০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি নিষেধাজ্ঞায় কক্সবাজার সদর চৌফলদন্ডী জেলেদের বেহাল দশা

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৭ Time View

 

মোবারক হোসাইন, কক্সবাজার

ভরা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় এমনিতেই ঋণ-দেনার চাপে বিপর্যস্ত কক্সবাজার সদর চৌফলদন্ডীর জেলেরা। শেষ সময়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় ছিলেন তারা। কিন্তু সেই আশাতেও বাধা হয়ে এসেছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞার আগে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ শিকারের সুযোগও পাচ্ছেন না জেলেরা। ফলে একদিকে ইলিশ না পাওয়ার হতাশা, অন্যদিকে ঋণ-দেনার বোঝা আর নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালানোর দুশ্চিন্তায় দিশেহারা চৌফলদন্ডী প্রায় ২ হাজারও অধিক জেলে। সরেজমিনে দেখা যায় জুন মাস থেকে ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হলেও জেলেদের জালে মিলেনি কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশের। ফলে ধার-দেনা ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শেষ সময়ের কাঙ্ক্ষিত ইলিশ শিকার করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা জেলেদের। কিন্তু সফল হচ্ছে না তারা।৮ অক্টোর থেকে ২৯ অক্টোর পর্যন্ত শুরু হয়েছে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। তাই আগে ভাগেই অনেক জেলেরা তাদের জাল, নৌকা, ট্রলারসহ মাছ ধরার উপরকরণ নিয়ে তীরে ফিরে এসে জাল মেরামত করছেন। তাদের চোখে মুখে এখন দুশ্চিন্তার ভাজ। তাদের দাবি, সরকারিভাবে নিবন্ধিত সব জেলের ভাগ্যে জুটে না সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চাল। ২২ দিনের জন্য জেলেদের থেকে কিস্তি আদায় বন্ধ রাখারও ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জানান জেলেরা। জেলেরা বর্তমান সরকার এই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে । এছাড়াও চলতি বছর নিষেধাজ্ঞা শতভাগ পালনের জন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে আমরা অভিযান কঠোর করবো। এতে আগামীকে দেশের ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং ভরা মৌসুমে জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ শিকার করতে পারবে। কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে করিম মাঝি জানান, ভরা মৌসুমে তারা জেলেরা বুক ভরা আশা নিয়ে দল বেঁধে নদীতে গিয়েছেন। কিন্তু আশা পূরণ হয়নি। জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত নদীতে গিয়ে আশানুরূপ ইলিশ পাননি। সামনে ৯-১০ অক্টোবর ইলিশের জো। সেই জোতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরার আশঙ্কা আছে। আমরা জেলেরা ভাবছি ওই সময় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ শিকার করে সব ধার-দেনা পরিশোধ করে ঘুরে দাঁড়াত পারবো। কিন্তু তার মধ্যে আবার সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে ৮ অক্টোবর থেকে। ফলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা এখন আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ বছর আমাদের জেলেদের জন্য খুবই খারাপ সময় গেছে। ধার-দেনা আর পরিশোধ করতে পারবো না। নিষেধাজ্ঞার পরে নতুন করে জাল কিনবো বা পুরোনো জাল ও নৌকা, ট্রলার মেরামত করবো সেই টাকা কোথায় পাবো। আগের ধার-দেনা পরিশোধ করতে পারিনি, নতুন কর আবার কেউ টাকা ধারও দেবে না।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সরকারি নিষেধাজ্ঞায় কক্সবাজার সদর চৌফলদন্ডী জেলেদের বেহাল দশা

Update Time : ০১:৪০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

 

মোবারক হোসাইন, কক্সবাজার

ভরা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় এমনিতেই ঋণ-দেনার চাপে বিপর্যস্ত কক্সবাজার সদর চৌফলদন্ডীর জেলেরা। শেষ সময়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় ছিলেন তারা। কিন্তু সেই আশাতেও বাধা হয়ে এসেছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞার আগে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ শিকারের সুযোগও পাচ্ছেন না জেলেরা। ফলে একদিকে ইলিশ না পাওয়ার হতাশা, অন্যদিকে ঋণ-দেনার বোঝা আর নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালানোর দুশ্চিন্তায় দিশেহারা চৌফলদন্ডী প্রায় ২ হাজারও অধিক জেলে। সরেজমিনে দেখা যায় জুন মাস থেকে ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হলেও জেলেদের জালে মিলেনি কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশের। ফলে ধার-দেনা ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শেষ সময়ের কাঙ্ক্ষিত ইলিশ শিকার করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা জেলেদের। কিন্তু সফল হচ্ছে না তারা।৮ অক্টোর থেকে ২৯ অক্টোর পর্যন্ত শুরু হয়েছে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। তাই আগে ভাগেই অনেক জেলেরা তাদের জাল, নৌকা, ট্রলারসহ মাছ ধরার উপরকরণ নিয়ে তীরে ফিরে এসে জাল মেরামত করছেন। তাদের চোখে মুখে এখন দুশ্চিন্তার ভাজ। তাদের দাবি, সরকারিভাবে নিবন্ধিত সব জেলের ভাগ্যে জুটে না সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চাল। ২২ দিনের জন্য জেলেদের থেকে কিস্তি আদায় বন্ধ রাখারও ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জানান জেলেরা। জেলেরা বর্তমান সরকার এই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে । এছাড়াও চলতি বছর নিষেধাজ্ঞা শতভাগ পালনের জন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে আমরা অভিযান কঠোর করবো। এতে আগামীকে দেশের ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং ভরা মৌসুমে জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ শিকার করতে পারবে। কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে করিম মাঝি জানান, ভরা মৌসুমে তারা জেলেরা বুক ভরা আশা নিয়ে দল বেঁধে নদীতে গিয়েছেন। কিন্তু আশা পূরণ হয়নি। জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত নদীতে গিয়ে আশানুরূপ ইলিশ পাননি। সামনে ৯-১০ অক্টোবর ইলিশের জো। সেই জোতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরার আশঙ্কা আছে। আমরা জেলেরা ভাবছি ওই সময় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ শিকার করে সব ধার-দেনা পরিশোধ করে ঘুরে দাঁড়াত পারবো। কিন্তু তার মধ্যে আবার সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে ৮ অক্টোবর থেকে। ফলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা এখন আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ বছর আমাদের জেলেদের জন্য খুবই খারাপ সময় গেছে। ধার-দেনা আর পরিশোধ করতে পারবো না। নিষেধাজ্ঞার পরে নতুন করে জাল কিনবো বা পুরোনো জাল ও নৌকা, ট্রলার মেরামত করবো সেই টাকা কোথায় পাবো। আগের ধার-দেনা পরিশোধ করতে পারিনি, নতুন কর আবার কেউ টাকা ধারও দেবে না।