০২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মণিরামপুরে মানুষ-মৌমাছির বসবাস

Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ১৪০ Time View

 

সাব্বির হাসান মণিরামপুর প্রতিনিধিঃ

যশোরের মণিরামপুরে আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঘিরে রেখেছে মৌমাছি। বারান্দাসহ চারপাশে প্রায় ২৩/২৪টি মৌমাছির বড় বড় চাক আছে। মৌমাছি বছরের আট মাস ধরে থাকে আলমগীরের বাড়িতে। বাড়িটি এখন মণিরামপুরে মৌমাছির বাড়ি হিসেবে পরিচিত হয়েছে। কেউবা মৌমাছি দেখতে আবার কেউবা ছবি তুলতে আসেন আলমগীর হোসেনের বাড়িতে। পরিবারের সদস্যদের মতোই মানুষের সঙ্গে বসবাস করছে মৌমাছি। প্রাকৃতিকভাবে বনের মৌমাছি আর পরিবারটির সাথে এই ভালোবাসার গড়ে উঠেছে প্রায় ছয় বছর আগে।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৩নং খানপুর ইউনিয়নের শেখপাড়া খানপুর গ্রামের ইসাক আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন। তিনি বাড়িতে সন্তানের মতো লালন-পালন করছেন মৌমাছির ২৩/২৪টি দলকে। পরিবারটির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে শত শত মৌমাছি। আলমগীর হোসেন বলেন,ছয় বছর আগে হঠাৎ বাড়ির বিভিন্ন স্থানে সাত-আটটি মৌমাছির চাক এসে হাজির হয়,এর পর থেকে প্রতিবছরই নির্দিষ্ট সময়ে মৌমাছির দলগুলো আমার বাড়িতে চলে আসে। দ্বতলাবিশিষ্ট বাড়ির বেলকুনি, দেওয়ালসহ বিভিন্ন স্থানে মৌমাছি চাক তৈরি করে। প্রতিবছরই এই মৌমাছির দলের আগমনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে । এ বছরেও আমার বাড়িতে রয়েছে ২৩/২৪টি মৌমাছির দল। এখন আমি মনে করি আমাদের পরিবারেরই অংশ মৌমাছি।

তিনি আরো বলেন, মৌমাছির সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা সবাই মিশে গেছে। আমার বাবা বেশির ভাগ সময় তাদের দেখাশোনা করেন। তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে কি না দেখেন, আমিও দেখি। এছাড়াও আমার মা, স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের অন্যরাও তাদের দেখাশোনা করেন। প্রতি বছরের নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত মৌমাছির দলগুলো বাড়িতে থাকে। এরপর একদিন হঠাৎ করে সব চলে যায়। তখন মনটা খুব খারাপ লাগে। অপেক্ষায় থাকি আবার কবে মৌমাছিগুলো ফিরে আসবে। ঠিক নির্দিষ্ট সময়ে আবারও চলে আসে মৌমাছিগুলো। এভাবেই আমাদের সঙ্গে চলছে ছয় বছর। আমরা আট মাসে দুইবার মৌমাছির চাক থেকে মধু সংগ্রহ করি। বছরে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মধু বিক্রি হয়। আলমগীরের ছেলে মেয়ে বলেন, প্রথম দিকে কামড়ানোর ভয় পেলেও এখন আমাদের ভয় লাগে না। কারণ মৌমাছি আমাদের কাউকে আক্রমণ করে না, কামড়ায় না। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, এটি মেইলি সিরা প্রজাতির মৌমাছি। এই মৌমাছিগুলো প্রকৃতি ও পরিবেশ বোঝে। যেখানে নিরাপত্তা, বাঁচার পরিবেশ ও খাবারের ভালো সুব্যবস্থাপায় সেখানেই মূলত এই মৌমাছিরা বাসা বাঁধে। এগুলো সুন্দরবনের মৌমাছি। এক বছর যেখানে বাসা বাঁধে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর চলে যাওয়ার সময় সেখানে কিছু আলামত রেখে যায়। পরের বছর সেখানেই ফিরে আসে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মণিরামপুরে মানুষ-মৌমাছির বসবাস

Update Time : ১০:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫

 

সাব্বির হাসান মণিরামপুর প্রতিনিধিঃ

যশোরের মণিরামপুরে আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঘিরে রেখেছে মৌমাছি। বারান্দাসহ চারপাশে প্রায় ২৩/২৪টি মৌমাছির বড় বড় চাক আছে। মৌমাছি বছরের আট মাস ধরে থাকে আলমগীরের বাড়িতে। বাড়িটি এখন মণিরামপুরে মৌমাছির বাড়ি হিসেবে পরিচিত হয়েছে। কেউবা মৌমাছি দেখতে আবার কেউবা ছবি তুলতে আসেন আলমগীর হোসেনের বাড়িতে। পরিবারের সদস্যদের মতোই মানুষের সঙ্গে বসবাস করছে মৌমাছি। প্রাকৃতিকভাবে বনের মৌমাছি আর পরিবারটির সাথে এই ভালোবাসার গড়ে উঠেছে প্রায় ছয় বছর আগে।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৩নং খানপুর ইউনিয়নের শেখপাড়া খানপুর গ্রামের ইসাক আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন। তিনি বাড়িতে সন্তানের মতো লালন-পালন করছেন মৌমাছির ২৩/২৪টি দলকে। পরিবারটির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে শত শত মৌমাছি। আলমগীর হোসেন বলেন,ছয় বছর আগে হঠাৎ বাড়ির বিভিন্ন স্থানে সাত-আটটি মৌমাছির চাক এসে হাজির হয়,এর পর থেকে প্রতিবছরই নির্দিষ্ট সময়ে মৌমাছির দলগুলো আমার বাড়িতে চলে আসে। দ্বতলাবিশিষ্ট বাড়ির বেলকুনি, দেওয়ালসহ বিভিন্ন স্থানে মৌমাছি চাক তৈরি করে। প্রতিবছরই এই মৌমাছির দলের আগমনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে । এ বছরেও আমার বাড়িতে রয়েছে ২৩/২৪টি মৌমাছির দল। এখন আমি মনে করি আমাদের পরিবারেরই অংশ মৌমাছি।

তিনি আরো বলেন, মৌমাছির সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা সবাই মিশে গেছে। আমার বাবা বেশির ভাগ সময় তাদের দেখাশোনা করেন। তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে কি না দেখেন, আমিও দেখি। এছাড়াও আমার মা, স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের অন্যরাও তাদের দেখাশোনা করেন। প্রতি বছরের নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত মৌমাছির দলগুলো বাড়িতে থাকে। এরপর একদিন হঠাৎ করে সব চলে যায়। তখন মনটা খুব খারাপ লাগে। অপেক্ষায় থাকি আবার কবে মৌমাছিগুলো ফিরে আসবে। ঠিক নির্দিষ্ট সময়ে আবারও চলে আসে মৌমাছিগুলো। এভাবেই আমাদের সঙ্গে চলছে ছয় বছর। আমরা আট মাসে দুইবার মৌমাছির চাক থেকে মধু সংগ্রহ করি। বছরে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মধু বিক্রি হয়। আলমগীরের ছেলে মেয়ে বলেন, প্রথম দিকে কামড়ানোর ভয় পেলেও এখন আমাদের ভয় লাগে না। কারণ মৌমাছি আমাদের কাউকে আক্রমণ করে না, কামড়ায় না। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, এটি মেইলি সিরা প্রজাতির মৌমাছি। এই মৌমাছিগুলো প্রকৃতি ও পরিবেশ বোঝে। যেখানে নিরাপত্তা, বাঁচার পরিবেশ ও খাবারের ভালো সুব্যবস্থাপায় সেখানেই মূলত এই মৌমাছিরা বাসা বাঁধে। এগুলো সুন্দরবনের মৌমাছি। এক বছর যেখানে বাসা বাঁধে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর চলে যাওয়ার সময় সেখানে কিছু আলামত রেখে যায়। পরের বছর সেখানেই ফিরে আসে।