০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোর পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ যশোর অভয়নগরে মাংস ব্যবসার আড়ালে গরু চোরসিন্ডিকেটের হোতা বাবলু শেখ

Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৭ Time View

উৎপল ঘোষ ক্রাইম রিপোর্টার :

যশোর অভয়নগরে মাংস ব্যবসার আড়ালে গরু চোর সিন্ডিকেটের মূল হোতার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। যদিও পুলিশ সন্ধান পাওয়ার আগেই আভাস পেয়ে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে ওই মাংষ ব্যবসায়ী। একটি গরু চুরি মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ যশোর খুলনাসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের গরু চোর চক্রের হোতা হিসেবে ওই মাংস ব্যবসায়ীর তথ্য পাওয়া যা। সেই থেকে পলাতক রয়েছে অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌরসভার তালতলা হাট বাজারের মাংস ব্যবসায়ী বাবলু শেখ। বর্তমানে অভয়নগর থানা পুলিশ মাংস ব্যবসায়ী বাবলু শেখকে খুঁজছে বলে থানা সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে মাংস ব্যবসায়ী বাবলু শেখ পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে তালতলা হাট বাজারে উপজেলার মধ্যে সর্বনিম্ন দামে গরুর মাংস বিক্রি করে আসছিলো। যা নিয়ে অনেকের মাঝেই সন্দেহ ছিলো।
এদিকে পুলিশ গরু চুরির ওই মামলায় খুলনা, নড়াইল ও বাগেরহাটে অভিযান চালিয়ে গত ৭ দিনে চোর চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দুইজন বাবলু শেখকে তাদের চক্রের হোতা হিসেবে পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
এদিকে মাংস ব্যাবসায়ী বাবলু শেখের মাংসের দোকানের কর্মচারী ফারুক সরদারকে আটক ও চালান দেয়া নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছে ফারুক সরদারের পরিবার। ফারুক সরদারের পরিবারের দাবি, ফারুক মাংস ব্যবসায়ী বাবলু শেখের মাংসের দোকানের কর্মচারী। কখনও গরুর ক্রয় বিক্রয়ের মধ্যে সে ছিলোনা। দোকান মালিক বাবলু শেখ নিজেই গরু ক্রয় করতো। ফারুক সরদার মাংসের দোকানে গরু জবাই থেকে মাংস বিক্রি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতো। থানা পুলিশ বাবলু শেখকে না পেয়ে তার কর্মচারী ফারুক সরদারকে গ্রেপ্তার করে। ফারুক সরদারকে নির্দোষ দাবি করে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ফারুক সরদারকে আটকের পর ওই রাতেই তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য থানা থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে ব্যার্থ হয় ফারুক সরদারকে ওই রাতে থানায় মারপিট করে পুলিশ। পরে সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায়।
যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে অভয়নগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামান দাবি করেন, ফারুক সরদার এই গরু চোর চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য বলে তারা তদন্তে তথ্য প্রমাণাদী পেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, চোর চক্রের হোতা বাবলু শেখের ডান হাত হিসেবে চোরাই গরু ক্রয়ে সহযোগিতা করতো ফারুক সরদার। তিনি বলেন, টাকা চাওয়া ও মারপিট করার অভিযোগ একেবারেই অবান্তর।
এদিকে নিজ গ্রামেই গরু চুরির ঘটনায় পলাতক মাংস ব্যবসায়ী বাবলু শেখের মাংসের দোকান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মাঝেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর রবিবার রাতে উপজেলার সিরাজকাঠি—দুর্গাপুর গ্রামে একই রাতে দু’টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। যার মধ্যে একটি এঁড়ে ও একটি বকনা গরু রয়েছে। গরু দুটির বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে গরুর মালিক ওই গ্রামের মোঃ সিরাজউদ্দৌলা ওরফে দোলু মিয়া দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, বকনা গরুটি বাচ্চা প্রসবের সম্ভাবনা ছিল।অপরদিকে বাঘুটিয়া নিমতলা এলাকার প্রদীপ বিশ্বাসের ৩ টি গরু আব্বাস গাজীর একটি ও মিন্টু গাজীর ১।সনজয় এর১টি গরু নড়াইল মাইজপাড়া হাটে পাওয়া যায়। বাকি গরুর কোন খোঁজ মেলেনি।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মাংস ব্যাবসায়ী বাবলু শেখের গোশের দোকান নামে তালতলা হাট এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ গরুর মাংস বিক্রি করে আসছিলো। প্রায়ই পত্রিকা ও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে ৬শ’ সাড়ে ৬শ’ টাকা কেজিতে মাংস বিক্রি করতো বাবলু শেখ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে অনেক আলোচনা সমালোচনা ও সন্দেহ ছিলো। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক এ চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ওসি মোঃ নুরুজ্জামান আটককৃতদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে বলেন, তালতলা হাট বাজারের মাংস ব্যবসায়ী বাবলু শেখ দীর্ঘদিন যাবৎ চোর চক্রের হোতা হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় গরু চোর চক্রের একটি নেকওয়ার্ক সৃষ্টি করেছে। ওই চক্রের মাধ্যমে গরু চুরি করিয়ে সেই গরু কমদামে কিনে নিয়ে তা বিক্রি করে আসছিলো।
তিনি দাবি করেন, বাবলু শেখ যশোর, খুলনাসহ পাশ্ববর্তী অঞ্চলের গরু চোর চক্রের একজন হোতা। আমরা ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে অনেক তথ্য পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি বলা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে বাবলু শেখকে আটকে অভিযান চলছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

যশোর পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ যশোর অভয়নগরে মাংস ব্যবসার আড়ালে গরু চোরসিন্ডিকেটের হোতা বাবলু শেখ

Update Time : ০২:৫১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

উৎপল ঘোষ ক্রাইম রিপোর্টার :

যশোর অভয়নগরে মাংস ব্যবসার আড়ালে গরু চোর সিন্ডিকেটের মূল হোতার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। যদিও পুলিশ সন্ধান পাওয়ার আগেই আভাস পেয়ে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে ওই মাংষ ব্যবসায়ী। একটি গরু চুরি মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ যশোর খুলনাসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের গরু চোর চক্রের হোতা হিসেবে ওই মাংস ব্যবসায়ীর তথ্য পাওয়া যা। সেই থেকে পলাতক রয়েছে অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌরসভার তালতলা হাট বাজারের মাংস ব্যবসায়ী বাবলু শেখ। বর্তমানে অভয়নগর থানা পুলিশ মাংস ব্যবসায়ী বাবলু শেখকে খুঁজছে বলে থানা সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে মাংস ব্যবসায়ী বাবলু শেখ পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে তালতলা হাট বাজারে উপজেলার মধ্যে সর্বনিম্ন দামে গরুর মাংস বিক্রি করে আসছিলো। যা নিয়ে অনেকের মাঝেই সন্দেহ ছিলো।
এদিকে পুলিশ গরু চুরির ওই মামলায় খুলনা, নড়াইল ও বাগেরহাটে অভিযান চালিয়ে গত ৭ দিনে চোর চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দুইজন বাবলু শেখকে তাদের চক্রের হোতা হিসেবে পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
এদিকে মাংস ব্যাবসায়ী বাবলু শেখের মাংসের দোকানের কর্মচারী ফারুক সরদারকে আটক ও চালান দেয়া নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছে ফারুক সরদারের পরিবার। ফারুক সরদারের পরিবারের দাবি, ফারুক মাংস ব্যবসায়ী বাবলু শেখের মাংসের দোকানের কর্মচারী। কখনও গরুর ক্রয় বিক্রয়ের মধ্যে সে ছিলোনা। দোকান মালিক বাবলু শেখ নিজেই গরু ক্রয় করতো। ফারুক সরদার মাংসের দোকানে গরু জবাই থেকে মাংস বিক্রি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতো। থানা পুলিশ বাবলু শেখকে না পেয়ে তার কর্মচারী ফারুক সরদারকে গ্রেপ্তার করে। ফারুক সরদারকে নির্দোষ দাবি করে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ফারুক সরদারকে আটকের পর ওই রাতেই তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য থানা থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে ব্যার্থ হয় ফারুক সরদারকে ওই রাতে থানায় মারপিট করে পুলিশ। পরে সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায়।
যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে অভয়নগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামান দাবি করেন, ফারুক সরদার এই গরু চোর চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য বলে তারা তদন্তে তথ্য প্রমাণাদী পেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, চোর চক্রের হোতা বাবলু শেখের ডান হাত হিসেবে চোরাই গরু ক্রয়ে সহযোগিতা করতো ফারুক সরদার। তিনি বলেন, টাকা চাওয়া ও মারপিট করার অভিযোগ একেবারেই অবান্তর।
এদিকে নিজ গ্রামেই গরু চুরির ঘটনায় পলাতক মাংস ব্যবসায়ী বাবলু শেখের মাংসের দোকান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মাঝেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর রবিবার রাতে উপজেলার সিরাজকাঠি—দুর্গাপুর গ্রামে একই রাতে দু’টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। যার মধ্যে একটি এঁড়ে ও একটি বকনা গরু রয়েছে। গরু দুটির বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে গরুর মালিক ওই গ্রামের মোঃ সিরাজউদ্দৌলা ওরফে দোলু মিয়া দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, বকনা গরুটি বাচ্চা প্রসবের সম্ভাবনা ছিল।অপরদিকে বাঘুটিয়া নিমতলা এলাকার প্রদীপ বিশ্বাসের ৩ টি গরু আব্বাস গাজীর একটি ও মিন্টু গাজীর ১।সনজয় এর১টি গরু নড়াইল মাইজপাড়া হাটে পাওয়া যায়। বাকি গরুর কোন খোঁজ মেলেনি।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মাংস ব্যাবসায়ী বাবলু শেখের গোশের দোকান নামে তালতলা হাট এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ গরুর মাংস বিক্রি করে আসছিলো। প্রায়ই পত্রিকা ও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে ৬শ’ সাড়ে ৬শ’ টাকা কেজিতে মাংস বিক্রি করতো বাবলু শেখ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে অনেক আলোচনা সমালোচনা ও সন্দেহ ছিলো। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক এ চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ওসি মোঃ নুরুজ্জামান আটককৃতদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে বলেন, তালতলা হাট বাজারের মাংস ব্যবসায়ী বাবলু শেখ দীর্ঘদিন যাবৎ চোর চক্রের হোতা হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় গরু চোর চক্রের একটি নেকওয়ার্ক সৃষ্টি করেছে। ওই চক্রের মাধ্যমে গরু চুরি করিয়ে সেই গরু কমদামে কিনে নিয়ে তা বিক্রি করে আসছিলো।
তিনি দাবি করেন, বাবলু শেখ যশোর, খুলনাসহ পাশ্ববর্তী অঞ্চলের গরু চোর চক্রের একজন হোতা। আমরা ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে অনেক তথ্য পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি বলা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে বাবলু শেখকে আটকে অভিযান চলছে।