১০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৩০ সালের মধ্যে ২০% নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্য: মোংলায় জনসমাবেশে নজরুল ইসলাম মঞ্জু

Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৯ Time View

 

মো: রাজু আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার)

 

সরকার পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে অত্যন্ত আন্তরিক এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অর্জনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সুবিশাল সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে মোংলার নারিকেলতলা মাঠে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক স্লোগানে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’ এবং ‘পশুর রিভার ওয়াটারকিপার’-এর যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “সৌর বিদ্যুতের প্রতি এখন সাধারণ মানুষের আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারের ভবনসহ সকল সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

​তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ঘটলে দেশের জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা কমবে, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং বিদ্যুৎ খাতের ওপর আর্থিক চাপ অনেকাংশে কমে আসবে।

​সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ‘ধরা’-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর সমন্বয়কারী শরীফ জামিল বলেন, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থেই সারা দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণ প্রয়োজন। একনেকে রামপাল সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদিত হওয়ায় তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তবে বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন সংরক্ষণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সুন্দরবন বাঁচাতে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন প্রকল্প অবিলম্বে বাতিল করা উচিত।

​অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’-এর সমন্বয়কারী ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ। তিনি বলেন, বিগত সরকার জনগণের প্রতিবাদ তোয়াক্কা না করে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছিল। বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি করে এমন কোনো প্রকল্প যেন আর গ্রহণ করা না হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তর হতে হবে সম্পূর্ণ সবুজ, পরিবেশবান্ধব ও জনকেন্দ্রিক।

​জনসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, রিভার বাংলা সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, শ্রমিক নেতা মাহবুবুর রহমান মানিক, কৃষক নেতা বদরুল আলম, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র, সচেতন ফাউন্ডেশনের মোঃ হাবিবুর রহমান, মিশনগ্রীন বাংলাদেশের আহসান রনি, হাওর অঞ্চলবাসীর জাকিয়া শিশির, কসমসের মেহনাজ মালা, ব্রাইটার্সের সাইদুর রহমান সিয়াম, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের মাসফিকুল হাসান টনি, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ারের জুবায়ের ইসলাম এবং ওয়েব ফাউন্ডেশনের আসাদুজ্জামান তুহিন।

​জনসমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাঘ মহড়া, ঐতিহ্যবাহী পুতুল খেলা, বাউল গান ও গাজীর গানের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব সর্বস্তরের মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

২০৩০ সালের মধ্যে ২০% নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্য: মোংলায় জনসমাবেশে নজরুল ইসলাম মঞ্জু

Update Time : ১০:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

 

মো: রাজু আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার)

 

সরকার পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে অত্যন্ত আন্তরিক এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অর্জনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সুবিশাল সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে মোংলার নারিকেলতলা মাঠে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক স্লোগানে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’ এবং ‘পশুর রিভার ওয়াটারকিপার’-এর যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “সৌর বিদ্যুতের প্রতি এখন সাধারণ মানুষের আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারের ভবনসহ সকল সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

​তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ঘটলে দেশের জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা কমবে, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং বিদ্যুৎ খাতের ওপর আর্থিক চাপ অনেকাংশে কমে আসবে।

​সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ‘ধরা’-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর সমন্বয়কারী শরীফ জামিল বলেন, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থেই সারা দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণ প্রয়োজন। একনেকে রামপাল সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদিত হওয়ায় তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তবে বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন সংরক্ষণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সুন্দরবন বাঁচাতে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন প্রকল্প অবিলম্বে বাতিল করা উচিত।

​অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’-এর সমন্বয়কারী ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ। তিনি বলেন, বিগত সরকার জনগণের প্রতিবাদ তোয়াক্কা না করে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছিল। বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি করে এমন কোনো প্রকল্প যেন আর গ্রহণ করা না হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তর হতে হবে সম্পূর্ণ সবুজ, পরিবেশবান্ধব ও জনকেন্দ্রিক।

​জনসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, রিভার বাংলা সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, শ্রমিক নেতা মাহবুবুর রহমান মানিক, কৃষক নেতা বদরুল আলম, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র, সচেতন ফাউন্ডেশনের মোঃ হাবিবুর রহমান, মিশনগ্রীন বাংলাদেশের আহসান রনি, হাওর অঞ্চলবাসীর জাকিয়া শিশির, কসমসের মেহনাজ মালা, ব্রাইটার্সের সাইদুর রহমান সিয়াম, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের মাসফিকুল হাসান টনি, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ারের জুবায়ের ইসলাম এবং ওয়েব ফাউন্ডেশনের আসাদুজ্জামান তুহিন।

​জনসমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাঘ মহড়া, ঐতিহ্যবাহী পুতুল খেলা, বাউল গান ও গাজীর গানের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব সর্বস্তরের মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়।