ক্ষেতলালে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে এক সন্তানের জননীর অবস্থান
- Update Time : ১১:০৪:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৮ Time View

সেলিম হোসেন রুবেল,জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন এক সন্তানের জননী। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনি গাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে প্রেমিক সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন নামের ওই গৃহবধূ। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিয়াম তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এখন তাঁকে বিয়ে না করে অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি ও বিয়ে করে নেওয়ায় তিনি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। সিয়াম সাবিনার ভাগ্নে হয় এমন তথ্য দিয়েছেন সাবিনা নিজেই। তবে তিনি দাবি করের সিয়াম রক্তের সম্পর্কে ভাগিনা নয় গ্রাম সম্পর্কে ভাগিনা হন বলে জানান।
এ ঘটনায় প্রেমিক সিয়াম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এদিকে ওই গৃহবধূ ঘোষণা দিয়েছেন, সিয়াম তাঁকে বিয়ে না করলে তিনি আ**ত্মহ**ত্যা করবেন।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিয়ামের বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় আশপাশের প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন।
বিয়ে দাবিতে অনশনে বসা সাবিনা ইয়াসমিন উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনি গাড়ি গ্রামের শফিকুলের স্ত্রী বলে জানা গেছে৷ পরবর্তীতে শরিফুল দাবি করেন সাবিনা যেহেতু ভাগিনা সিয়ামের কাছেই যাবে তাহলে সাবিনা শফিকুল কে তালাক দিয়ে যেতে হবে। পরবর্তীতে এটাই চুরান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে সাবিনাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
বিশ্বস্ত সুত্রে যানা গেছে প্রেমিক সিয়াম গত রাতে অন্য মেয়েকে বিয়ে করে গা ঢাকা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিয়াম হিন্দা এলাকার আব্দুল মোতালেবের ছেলে। মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি গ্রামে মরহুম মোজা ব্যাপারীর নাতি তাঁর নানার বাড়িতে বসবাস করেন। প্রতিবেশী সূত্রে তাঁদের মধ্যে পরিচয়ের পর গত প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সাবিনা ইয়াসমিনের দাবি, তিনি প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে স্বামী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে সংসার করছেন। তাঁদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী একটি এনজিওতে চাকরি করেন।
ভুক্তভোগী সাবিনা বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সিয়াম আমার সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। একপর্যায়ে সে আমার ঘরেও আসা-যাওয়া করত। একদিন আমার প্রতিবেশী ভুট্টুম তাকে ঘরে দেখে ফেলেন৷ তখন সিয়াম আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এরপরও সে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখে। তিনি আরও বলেন, হঠাৎ জানতে পারি, সিয়াম অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করতে ধাওয়াপাড়া কাপাসটিকরি গ্রামের প্রবাসী সদরুল আলমের মেয়ের বাড়িতে গেছে। এ খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আমি সিয়ামের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছি। সিয়াম না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না। আমাকে বিয়ে না করলে আমি আ**ত্মহ**ত্যা করব।
তবে সাবিনা ইয়াসমিনের এসব অভিযোগের বিষয়ে সিয়ামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা সাকিলুর রহমান তালুকদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা সম্ভব হচ্ছে না৷
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুক্তারুল আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























