সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সাথে ‘দুলাভাই বাহিনী’র তীব্র বন্দুকযুদ্ধ: নিহত ১, প্রধানসহ আটক ২।
- Update Time : ০৬:১৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / ৬ Time View

মো: রাজু আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার)
সুন্দরবনে কুখ্যাত বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র আস্তানায় রক্তক্ষয়ী অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। টানা দুদিনের এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বাহিনী প্রধানসহ দুই দস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং বন্দুকযুদ্ধে এক দস্যু নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কোস্টগার্ড জানায়, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত এবং জেলে ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, খুলনা জেলার কয়রা থানার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা অবস্থান করছে।
এরই প্রেক্ষিতে গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা থেকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা এবং স্টেশন নলিয়ান যৌথভাবে সুন্দরবনের গহীনে টানা দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন দস্যুদের দুটি সন্দেহভাজন বোট দেখতে পেয়ে কোস্টগার্ড সদস্যরা সেগুলোকে থামার নির্দেশ দেন। কিন্তু দস্যুরা আত্মসমর্পণ না করে কোস্টগার্ডের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ডও পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। একপর্যায়ে দস্যুদের একটি বোটে আগুন ধরে যায় এবং অপর একটি বোট নদীতে ডুবে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্টগার্ড সদস্যরা ২১৬ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১ রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ ফায়ার করে।
বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) এবং দস্যু শওকত সরদারকে (৫৫) আটক করা হয়। তাদেরকে দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত বাহিনী প্রধান রবিউলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযান চলাকালে পালিয়ে যাওয়া অন্য দস্যুদের ধরতে কোস্টগার্ড ও পুলিশের একটি যৌথ দল মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। স্থানীয় জনতার সহায়তায় সেখান থেকে আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) নামে আরও এক দস্যুকে আটক করা হয়। তাকেও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আটককৃত রবিউল ইসলাম ও নিহত শওকত সরদার খুলনা জেলার কয়রা থানার এবং ইসরাফিল হাওলাদার সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বাসিন্দা।
পরবর্তীতে আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দস্যুদের ব্যবহৃত ৬টি একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় অস্ত্র, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি মোবাইল এবং ১টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, নিহত দস্যুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য এবং আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ সবকিছু কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে কোস্টগার্ডের এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

























