০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে – আসাদুজ্জামান আলী

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫
  • / ৬০ Time View

 

চাঁদা না দেওয়ায় পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী নেতা আলীর বিরুদ্ধে

মাহাবুব হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা শাখার সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আলীর বিরুদ্ধে চাঁদা না দেওয়ায় এক তরুণকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই তরুণকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের এম এ রাজ্জাক মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী তরুণের মা ফরিদা ইয়াসমিন এ অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান আলী চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশও প্রভাবিত হয়ে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, তাঁর ছেলের নাম মেজবাউর হক (হৃদয়)। ছেলে যখন খুব ছোট তখন তিনি তাঁর বাবার বাসায় চলে আসেন। ছেলেকে মানুষ করাতে ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখা করান। বর্তমানে তাঁর ছেলে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ষষ্ঠ সেমিস্টারে লেখাপড়া করছেন। তাঁর স্বল্প আয়ে ছেলের খরচ চালাতে না পেরে কুমারখালী শহরে একটি ক্যাফেতে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করান। বিশ্বস্ততার কারণে ক্যাফের মালিক টাকাপয়সা তাঁর ছেলের কাছে রাখতেন। তাঁর ছেলের সঙ্গে সমন্বয়ক আসাদুজ্জামান আলীর ছোটবেলা থেকেই বন্ধুত্ব। টাকা রাখার বিষয়টি জানতে পেরে আসাদুজ্জামান এক মাস আগে তাঁর ছেলের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দিতে অস্বীকার করলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়াসহ নানা হুমকি–ধমকি দেওয়া হয়।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি কয়েকজন পুলিশসহ তাঁর ছেলেকে বাসা থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকে ছেলে কারাগারে আছেন। এরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন ফরিদা।

মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পদ্মপুকুর ঘাট এলাকায় নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে মেজবাউরকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, তাঁর ছেলে কোনো রাজনীতি করে না। আগে কোনো মামলাও ছিল না। টাকা না পেয়ে আসাদুজ্জামান আলী পুলিশকে ব্যবহার করে জেলে পাঠিয়েছে। এর বিচার চান তিনি। তাঁর ছেলেকে ফিরে পেতে চান। চাঁদা দাবির বিষয়টি প্রথমে মজা মনে করে পুলিশকে জানাননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আলী এত বড় ঘটনা ঘটাবে, তা বুঝতে পারিনি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিকালে আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমারখালী শাখার সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আলী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। আমার বিরুদ্ধে তাঁরা যেসব অভিযোগ তুলেছেন, সব মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে ও ফাঁসাতে এসব করা হচ্ছে। চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ যদি প্রমাণ করতে পারে, তবে গলায় জুতার মালা পরে ঘুরব। কুষ্টিয়া তথা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাব।’

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আসাদুজ্জামান খান আলী বর্তমানে কুমারখালী উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব হলেও তাকে সবাই কুমারখালী পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হিসেবেই চিনতো। আব্দুস সামাদ খান পাখি নিজেকে বিএনপি নেতা বলে দাবি করলেও তার কোন পদ পদবী খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জানাযায়ী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পদত্যাগের পর আলী এবং আলীর বাবা আব্দুস সামাদ খান পাখি উপজেলার বিভিন্ন মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন অনেক টাকা।
অভিযোগ আছে মামলার পর মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া শর্তে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা ও নিয়েছেন।
কেউ টাকা দিতে না চাইলে তার বাড়িতে পুলিশ দিয়ে অভিযান চালিয়েছেন এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকি বাদশাকে জোর করে তুলে নিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকা কেড়ে নেই বলেও জনশ্রুতি রয়েছে।
এমন অজস্র অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৫ শে এ ফেব্রুয়ারি আলী ও তার বাবা পাখির এলঙ্গী পাড়ার বাড়িতে হামলা চালায় বিক্ষিপ্ত জনতা।
সে সময় ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয় বাড়ির আসবারপত্রসহ বাড়িঘর।
এছাড়াও আলী ও পাখির বিচারের দাবিতে সর্বদলীয় ঐক্য জোটের ব্যানারে কুমারখালীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমারখালী উপজেলা সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান খান আলী।
সেসময় তিনি তার নিজ ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানিয়েছেন, আমার ভবিষ্যৎ মান-সম্মান, আমার নিজের বাপের কারণেই আজ শেষ..!! বাপের খেসারত আজ আমার দিতে হচ্ছে..!! ছোট্ট জীবনে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু কে যানতো আমার সমস্ত অর্জন আমার ই বাপের হাতে ধ্বংস হবে।
ধন্যবাদ কুমারখালীর সকল রাজনৈতিক দলদের। আমি লজ্জিত।

উল্লেখ্য, এসকল ঘটনায় গত ২৫শে ফেব্রুয়ারী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমারখালীর ৮ জন নেতাকে বহিষ্কার এবং কুমারখালী উপজেলা সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান খান আলীসহ ৫জনকে কারণ দর্শনের নোটিশ দিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা শাখা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে – আসাদুজ্জামান আলী

Update Time : ০৭:২২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫

 

চাঁদা না দেওয়ায় পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী নেতা আলীর বিরুদ্ধে

মাহাবুব হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা শাখার সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আলীর বিরুদ্ধে চাঁদা না দেওয়ায় এক তরুণকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই তরুণকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের এম এ রাজ্জাক মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী তরুণের মা ফরিদা ইয়াসমিন এ অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান আলী চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশও প্রভাবিত হয়ে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, তাঁর ছেলের নাম মেজবাউর হক (হৃদয়)। ছেলে যখন খুব ছোট তখন তিনি তাঁর বাবার বাসায় চলে আসেন। ছেলেকে মানুষ করাতে ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখা করান। বর্তমানে তাঁর ছেলে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ষষ্ঠ সেমিস্টারে লেখাপড়া করছেন। তাঁর স্বল্প আয়ে ছেলের খরচ চালাতে না পেরে কুমারখালী শহরে একটি ক্যাফেতে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করান। বিশ্বস্ততার কারণে ক্যাফের মালিক টাকাপয়সা তাঁর ছেলের কাছে রাখতেন। তাঁর ছেলের সঙ্গে সমন্বয়ক আসাদুজ্জামান আলীর ছোটবেলা থেকেই বন্ধুত্ব। টাকা রাখার বিষয়টি জানতে পেরে আসাদুজ্জামান এক মাস আগে তাঁর ছেলের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দিতে অস্বীকার করলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়াসহ নানা হুমকি–ধমকি দেওয়া হয়।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি কয়েকজন পুলিশসহ তাঁর ছেলেকে বাসা থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকে ছেলে কারাগারে আছেন। এরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন ফরিদা।

মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পদ্মপুকুর ঘাট এলাকায় নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে মেজবাউরকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, তাঁর ছেলে কোনো রাজনীতি করে না। আগে কোনো মামলাও ছিল না। টাকা না পেয়ে আসাদুজ্জামান আলী পুলিশকে ব্যবহার করে জেলে পাঠিয়েছে। এর বিচার চান তিনি। তাঁর ছেলেকে ফিরে পেতে চান। চাঁদা দাবির বিষয়টি প্রথমে মজা মনে করে পুলিশকে জানাননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আলী এত বড় ঘটনা ঘটাবে, তা বুঝতে পারিনি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিকালে আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমারখালী শাখার সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আলী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। আমার বিরুদ্ধে তাঁরা যেসব অভিযোগ তুলেছেন, সব মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে ও ফাঁসাতে এসব করা হচ্ছে। চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ যদি প্রমাণ করতে পারে, তবে গলায় জুতার মালা পরে ঘুরব। কুষ্টিয়া তথা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাব।’

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আসাদুজ্জামান খান আলী বর্তমানে কুমারখালী উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব হলেও তাকে সবাই কুমারখালী পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হিসেবেই চিনতো। আব্দুস সামাদ খান পাখি নিজেকে বিএনপি নেতা বলে দাবি করলেও তার কোন পদ পদবী খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জানাযায়ী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পদত্যাগের পর আলী এবং আলীর বাবা আব্দুস সামাদ খান পাখি উপজেলার বিভিন্ন মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন অনেক টাকা।
অভিযোগ আছে মামলার পর মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া শর্তে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা ও নিয়েছেন।
কেউ টাকা দিতে না চাইলে তার বাড়িতে পুলিশ দিয়ে অভিযান চালিয়েছেন এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকি বাদশাকে জোর করে তুলে নিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকা কেড়ে নেই বলেও জনশ্রুতি রয়েছে।
এমন অজস্র অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৫ শে এ ফেব্রুয়ারি আলী ও তার বাবা পাখির এলঙ্গী পাড়ার বাড়িতে হামলা চালায় বিক্ষিপ্ত জনতা।
সে সময় ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয় বাড়ির আসবারপত্রসহ বাড়িঘর।
এছাড়াও আলী ও পাখির বিচারের দাবিতে সর্বদলীয় ঐক্য জোটের ব্যানারে কুমারখালীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমারখালী উপজেলা সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান খান আলী।
সেসময় তিনি তার নিজ ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানিয়েছেন, আমার ভবিষ্যৎ মান-সম্মান, আমার নিজের বাপের কারণেই আজ শেষ..!! বাপের খেসারত আজ আমার দিতে হচ্ছে..!! ছোট্ট জীবনে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু কে যানতো আমার সমস্ত অর্জন আমার ই বাপের হাতে ধ্বংস হবে।
ধন্যবাদ কুমারখালীর সকল রাজনৈতিক দলদের। আমি লজ্জিত।

উল্লেখ্য, এসকল ঘটনায় গত ২৫শে ফেব্রুয়ারী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমারখালীর ৮ জন নেতাকে বহিষ্কার এবং কুমারখালী উপজেলা সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান খান আলীসহ ৫জনকে কারণ দর্শনের নোটিশ দিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা শাখা।