সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড: ডাকাত আটক,আস্তানা ধ্বংস।
- Update Time : ১০:৫৯:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / ৮ Time View

সুন্দরবনে দস্যুমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বন্যপ্রাণী শিকারের সরঞ্জামাদি উদ্ধার এবং ডাকাতদের একটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের বাগেরহাট জেলার শরণখোলা থানাধীন আমুরবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন ড্রেনের খাল এলাকায় করিম শরীফ বাহিনীর ডাকাতরা অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৩টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আভিযানিক দল ধাওয়া করে করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আল-আমিন বাচ্চু হাওলাদারকে (৪৫) আটক করে। এ সময় ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ১০টায় মোরেলগঞ্জ থানার পি সি বাড়ইখালি এলাকায় কোস্ট গার্ড ও পুলিশের একটি যৌথ অভিযানে ডাকাতের বাড়ি থেকে আরও কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
অভিযান ও তল্লাশিকালে ডাকাতদের কাছ থেকে নিম্নলিখিত মালামাল জব্দ করা হয়:
অস্ত্র ও গুলি: ৪টি একনলা বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৭৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং ৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি।
শিকার ও অন্যান্য সরঞ্জাম: ১টি টেলিস্কোপ, ১টি হরিণের মাথা (শিংসহ), ১টি সোলার প্যানেল, ১টি ব্যাটারি, ১টি ওয়াকিটকি চার্জার এবং ১টি কাঠের বোট।
আটককৃত আল-আমিন বাচ্চু হাওলাদার বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং বন্যপ্রাণী নিধনের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবন অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে বর্তমানে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। কোস্ট গার্ডের এই কঠোর অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে কোনো ধরনের অপপ্রচারে কান না দিয়ে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কোস্ট গার্ডের এই নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
















