খানজাহান আলীর মাজারের পুকুরে শিশুকে টেনে নিয়ে গেছে দীঘির কুমিরে
- Update Time : ১২:২৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / ১১ Time View

বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারে পুকুরে গোসল করতে নামা এক শিশুকে টেনে নিয়ে গেছে কুমির।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, “সোমবার রাত ৮টার দিকে দীঘির প্রধান ঘাটে শিশুটি গোসল করতে নামে। এ সময় পানিতে লুকিয়ে থাকা কুমির তার উপর আক্রমণ করে টেনে নিয়ে যায়।”
আট বছর বয়সী ফাতেমার বাবা নেই। সে তার মায়ের সঙ্গে মাজার এলাকাতে থাকে। তার মা মানসিক ভারসাম্যহীন।মাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ঘটনার পর বাগেরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তারা উদ্ধার অভিযান তদারকি করছেন।
রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শিশুটির সন্ধান মেলেনি।প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী বলেন, “আমরা মাজারের ঘাটের উপরের দিকে ছিলাম। মেয়েটি ঘাটে নেমেছিল। তখন হঠাৎ একটি কুমির তাকে কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। শিশুটির চিৎকার শুনে আমিসহ মাজারে উপস্থিত লোকজন ঘাটের দিকে ছুটে যাই।
“এরই মধ্যে কুমিরটি তাকে পানির নিচে নিয়ে যায়। শিশুটিকে উদ্ধারে স্থানীয় লোকজন নৌকা নিয়ে দিঘিতে নামেন। তবে কোনো সন্ধান মেলেনি।”
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বাগেরহাট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, “কুমির যেহেতু হিংস্র প্রাণী তাই পানিতে নামাটা ঝুঁকিপূর্ণ। তাও আবার রাতের বেলা। তারপরও আমরা খোঁজাখুঁজি করছি।”
এপ্রিলে দিঘির কুমিরটি একটি কুকুরকে টেনে নেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়েছিল।
খানজাহান (রহ.) এর মাজারের দিঘির একটা দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। কথিত আছে, হযরত খানজাহান আলী (রহ.) এই দিঘি খনন করে এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। পরে তাদের মধ্যে পুরুষটার ‘কালা পাহাড়’ ও স্ত্রী কুমিরটির নাম ‘ধলা পাহাড়’ রাখা হয়। এরপর তাদের বংশধর কুমিরদের মধ্যে পুরুষকে ‘কালা পাহাড়’ আর স্ত্রী কুমিরকে ‘ধলা পাহাড়’ ডাকা হত। তাদের সর্বশেষ বংশধরের মৃত্যু হয়েছে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটা কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়। কিন্তু এর কয়েকটা মারা যায়। সর্বশেষ যে দুটো ছিল, তার একটা ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যায়। এরপর থেকে একটা কুমিরই দিঘিতে আছে।















