অভয়নগরে কয়লা বিক্রয় প্রতারনায় – অর্থ আত্মসাৎ গ্রেপ্তার ০৪
- Update Time : ০৬:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫
- / ১১৩ Time View

মাহেদী উপজেলা প্রতিনিধি :
যশোর ডিবি’র অভিযানে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত নগদ অর্থ উদ্ধার সহ সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের ০৪(চার) সদস্য গ্রেফতার।
অভয়নগর থানাধীন বিভিন্ন কয়লার প্রতিষ্ঠান থেকে কয়লা ক্রয় করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় অজ্ঞাতনামা কয়েক জন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তার সাথে কয়লা দেবার কথা বলে কয়েক দিন ধরে যোগাযোগ করতে থাকে। একপর্যায়ে সে এবং তার মালিক সাজু প্রধান ইং ১৯/০৩/২০২৫খ্রিঃ বেলা অনুমান ১২.০০ ঘটিকায় অভয়নগর থানাধীন পাঁচকবর গোল্ডেন-২ স্কেলে আসে এবং আসামিরা তাদের কয়লা দেখায়। পরবর্তীতে সে এবং সাজু প্রধান তাদের সাথে কয়লা ক্রয় করতে সম্মতি জানায়। তখন আসামিরা তাদের সামনে পাঁচটি ট্রাকে ক্রয়কৃত মোট ১১৯টন কয়লা( যার মূল্য ২০,১১,১০০/- টাকা) লোড করে এবং তাদের নিকট টাকা চাইলে বাদী পাঁচ লক্ষ টাকা নগদ প্রদান করে আর বাকি টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধের কথা বলে। পরবর্তীতে বাদী আসামিদের দেওয়া আরো দুটি ব্যাংক একাউন্টে মোট পনের লক্ষ এগারো হাজার একশত টাকা(১৫,১১,১০০/-) প্রেরণ করে। এর কয়েক দিন পর উক্ত প্রতিষ্ঠান কয়লার ট্রাক না পৌঁছালে বাদী আসামিদের দেওয়া মোবাইলে যোগাযোগ করলে তাদের ব্যবহৃত সকল নাম্বার বন্ধ দেখায় তখন বাদী বুঝতে পারে তারা কোন প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছে।
মামলার বাদী গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুরের টুলু মিয়া
এজাহার দায়ের করেন তিনি আরএসবি ইট ভাটার ম্যানেজার পদে কর্মরত আছেন। তার প্রতিষ্ঠানের ইট ভাটার জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য কয়লার প্রয়োজন হয়। আর সে জন্য অভয়নগরে কয়লা ক্রয় করতে এসে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে।
যশোর পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দরকার ঘটনার তদন্ত আসামি গ্রেফতার ও অর্থ উদ্ধারে জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি অভিযান পরিচালনা করে ইং-১৮/০৪/২০২৫খ্রিঃ রাত ২৩.০৫ ঘটিকার ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানা এলাকা হতে আসামি
মোঃ কামাল খান(৫৬), পিতা-মৃত আব্দুল মালেক খান, মাতা-মৃত ময়না বেগম, সাং-কৃষ্ণবাটি, ৩নং ওয়ার্ড, থানা-ঝালকাঠি সদর, জেলা-ঝালকাঠি, ও মোঃ নাসির হাওলাদার ওরফে আঃ রহমান হাওলাদার(৬৯), পিং-মৃত লেহাজুউদ্দিন হাওলাদার, মাতা-মৃত ডালিম বেগম, সাং-উত্তর শিয়ালকাঠি, থানা-ভান্ডারিয়া, জেলা-পিরোজপুর, এ/পি সাং-লেম্বুনিয়া (হেমায়েত মেম্বর এর বাড়ীর ভাড়াটিয়া), থানা-রাজাপুর, জেলা-ঝালকাঠি আসামী দুজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে তারা এবং তাদের সহযোগী অন্যান্য আসামিদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করে।আসামীদ্বয়ের স্বীকারোক্তি মোতাবেক তাদের নিকট হতে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ০৮টি ব্ল্যাঙ্ক চেকের পাতা, ০৪টি ডিজিটাল রাবার সীল, ০১টি মোবাইল ফোন ও নগদ আত্মসাৎকৃত এক লক্ষ টাকা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়।পরবর্তীতে আসামিদের তথ্য মতে অদ্য ১৯/০৪/২০২৫ খ্রিঃ ভোর ০৪.২৫ ঘটিকায় খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন রস্তমপুর এলাকায় নিজ নিজ বসত বাড়ি হতে আসামি মোঃ মনিরুল ইসলাম(৩৫), পিং-মোঃ আফসার উদ্দিন, মাতা-মাজিদা বেগম, সাং-রস্তমপুর (পশ্চিমপাড়া), থানা-ডুমুরিয়া, জেলা-খুলনা ও মোঃ আক্তারুজ্জামান(৩৪), পিং-মোঃ জালাল উদ্দিন খা, মাতা-মমতাজ বেগম, সাং-রস্তমপুর (পশ্চিমপাড়া), থানা-ডুমুরিয়া, জেলা-খুলনা কে গ্ৰেফতার করে ডিবি পুলিশ।ধৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে এবং আসামি মনিরুল ইসলামের নিকট মামলার প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ০১টি মোবাইল ফোন ও আত্মসাৎকৃত ১,০০,০০০/- টাকা এবং আসামি মোঃ আক্তারুজ্জামান এর নিকট হতে আত্মসাৎকৃত ২০,০০০/-টাকা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানান আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং এদের মধ্যে গ্রেফতারকৃত আসামি কামাল হোসেন এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বিভিন্ন থানায় ০৩টি প্রতারণা মামলা এবং আসামি নাসির হাওলাদারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বিভিন্ন থানায় ০৬টি প্রতারণা মামলা রয়েছে।


























