহমেদ
  • Update Time : ১২:২০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১০ Time View

 

সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বড় সাফল্য পেয়েছে এসআরবি-৬। বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির মুখে সুন্দরবনে সক্রিয় জলদস্যু বাহিনী ‘আলিফ বাহিনী’র ১৫ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) তারা এসআরবি-৬ এর সদর দপ্তর, খুলনায় আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আলিফ বাহিনীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের ৮ জন এবং মজিদ গ্রুপের ৭ জন সদস্য রয়েছে।

এসআরবি-৬ এর মিডিয়া সেল জানায়, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের উপর নির্ভর করে হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তাদের জীবন ও জীবিকার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগে অতীতে অনেক জলদস্যু আত্মসমর্পণ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা ও পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কতিপয় দস্যুর পুনরায় অপরাধে জড়ানোর তথ্য পাওয়া যায়।

এই প্রেক্ষাপটে এসআরবি-৬ সুন্দরবনে গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করে। বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা এবং বনের প্রতিকূল পরিবেশ ও অপরাধ জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে দস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

এসআরবি-৬ মনে করে, আলিফ বাহিনীর ১৫ সদস্যের এই আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।

আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে এসআরবি-৬ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সুন্দরবনে এসআরবি-৬ এর সাফল্য: আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ

Update Time : ১২:২০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

 

সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বড় সাফল্য পেয়েছে এসআরবি-৬। বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির মুখে সুন্দরবনে সক্রিয় জলদস্যু বাহিনী ‘আলিফ বাহিনী’র ১৫ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) তারা এসআরবি-৬ এর সদর দপ্তর, খুলনায় আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আলিফ বাহিনীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের ৮ জন এবং মজিদ গ্রুপের ৭ জন সদস্য রয়েছে।

এসআরবি-৬ এর মিডিয়া সেল জানায়, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের উপর নির্ভর করে হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তাদের জীবন ও জীবিকার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগে অতীতে অনেক জলদস্যু আত্মসমর্পণ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা ও পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কতিপয় দস্যুর পুনরায় অপরাধে জড়ানোর তথ্য পাওয়া যায়।

এই প্রেক্ষাপটে এসআরবি-৬ সুন্দরবনে গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করে। বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা এবং বনের প্রতিকূল পরিবেশ ও অপরাধ জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে দস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

এসআরবি-৬ মনে করে, আলিফ বাহিনীর ১৫ সদস্যের এই আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।

আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে এসআরবি-৬ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে।