০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলায় মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ফাদার রিগনের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১২ Time View

 

​মো: রাজু আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার)

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশেষ দূত এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু কবি-সাহিত্যিক ইতালি নাগরিক ফাদার মারিনো রিগনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

​আজ ২০ মে (মঙ্গলবার) সকালে মোংলার শেলাবুনিয়ায় ‘ফাদার মারিনো রিগন মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন কমিটি’র উদ্যোগে র‍্যালি, স্মরণসভা ও তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।

​সকাল সাড়ে ৮টায় সমাধি চত্বরে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সেন্ট পলস ধর্মপল্লীর পালক পুরোহিত ফাদার ফিলিপ মন্ডল।

​স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূর আলম শেখ, সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফ্রান্সিস সুদান হালদারসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

​স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, “ফাদার মারিনো রিগন নিজের জীবনকে বাংলার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর মস্তকে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ আর অন্তরে লালন। তিনি ইতালিতে বাংলাদেশের এক অঘোষিত রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা পালন করেছেন।” বক্তারা উল্লেখ করেন, ফাদার রিগন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৪৮টি বই এবং লালন সাঁইয়ের প্রায় সাড়ে তিনশো গান ইতালি ভাষায় অনুবাদ করে বিশ্বদরবারে বাংলা সাহিত্যকে পৌঁছে দিয়েছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর অবদান ছিল অসামান্য।

​আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন সামাজিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফাদার রিগনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি শোভাযাত্রা (র‍্যালি) বের হয়।

​ফাদার রিগনের অবদান:

ফাদার মারিনো রিগন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে ঐতিহাসিক অবদান রেখেছেন। তিনি মোংলা অঞ্চলে বিখ্যাত সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেন্ট পলস হাসপাতাল এবং নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে যাজকীয় দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি এদেশের সাধারণ মানুষের সেবাকেই ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন।

​শিক্ষাসভা, সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০০৯ সালে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে এবং ২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’য় ভূষিত করে।

​উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ইতালিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাদার মারিনো রিগন মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী মৃত্যুর এক বছর পর বাংলাদেশ সরকার ইতালি থেকে তাঁর মরদেহ দেশে এনে মোংলার শেলাবুনিয়ায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মোংলায় মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ফাদার রিগনের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ

Update Time : ১১:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

 

​মো: রাজু আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার)

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশেষ দূত এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু কবি-সাহিত্যিক ইতালি নাগরিক ফাদার মারিনো রিগনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

​আজ ২০ মে (মঙ্গলবার) সকালে মোংলার শেলাবুনিয়ায় ‘ফাদার মারিনো রিগন মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন কমিটি’র উদ্যোগে র‍্যালি, স্মরণসভা ও তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।

​সকাল সাড়ে ৮টায় সমাধি চত্বরে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সেন্ট পলস ধর্মপল্লীর পালক পুরোহিত ফাদার ফিলিপ মন্ডল।

​স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূর আলম শেখ, সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফ্রান্সিস সুদান হালদারসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

​স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, “ফাদার মারিনো রিগন নিজের জীবনকে বাংলার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর মস্তকে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ আর অন্তরে লালন। তিনি ইতালিতে বাংলাদেশের এক অঘোষিত রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা পালন করেছেন।” বক্তারা উল্লেখ করেন, ফাদার রিগন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৪৮টি বই এবং লালন সাঁইয়ের প্রায় সাড়ে তিনশো গান ইতালি ভাষায় অনুবাদ করে বিশ্বদরবারে বাংলা সাহিত্যকে পৌঁছে দিয়েছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর অবদান ছিল অসামান্য।

​আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন সামাজিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফাদার রিগনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি শোভাযাত্রা (র‍্যালি) বের হয়।

​ফাদার রিগনের অবদান:

ফাদার মারিনো রিগন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে ঐতিহাসিক অবদান রেখেছেন। তিনি মোংলা অঞ্চলে বিখ্যাত সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেন্ট পলস হাসপাতাল এবং নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে যাজকীয় দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি এদেশের সাধারণ মানুষের সেবাকেই ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন।

​শিক্ষাসভা, সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০০৯ সালে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে এবং ২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’য় ভূষিত করে।

​উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ইতালিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাদার মারিনো রিগন মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী মৃত্যুর এক বছর পর বাংলাদেশ সরকার ইতালি থেকে তাঁর মরদেহ দেশে এনে মোংলার শেলাবুনিয়ায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করে।