শুরু হয়ে গেছে ‘সুপার এল নিনো’, ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে বিশ্ব
- Update Time : ০২:০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
- / ১৪ Time View

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় এবার শক্তিশালী এল নিনো বা ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে পৃথিবী। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, এই ঘটনা গরমের তীব্রতা বাড়ানোর পাশাপাশি বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগকে আরও তীব্র করতে পারে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) নতুন প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের এল নিনো সুপার পর্যায়ে পৌঁছানোর ঝুঁকি প্রায় ৬৩ শতাংশএল নিনো মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের একটি জলবায়ুগত প্রক্রিয়া, যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বদলে গিয়ে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনেও বড় পরিবর্তন দেখা দেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, সুপার এল নিনো হলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে।
এনওএএ-এর জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ পানির প্রবাহ বেড়েছে। ফলে বাতাসের গতিপ্রবাহ এরই মধ্যে বদলে গেছে। এই উষ্ণ পানি মহাসাগরপৃষ্ঠের ৬০০ ফুট থেকে এক হাজার ফুট নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং হাজার মাইল পূর্বে দক্ষিণ আমেরিকার কাছাকাছি এরই মধ্যে সাগরপৃষ্ঠে উঠে আসতে শুরু করেছে, যা অতীতের বড় এল নিনো ঘটনাগুলোর সময়ও দেখা গিয়েছিল।বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০১৫–১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্ব আবারও ‘সুপার এল নিনো’ অভিজ্ঞতা পেতে পারে। এর আগেও ১৯৯৭–৯৮ এবং ১৯৮২–৮৩ সালে শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জলবায়ু বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
এল নিনো সাগর থেকে বাতাসে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয়। ফলে বৈশ্বিক জলবায়ুতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রবণতা বেগবান হয়। এবার আবহাওয়ার যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তাতে ২০২৭ সাল বিশ্বের উষ্ণতম বছর হওয়ার নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। এর আগে উষ্ণতম বছরের রেকর্ড হয়েছে ২০২৪ সালে।
এল নিনোর প্রভাব সাধারণত অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়। কোথাও তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা দেখা দেয়, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার চরম পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, এবারের এল নিনোর সময় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে হারিকেনের মাত্রা আগের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও হাওয়াইয়ে ঘন ঘন হারিকেন আঘাত হানতে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এবার শীত মৌসুমে তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত বেশি থাকতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোয় খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এবারের বর্ষায় বৃষ্টি কম হতে পারে। এশিয়ার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে শীতকালে তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে দেখা দিতে পারে খরা। আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও খরা দেখা দিতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বেড়ে যেতে পারে বৃষ্টি। ফলে এসব অঞ্চলে বন্যা হতে পারে। তবে ব্রাজিলে গরম তীব্র হতে পারে।
গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার না কমায় এমন প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর প্রভাব আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ফলে সুপার এল নিনো বিশ্বজুড়ে মানবজীবন, কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এল নিনো কখনোই সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে না। জলবায়ুজনিত এই ঘটনা প্রতিবারই এমন কিছু নিয়ে আসে, যা সবাইকে চমকে দেয়। এবার চমক হিসেবে কী দুর্যোগ ডেকে আনবে এল নিনো, তা এখনই পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন।























