সুন্দরবনে ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর ৩ দস্যুর আত্মসমর্পণ, জিম্মি জেলে উদ্ধার।
- Update Time : ০১:৪৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / ১৬ Time View

মো: রাজু আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার)
সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্রমাগত চাপের মুখে অবশেষে আত্মসমর্পণ করেছে কুখ্যাত ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় বন্দুক, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। একই সাথে দস্যুদের কবল থেকে জিম্মি থাকা এক জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন কোস্টগার্ড সদস্যরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে বর্তমানে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কোস্টগার্ডের এই কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে।
এই ধারাবাহিক সফল অভিযানের প্রেক্ষিতেই গত বুধবার বিকাল ৫টায় বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্টগার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আত্মসমর্পণকারী ডাকাতেরা হলেন বাগেরহাটের মোংলার আলামিন হোসেন, সাতক্ষীরার তালার তৈবুর রহমান এবং খুলনার কয়রার মনিরুজ্জামান মামুন। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে অদ্যাবধি কোস্টগার্ডের এই বিশেষ অভিযানে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ তাজা ও ফাঁকা কার্তুজ এবং ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে ৪২ জন বনদস্যুকে আটক এবং জিম্মিদশা থেকে ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর ৭ জন সদস্যও অস্ত্রসহ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল।
বর্তমানে জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সাথে উদ্ধারকৃত জেলেকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের অবশিষ্ট সকল ডাকাতদের দস্যুবৃত্তি পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। যারা আত্মসমর্পণ করবে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে, অন্যথায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কোস্টগার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে।




















