শিক্ষকের কাছে কোচিং না করায় ছাত্রকে গ্যাং স্টাইলে মারধর
- Update Time : ০৭:১৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫
- / ৮৯৮ Time View

মাহাবুর রহমান, কেশবপুর- (যশোর)
যশোরের কেশবপুর উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের ভান্ডারখোলা গ্রামের হাজী হায়দার আলী খানের ছেলে আবু জাফর (১৬) ভান্ডারখোলা সিনিয়র আলিয়া মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র। নিয়মিত তার প্রতিষ্টানে ক্লাস করেন কিন্তু নিজ প্রতিষ্টানের শিক্ষক মোঃ আবু রায়হান, (পিতা কপিল উদ্দিন শেখ) কাছে কোচিং না করায় ক্লাসে বিভিন্ন অযুহাতে বেত্রাঘাত করে। এমনি কি রাতে বাজারে গিলে বাজার থেকে লোক দিয়ে ডেকে নিয়ে গ্যাং স্টাইলে মারধরেরও অভিযোগ উঠছে।
তথ্যসূত্রে জানাযায়, ৭ মে বুধবারে ক্লাসে পড়া না হওয়াই শিক্ষার্থী আবু জাফরকে বেতের আঘাত করে রক্তাক্ত করে, শিক্ষার্থী আবু জাফর প্রতিষ্টান প্রধানকে চিকিৎসার জন্য মৌখিক ছুটির আবেদন করে ছুটি দিনের জন্য ছুটি নেন। ছুটি দেওয়ার পর প্রধান শিক্ষক বলেন, তুমি প্রতিষ্ঠানে থাকবে কিনা সেটা তোমার ব্যাপার এ বিষয়ে আমি কিছু করতে পারব না। আবু জাফর চিকিৎসা নিয়ে আবার নিয়মিত মাদ্রাসা তে ক্লাস করা শুরু করেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী আবু জাফরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গনিত শিক্ষক আবু রায়হান কবিরের কাছে প্রাইভেট ব্যাচে পড়ি না, আমি অন্য জায়গায় অন্য শিক্ষকের কাছে পড়ি। তার কাছে আমাদের প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বাইরের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও ব্যাচে পড়ে। আমাকে ক্লাসে বেত্রাঘাত করে রক্তাক্ত করার এক সপ্তাহ পরেও তার স রাগ মিটে না বরং তার ব্যাচের অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দ্বারা আমার উপর তার রাগ মিটানোর জন্য কিশোর গ্যাং এর মত আচরণ সুলভ কিছু ছেলে দিয়ে আমাকে আবারো মারার জন্য পরিকল্পনা করে। ১৪ মে বুধবার তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সময় (৭:০০) সাতটার দিকে আমার কিছু প্রয়োজনীয় কাজে আমি বাজারে যায় । তখন হঠাৎ করে হাবিবুর (পিতা আব্দুর রউফ) আমাকে কল দিয়ে দেখা করতে বলে। আমি যখন তার সাথে দেখা করি তখন তার সাথে নাইম (পিতা ওয়াহেদুল) কে দেখতে পায়। তারা দুজনে বলে মাদ্রাসার রায়হান কবীর স্যার তোর সাথে কিছু কথা বলতে চাই। তখন তাদের কথা মত তাদের সাথে মাদ্রাসার মাঠে যাওয়ার পূর্বে আমার বড় ভাই (চাচাতো) আবু সুফিয়ান কে কল দিয়ে বিষয়টা জানাই এবং আমি তাদের সাথে মাদ্রাসার মাঠে যাই। আমি তাদের সাথে মাদ্রাসার মাঠে গিয়ে দেখি সেখানে ৭ থেকে ৮ জন ছেলে দাড়িয়ে আছে, আমি ওদের কাছে যাওয়া মাত্রই আমার থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে মারপিট শুরু করে। এলো পাতাড়ি ভাবে মারপিট করে বেশ কয়েক মিনিট, আমার মাথায় সরাসরি আঘাত করে এবং আমি মাটিতে পড়ে যায়। নাঈম নামের ছেলে টা আমার বুকের উপর উঠে আঘাত করে, আমাকে মারপিট করে, তখন আমি অচেতন হয়ে পড়ি। এক পর্যায়ে আমার বড় ভাই সেখানে গিয়ে তাদের থেকে আমাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে চলে যায় । পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ডেকে নিয়ে মিমাংসা করার জন্য উঠবাসা করে। কিন্তু সেখানে শিক্ষক আবু রায়হান কোন কথা না বলে নিশ্চুপ হয়ে দাড়িয়ে থাকে। ঘটনার বিষয়ে ভান্ডারখোলা দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোহাম্মদ আলী কাদেরের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করলে জানান, ছাত্রকে মারপিঠ করার ঘটনায় ওই শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করতে গিলে কোন ভাবেই তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী আবু জাফরের পরিবার জানায়,আমার ছেলেকে শ্রেণী কক্ষে বেআইনিভাবে ও অমানবিকভাবে শারীরিক নির্যাতন ও শ্রেণী কক্ষের বাইরে বহিরাগত কিশোর গ্যাং এর মত কতিপয় গুন্ডা ছেলেদের দ্বারা আমার প্রাণনাশের চেষ্টার লক্ষ্যে যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে তার দৃষ্টান্ত মূলক বিচার প্রার্থনা করছি।
ঘটনার বিষয়ে কেশবপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বললে জানান আমরা ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, কেশবপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি ঘটনার তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।


























