মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে চাঙ্গা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি: দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা
- Update Time : ০৬:৫২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / ২ Time View

মো: রাজু আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার)
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) মোংলা সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে যাচ্ছেন তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের মোংলাসহ সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং প্রশাসনিক তৎপরতা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, বন্দর ব্যবহারকারী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—এই সফরের মাধ্যমে বন্দরের নাব্যতাস সংকট নিরসন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, নতুন জেটি স্থাপন এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়নে মেগা পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সফরটি সম্পূর্ণ সরকারি ও প্রশাসনিক পর্যালোচনার অংশ হিসেবে আয়োজিত হচ্ছে। দলীয় কোনো জনসভা না থাকলেও মোংলা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী মূলত মোংলা বন্দরের বর্তমান সক্ষমতা, জেটি এলাকা এবং চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে মোংলা বন্দর চ্যানেল, হিরণ পয়েন্ট, সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন করবেন। এরপর নলিয়ান হয়ে নৌপথে মোংলা নৌঘাঁটিতে পৌঁছাবেন এবং বিকেলে বন্দরের জেটি ও মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘুরে দেখবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে চীন সরকারের অর্থায়নে মোংলা বন্দরে নতুন আধুনিক জেটি নির্মাণের প্রকল্পটি। ইতিপূর্বে চুক্তিবদ্ধ হওয়া এ মেগা প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন বিষয়ে বিশেষ দিকনির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া, ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে মোংলা নদীর ওপর একটি আধুনিক সেতু নির্মাণ এবং ‘মোংলা-খুলনা মহাসড়ক’ ছয় লেনে উন্নীত করার প্রস্তাবও প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
নাব্যতাস সংকট নিরসন: চ্যানেলে পর্যাপ্ত গভীরতা না থাকায় বড় বিদেশি জাহাজগুলো সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারছে না। স্থায়ী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এটি সমাধানের দাবি সর্বাগ্রে।
অবকাঠামো ও গ্যাস-বিদ্যুৎ: মোংলা ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন: শুধু ভৌত উন্নয়ন নয়, বরং দুর্নীতিমুক্ত ও সহজিকৃত বন্দর পরিচালন ব্যবস্থা (Port Management) গড়ে তোলা।
যোগাযোগের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার: মোংলা বন্দরের পণ্য খালাস ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সহজে পরিবহনে সড়ক ও নবনির্মিত রেলপথের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মোংলা বন্দরকে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং একটি শক্তিশালী ‘পরিপূরক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এই বন্দর গতিশীল হলে ট্রানজিট সুবিধার সুফল পাওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন খাতেরও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এখন পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নজর প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরের দিকে—যা মোংলা বন্দরের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান ঘটিয়ে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।






















