জয়পুরহাটের কালাইয়ে হপকা সুদের জালে আটকা খেটে খাওয়া মানুষ
- Update Time : ১১:২৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
- / ১৫ Time View

সেলিম হোসেন রুবেল,জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাইয়ে শতভাগ সুদের চেয়েও ভয়ঙ্কর এক ‘হপকা সুদের’ বিষাক্ত ছোবল! হাজারে সপ্তাহে ২০০ টাকা, অর্থাৎ মাসে ৫০ শতাংশ সুদ! এই রক্তচোষা মরণফাঁদে পা দিয়ে কালাইয়ের মুলগ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ আজ সর্বস্বান্ত। শুধু সুদই নয়, জমির মূল দলিল আর ব্যাংকের ফাঁকা চেক জিম্মি করে সাধারণ মানুষকে পথের ফকির বানাচ্ছে মুলগ্রাম দক্ষিণপাড়ার আজিজুল ইসলামের ছেলে মুনছুর রহমান, তার স্ত্রী রুমা বেগম এবং মুনছুরের বাবা।
ভুক্তভোগী সাফিয়া আক্তারের গল্পটি শিউরে ওঠার মতো। অভাবের তাড়নায় মাত্র ৩০ হাজার টাকা সুদে নিয়েছিলেন মুনছুরের কাছ থেকে। এক বছরের মাথায় সেই ৩০ হাজার টাকার সুদ দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা! গ্রাম্য সমিতি থেকে ১ লক্ষ টাকা এনে দেওয়ার পরও থামেনি মুনছুরের লোভ। এবার নজর পড়েছে সাফিয়ার ভিটেমাটির ওপর। জিম্মি দলিল দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নিয়ে সাফিয়ার জমি বায়না করে নেওয়ার চেষ্টা চালায় এই দম্পতি।
সাফিয়া বলেন,ওরা আমারে ঠকাইয়া দলিলে সই নিতে চাইছে, আমি জমি বেচি নাই।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, মুনছুর ও তার স্ত্রী রুমার বক্তব্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। মুনছুর দাবি করেন, জমির বন্ধকির ১ লক্ষ টাকা সাফিয়াকে না দিয়ে তৃতীয় পক্ষ রুমিছা নামের এক নারীকে দিয়েছেন। যার সাক্ষী দেন খোদ মুনছুরের চাচি। কিন্তু সত্যতা জানতে রুমিছাকে প্রশ্ন করা হলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।
রুমিছার বলেন আমি সেদিন কালাইতেই যাইনি, টাকা তো দূরের কথা!
এই জালিয়াতিতে নাম এসেছে দলিল লেখক ছানোয়ার রহমানেরও। তিনি প্রথমে সাংবাদিকদের দলিল হস্তান্তরের কথা দিলেও গোপনে তা তুলে দেন অভিযুক্ত মুনছুরের হাতে। পরে সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়ে তা উদ্ধার করতে বাধ্য হন। শুধু সাফিয়া নন, আওড়া গ্রামের হুমায়ুনের চেক জিম্মি করা ছাড়াও ইউসুফ, সাইদুর ও মিজানুরদের জীবনও এই চক্রের কারণে আজ বিষিয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে নাটকীয় মোড় আসে স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে। সেখানে বিএনপি নেতা আব্দুল আলিমের উপস্থিতিতে এক সালিশে উল্টো সাফিয়াকেই আরও ১ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়! নিজের দলিল ফেরত পাওয়ার আশায় অসহায় সাফিয়া দুটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই করতে বাধ্য হন।
বিএনপি নেতা আব্দুল আলিম বলেন,আমরা সমাধান করে দিয়েছি, না মানলে আমাদের দায় নেই
এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিক সেলিম হোসেন রুবেলের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্ত পক্ষ। বাধা দিতে গেলে সাংবাদিক রাশেদ ইসলামের সাথেও শুরু হয় চরম বাক-বিতণ্ডা।
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা বলেন,ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়ার মুটোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অথবা উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২০০ টাকার স্ট্যাম্প জমির দলিল আর ফাঁকা চেকে জিম্মি কালাইয়ের মানুষ এখন দিশেহারা। এখন দেখার বিষয়, অসহায় দিনমজুর পরিবারগুলোর দলিল ও চেক উদ্ধারে এবং এই অবৈধ সুদখোর চক্রের বিরুদ্ধে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং স্থানীয় প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী ভূমিকা নেন।




















