১১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে ডিআইজি আপেল মাহমুদের চাঞ্চল্যকর তথ্য

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫
  • / ২১৯ Time View

 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, মো: আবির (কক্সবাজার)

 

কক্সবাজারে সংবাদকর্মী-শিক্ষার্থীসহ ৬ জনকে তুলে নিয়ে মধ্যরাতে অমানবিক নির্যাতন, চাঁদাবাজি-নারী কারবারে সিন্ডিকেট গড়েছেন ডিআইজি আপেল মাহমুদ!

 

বাংলাদেশ পুলিশের উর্দি গায়ে সেঁটে বসা একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কীভাবে রাতের আঁধারে অপহরণ, নির্যাতন, মামলা বাণিজ্য ও পতিতাবৃত্তির নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন—তার জীবন্ত উদাহরণ কক্সবাজারের ডিআইজি আপেল মাহমুদ।

২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর। রাত ৩টা ৪০ মিনিট। কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা গাড়ির মাঠ এলাকার এক সংবাদকর্মীর বাসায় হানা দেয় সাদা পোশাকে একদল ব্যক্তি। পরে জানা যায়, এদের নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। সঙ্গে ছিল সাদা রঙের মাইক্রোবাস । তুলে নেওয়া হয় সংবাদকর্মী  আবির হোসেন , তার ভাই শিহাব উদ্দিন, কলেজ শিক্ষার্থী মোছাদুল ইসলাম সামাদ, ইশান, শিশু মেহেদী হাসান বাবু এবং মো. আবিরকে।

তাদের চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় গোপন কক্ষে। শুরু হয় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। প্রশ্ন একটাই—“আমি যা শিখিয়ে দিবো  তা ক্যামেরার সামনে বলবি এরপর মিথ্যা ডাকাতি মামলায় তাদেরকে চালান করা হয়। ২বছর পর আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পেলেও সেই ক্ষত আজও তাদের শরীর ও মনে রক্তক্ষরণ করে চলেছে।

ডিআইজি আপেল মাহমুদের অপরাধ সাম্রাজ্য

অনুসন্ধান বলছে, কক্সবাজারকে নিজের ব্যক্তিগত ‘অপরাধ ঘাঁটি’ বানিয়েছেন আপেল মাহমুদ। তার নিয়ন্ত্রণে চলছে হোটেল-মোটেল জোনের পতিতা ব্যবসা, মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায়, অবৈধ দখল, হুমকি, গায়েবি মামলা ও পুলিশি ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়।

স্থানীয়রা বলেন, “যেখানে ডিআইজি, সেখানেই ভয়। মিডিয়া বা কেউ মুখ খুললে তাকে ‘ডাকাত’ বানিয়ে জেলে পাঠান এই অপরাধ-ডিআইজি।”

সাব-ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ (বিপিএম বার) ও এসআই শাহিনের নেতৃত্বে তার এই সিন্ডিকেট এমনই ভয়াবহ যে, কক্সবাজারে নিরীহ ছাত্র, সাংবাদিক, এমনকি শিশুরাও নিরাপদ নয়।

রাজনৈতিক ছত্রছায়া, অবাধ দাপট

তথ্য অনুসারে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ছায়া ও রামপুর ওয়ার্ডের বিতর্কিত সাবেক কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে কক্সবাজারে আবারও ফিরে আসেন এই কর্মকর্তা। বান্দরবানে বদলি হয়েও মোটা অঙ্কের ‘লেনদেন’-এর মাধ্যমে পুনরায় কক্সবাজারে নিয়োগ পান।

একজন স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, “এই আপেল মাহমুদই এখন কক্সবাজারের ‘ছায়া গডফাদার’। তার নামে কেউ টু শব্দ করলে পরদিনই তার নামে মাদক বা অস্ত্র মামলার খসড়া তৈরি হয়ে যায়।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনআকুতি: বিচার চাই

নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলো বলেন, “আমাদের ছেলে ডাকাত নয়, সাংবাদিক। কিন্তু সত্য বলায় তার মুখ থামাতে পুলিশ নিজেই সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছে।”

একজন নির্যাতিত কিশোরের মা বলেন, “ওরা পুলিশ না, জানোয়ার। আমার ছেলেটাকে চোখ বেঁধে মারছে, অথচ তার কোনো অপরাধই ছিল না। এখনো রাতে ঘুমাতে পারে না সে।”

প্রশ্ন উঠেছে—এই দেশের পুলিশ মানুষের সেবক, না একদল ক্ষমতালোভী নির্যাতক?

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে একটাই দাবি—ডিআইজি আপেল মাহমুদ ও তার সিন্ডিকেটকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে উদাহরণমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে রাষ্ট্রীয় পোশাকে সন্ত্রাস আর কেউ করতে না পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কক্সবাজারে ডিআইজি আপেল মাহমুদের চাঞ্চল্যকর তথ্য

Update Time : ০৯:০৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, মো: আবির (কক্সবাজার)

 

কক্সবাজারে সংবাদকর্মী-শিক্ষার্থীসহ ৬ জনকে তুলে নিয়ে মধ্যরাতে অমানবিক নির্যাতন, চাঁদাবাজি-নারী কারবারে সিন্ডিকেট গড়েছেন ডিআইজি আপেল মাহমুদ!

 

বাংলাদেশ পুলিশের উর্দি গায়ে সেঁটে বসা একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কীভাবে রাতের আঁধারে অপহরণ, নির্যাতন, মামলা বাণিজ্য ও পতিতাবৃত্তির নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন—তার জীবন্ত উদাহরণ কক্সবাজারের ডিআইজি আপেল মাহমুদ।

২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর। রাত ৩টা ৪০ মিনিট। কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা গাড়ির মাঠ এলাকার এক সংবাদকর্মীর বাসায় হানা দেয় সাদা পোশাকে একদল ব্যক্তি। পরে জানা যায়, এদের নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। সঙ্গে ছিল সাদা রঙের মাইক্রোবাস । তুলে নেওয়া হয় সংবাদকর্মী  আবির হোসেন , তার ভাই শিহাব উদ্দিন, কলেজ শিক্ষার্থী মোছাদুল ইসলাম সামাদ, ইশান, শিশু মেহেদী হাসান বাবু এবং মো. আবিরকে।

তাদের চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় গোপন কক্ষে। শুরু হয় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। প্রশ্ন একটাই—“আমি যা শিখিয়ে দিবো  তা ক্যামেরার সামনে বলবি এরপর মিথ্যা ডাকাতি মামলায় তাদেরকে চালান করা হয়। ২বছর পর আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পেলেও সেই ক্ষত আজও তাদের শরীর ও মনে রক্তক্ষরণ করে চলেছে।

ডিআইজি আপেল মাহমুদের অপরাধ সাম্রাজ্য

অনুসন্ধান বলছে, কক্সবাজারকে নিজের ব্যক্তিগত ‘অপরাধ ঘাঁটি’ বানিয়েছেন আপেল মাহমুদ। তার নিয়ন্ত্রণে চলছে হোটেল-মোটেল জোনের পতিতা ব্যবসা, মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায়, অবৈধ দখল, হুমকি, গায়েবি মামলা ও পুলিশি ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়।

স্থানীয়রা বলেন, “যেখানে ডিআইজি, সেখানেই ভয়। মিডিয়া বা কেউ মুখ খুললে তাকে ‘ডাকাত’ বানিয়ে জেলে পাঠান এই অপরাধ-ডিআইজি।”

সাব-ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ (বিপিএম বার) ও এসআই শাহিনের নেতৃত্বে তার এই সিন্ডিকেট এমনই ভয়াবহ যে, কক্সবাজারে নিরীহ ছাত্র, সাংবাদিক, এমনকি শিশুরাও নিরাপদ নয়।

রাজনৈতিক ছত্রছায়া, অবাধ দাপট

তথ্য অনুসারে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ছায়া ও রামপুর ওয়ার্ডের বিতর্কিত সাবেক কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে কক্সবাজারে আবারও ফিরে আসেন এই কর্মকর্তা। বান্দরবানে বদলি হয়েও মোটা অঙ্কের ‘লেনদেন’-এর মাধ্যমে পুনরায় কক্সবাজারে নিয়োগ পান।

একজন স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, “এই আপেল মাহমুদই এখন কক্সবাজারের ‘ছায়া গডফাদার’। তার নামে কেউ টু শব্দ করলে পরদিনই তার নামে মাদক বা অস্ত্র মামলার খসড়া তৈরি হয়ে যায়।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনআকুতি: বিচার চাই

নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলো বলেন, “আমাদের ছেলে ডাকাত নয়, সাংবাদিক। কিন্তু সত্য বলায় তার মুখ থামাতে পুলিশ নিজেই সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছে।”

একজন নির্যাতিত কিশোরের মা বলেন, “ওরা পুলিশ না, জানোয়ার। আমার ছেলেটাকে চোখ বেঁধে মারছে, অথচ তার কোনো অপরাধই ছিল না। এখনো রাতে ঘুমাতে পারে না সে।”

প্রশ্ন উঠেছে—এই দেশের পুলিশ মানুষের সেবক, না একদল ক্ষমতালোভী নির্যাতক?

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে একটাই দাবি—ডিআইজি আপেল মাহমুদ ও তার সিন্ডিকেটকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে উদাহরণমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে রাষ্ট্রীয় পোশাকে সন্ত্রাস আর কেউ করতে না পারে।