যশোরে নসিমন চুরির অভিযোগে গণপিটুনি, নিহত ১ চান্দুটিয়ায় পৃথক স্থানে মারধরের শিকার দুজন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তি
- Update Time : ০৯:৫১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১০ Time View

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:
যশোর সদর উপজেলার চান্দুটিয়া এলাকায় নসিমন চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মো. মনিরুজ্জামান (৩৫) নামে আরেক ব্যক্তি। তাঁকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে চান্দুটিয়া এলাকার পৃথক দুটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজানুর রহমান চৌগাছা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে। আহত মনিরুজ্জামান ঝিকরগাছা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে। নসিমন চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে চান্দুটিয়া এলাকায় একটি নসিমন চুরি করে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠে দুজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে স্থানীয় লোকজন মনিরুজ্জামানকে আটক করেন। পরে তাঁকে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে।
এরপর রোববার ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে একই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চান্দুটিয়া বটতলা ব্রিজ এলাকা থেকে মিজানুর রহমানকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাঁকেও মারধর করে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। তবে নসিমন চুরির অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানুর রহমানকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আহত মনিরুজ্জামানকে হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের বরাত অনুযায়ী, আহত মনিরুজ্জামানের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। তবে তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় কী পরিমাণ আঘাত লেগেছে এবং পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মিজানুর রহমানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না কিংবা এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা আইনের শাসনের পরিপন্থী। চান্দুটিয়ার এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।




















