০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৭দিন ব্যাপী প্রাণের বইমেলার দাবী ভ্রাম্যমানের আড়ালে মণিরামপুরের ঐতিহ্য প্রাণের বইমেলা জানা গেলো অজানা কারণ

Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ১৬৯ Time View

মোঃ সাজ্জাদুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিঃ গত ২০ ই জানুয়ারী থেকে মণিরামপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের মাঠে শুরু হয়েছে ৪দিন ব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ২০২৫ । বিশ্ব সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে ৪দিন ব্যাপী এ মেলার শুভ উদ্বোধন করেছেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না।মেলাটি চলবে ২৪শে জানুয়ারী শুক্রবার পর্যন্ত।
দীর্ঘ ৬বছর পর হঠৎ মনিরামপুরে বইমেলার আয়োজন শুনে সাহিত্য প্রেমী সহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে একটি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।মোটামুটি ভিড় ও দেখা গেছে ভ্রাম্যমাণ বইমেলাতে।তবে শূন্য হাতে ফিরতে দেখা গেছে বেশিরভাগ বইপ্রেমীদের।অনেকেই ফিরতে ফিরতে আলোচনাও করছে এই বইমেলা কি আর আমাদের সেই বই মেলা হয় নাকি!
মণিরামপুরের সুধীজনেরা বলছেন, মণিরামপুরের সাহিত্যপ্রেমী মানুষেরা তো ভুলেই গেছে বইমেলা নামে কিছু ছিলো।২০১৯সালে মণিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠীর ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ম.শি.গো আয়োজনে ১৯তম মেলাটি নিষ্প্রাণরূপে শেষে হারিয়ে গেছে ৬টি বছর।যে প্রনের বইমেলা ২০০০ সালে ম.শি.গো’র ১ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো ৭দিন ব্যাপি বইমেলার আয়োজন করেছিলো মণিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্যরা।প্রথমবারের আয়োজনে ব্যাপক উদ্দীপনার সাড়া পেয়ে প্রতিবছরই ধারাবাহিক একক আয়োজক হিসাবে ছিলো মণিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠী(ম.শি.গো.)।
আয়োজক কমিটির প্রধান সঞ্জয় দেবনাথ,হুমাউন আফতাব,সুমন রাহাত,রাশেদ রেজা সহ চলমান বই মেলাতে দেশবরেণ্য সাহিত্যিক,সাংবাদিক, বিশ্লেষক, কবি,রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব,চলচিত্র,ঐতিহাসিক সব সময়োপযোগী স্বরনীয় ব্যাক্তিদের বই মেলায় অংশগ্রহণে মণিরামপুরকে পরিচিত করেছে বিশ্ব সাহিত্যের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে।৭দিনের ব্যাপক এ আয়োজনটি দলমত নির্বিশেষে বিচার করে সকল পর্যায়ের মানুষের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে চমকপ্রদ একটি ইভেন্ট এখনো মণিরামপুরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অথিতিরা প্রচলন রেখেছেন।সেটা হলো “টক শো” যেখানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সকল দলের নেতারা জনতার মুখোমুখি হতেন।জনগনের হাতের লেখা প্রশ্নের উত্তর মঞ্চে বসেই জনতার সামনে দিতে হতো জনপ্রিয় নেতাদের।শুধু আয়োজন না ৭দিনের বই মেলাতে আগত শিল্পী-সাংস্কৃতিক,সাউন্ড সিস্টেম,বৈদ্যুতিক ও ডেকোরেটর,স্টলে স্টলে বই বিক্রি,বাচ্চাদের নাগর দোলা,বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নানান সব পন্যের ব্যাবসায়ীর সাথে জড়িত অনেক শ্রেনীর ব্যাক্তির কাক্ষিত এককালিন উপার্জনেও পড়েছে হতাশার ছায়া।ভ্রাম্যমান বইমেলার ১ম দিনেই দৈনিক “কালবেলা” সহ কয়েকটি গনমাধ্যমে উঠে আসে ২০১৯সালের পর ৬টি বছর কোন একটি অজানা কারনে ম.শি.গো আয়োজন করতে পারেনি এই বই মেলা।সর্বশেষ বই মেলাতে দেশবরেণ্য কৌতুক অভিনেতা নুকুল কুমার বিশ্বাসকে দেখেছিলো মণিরামপুরবাসী।ম.শি.গো’র আয়োজনে জেলা প্রশাসক ও জাতীয় সাহিত্য পরিষদের নজরে আসলে বিশ্ব সাহিত্য পরিষদের পৃষ্ঠ পোশকতায় ১ম বারের মতো মণিরামপুরে ৪দিন ব্যাপি ভ্রাম্যমাণ বইমেলার এ আয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশ্ব সাহিত্য পরিষদ।সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও বইপ্রেমী,দর্শনার্থী,সুধীসমাজের পাশাপাশি ৭দিন ব্যাপি এ বই মেলার একক আয়োজক ম.শি.গো’র বিছিন্নসব সদস্যরাও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধনের দিন(রবিবার) হতেই মণিরামপুর উপজেলার সর্বমহলেই আলোচনায় “টক অব দ্যা টাইম”হয়ে দাড়িয়েছে।কি কারনে বন্ধ হলো বই মেলা?হঠাৎ ভ্রাম্যমাণ বইমেলা তাও সরকারীভাবে?অক্লান্ত পরিশ্রমী সেই আয়োজক কে কোথায়?স্থানীয় পর্যায় থেকে বিশ্ব সাহিত্যে বইমেলার যাত্রার বাহক ম.শি.গো’র কেউ কেনো জানেনা কারা বই মেলার আয়োজক?এমন কি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকেও একাধিক ভেরিফায়েড আইডি থেকে ৭দিন ব্যাপি বই মেলার আক্ষেপ প্রকাশ করেছে।
তথ্য সংক্রান্ত বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জনপ্রিয় দৈনিক যশোর বার্তার মণিরামপুর প্রতিনিধির উপস্থিতরত সময়ে ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধনীর প্রসঙ্গে উঠে আসে ৭দিন ব্যাপি ম.শি.গো’র বই মেলার কথা।সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যেপ্রেমী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না আয়োজক কমিটির সাথে প্রাথমকি স্বাক্ষাতের পর পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন।
দীর্ঘ ৬বছরের অজানা কারন ও ম.শি.গো’র সদস্যদের খোজে অনুসন্ধানের শুরুতেই হতাশার চিত্র।মনিরামপুরে ৬বছর বইমেলা হয়না সবাই জানলেও কেনো হয়না এটা বলতে পারলেন না জনসাধারন তো দূরের মণিরামপুর উপজেলার শীর্ষ কোন পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গ।মেলার একক সাউন্ড সিস্টেমের বিল্লালের সাথে কথা হলেও তার কাছ থেকেও চরম হতাশা পাওয়া গেলো।বিল্লালের কথা মোতাবেক ১ম থেকে ২০১৯সালের আয়োজনেও একক সাউন্ড সিস্টেমে থেকেও জানেন না কেনো বন্ধ হলো বই মেলা,আয়োজকদের কারো যোগাযোগ নাম্বারও পেলেননা মোবাইলের ফোনবুকে।বই মেলা না হওয়াতে তারও আপসোস,সাউন্ডের প্রাপ্য মজুরী না তিনি বইমেলার দর্শনার্থী হিসাবে চান বইমেলাটি আবার হোক।
প্রথম পর্যায়ে কয়েকজন গোপন করলেও ম.শি.গো’র হাস্যউজ্জল সদস্য রাসেদ রেজার সাথে যোগাযোগ হলে তিনি অজানা সেই কারনের রহস্যের হাড়ি ভেঙে দেন।জানালেন আ”লীগের দলীয় গ্রুপিংয়ের রোষানলে পড়ে কয়েক বছর মেলা বন্ধ আছে।মুঠোফোনে সুমন রাহাতের সাথে যোগাযোগ করলে ম.শি.গো’র সভাপতি সঞ্জয় দেবনাথের কথা বললে স্বাক্ষাত করতে যোগাযোগ করলে তিনি আর না বললেন না।
বই মেলার একক আয়োজক ম.শি.গো’র প্রতিষ্ঠাকলীন সভাপতি সঞ্জয় দেবনাথ জানালেন রহস্যঘেরা অজানা কারন,ব্যাক্ত করলেন নিজের অভিমত!তিনি জানান,বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ভ্রাম্যমান বই মেলার বিষয়ে আমরা জানতাম না।তবে যে উদ্দেশ্যে প্রতিবছর বই মেলার আয়োজন করেছি সেই স্বপ্ন পূরন হয়েছে।মণিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাবার্ষীকি উপলক্ষে আয়োজিত মেলাটি আজ বিশ্ব সাহিত্য জায়গা পেয়েছে,মানুষ বই পড়তে শিখেছে এটাই বড় প্রাপ্তী।
বিগত আ”লীগ সরকারের আমলে ২০১৯ সালে সর্বশেষ বইমেলার আয়োজনের পর সাবেক প্রতিমন্ত্রী তার নিজের কব্জায় মেলাটি নেওয়ার জন্য অনেক পায়তারা করেছিলো।আমি তাতে সম্মতি না দেওয়ায় কয়েক বছর মণিরামপুরের বই মেলাটি তিনি বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে।
কয়েকটি বিছিন্নঘটনাও ঘটেছিলো ২০১৯শের বই মেলাতে।দলীয় প্রভাব খাটিয়ে স্টল,দোকান সহ বেশকয়েকটি মাধ্যম থেকে বই মেলার নামে স্বপনের লোকেরা চাঁদা তোলাতে নানান প্রশ্নের সম্মুখে আমাকে পড়তে হয়েছে।আমি চাইনা এসমস্ত কিছু আর ঘটুক।একক আয়োজক হিসাবে ম.শি.গো’র ধারাবাহিক আয়োজনটি যদি আমাদের সংগঠনের অনূকুলে থাকে তাহলে আবারও ফিরতে পারে প্রানের সেই “বইমেলা”।
স্বাক্ষাতকালে তিনি আরো জানান,মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন ও উপজেলা প্রশাসনের স্বতস্ফুর্ততা থাকলে চলতি বছরের আয়োজনে বা আগামিতে কোন প্রতিবন্ধকতা আটকাতে পারবেনা ম.শি.গো’র সেই মণিরামপুরবাসীর কাক্ষিত বই মেলা।
দীর্ঘদিন যাবত বন্দ থাকা বই মেলার আয়োজোকদের সাথে প্রাথমিক স্বাক্ষাতের কথা মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না জানালেও দলীয় কাউন্সিলিংয়ে ব্যাস্ততার কারনে বই মেলার অভিব্যাক্তটি দিতে পারেননি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন।তবে উপজেলা বিএনপির বিশ্বস্ত মাধ্যমে জানা গেছে প্রানের বই মেলার আয়োজনে মণিরামপুরবাসীর দাবি অবশ্যই রাখবেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫(মণিরামপুর) এর সংসদ সদস্য প্রার্থী ও মণিরামপুরের রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের কাছে “ব্লাক ডায়মন্ড”খ্যাত এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

৭দিন ব্যাপী প্রাণের বইমেলার দাবী ভ্রাম্যমানের আড়ালে মণিরামপুরের ঐতিহ্য প্রাণের বইমেলা জানা গেলো অজানা কারণ

Update Time : ১০:০৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৫

মোঃ সাজ্জাদুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিঃ গত ২০ ই জানুয়ারী থেকে মণিরামপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের মাঠে শুরু হয়েছে ৪দিন ব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ২০২৫ । বিশ্ব সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে ৪দিন ব্যাপী এ মেলার শুভ উদ্বোধন করেছেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না।মেলাটি চলবে ২৪শে জানুয়ারী শুক্রবার পর্যন্ত।
দীর্ঘ ৬বছর পর হঠৎ মনিরামপুরে বইমেলার আয়োজন শুনে সাহিত্য প্রেমী সহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে একটি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।মোটামুটি ভিড় ও দেখা গেছে ভ্রাম্যমাণ বইমেলাতে।তবে শূন্য হাতে ফিরতে দেখা গেছে বেশিরভাগ বইপ্রেমীদের।অনেকেই ফিরতে ফিরতে আলোচনাও করছে এই বইমেলা কি আর আমাদের সেই বই মেলা হয় নাকি!
মণিরামপুরের সুধীজনেরা বলছেন, মণিরামপুরের সাহিত্যপ্রেমী মানুষেরা তো ভুলেই গেছে বইমেলা নামে কিছু ছিলো।২০১৯সালে মণিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠীর ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ম.শি.গো আয়োজনে ১৯তম মেলাটি নিষ্প্রাণরূপে শেষে হারিয়ে গেছে ৬টি বছর।যে প্রনের বইমেলা ২০০০ সালে ম.শি.গো’র ১ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো ৭দিন ব্যাপি বইমেলার আয়োজন করেছিলো মণিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্যরা।প্রথমবারের আয়োজনে ব্যাপক উদ্দীপনার সাড়া পেয়ে প্রতিবছরই ধারাবাহিক একক আয়োজক হিসাবে ছিলো মণিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠী(ম.শি.গো.)।
আয়োজক কমিটির প্রধান সঞ্জয় দেবনাথ,হুমাউন আফতাব,সুমন রাহাত,রাশেদ রেজা সহ চলমান বই মেলাতে দেশবরেণ্য সাহিত্যিক,সাংবাদিক, বিশ্লেষক, কবি,রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব,চলচিত্র,ঐতিহাসিক সব সময়োপযোগী স্বরনীয় ব্যাক্তিদের বই মেলায় অংশগ্রহণে মণিরামপুরকে পরিচিত করেছে বিশ্ব সাহিত্যের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে।৭দিনের ব্যাপক এ আয়োজনটি দলমত নির্বিশেষে বিচার করে সকল পর্যায়ের মানুষের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে চমকপ্রদ একটি ইভেন্ট এখনো মণিরামপুরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অথিতিরা প্রচলন রেখেছেন।সেটা হলো “টক শো” যেখানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সকল দলের নেতারা জনতার মুখোমুখি হতেন।জনগনের হাতের লেখা প্রশ্নের উত্তর মঞ্চে বসেই জনতার সামনে দিতে হতো জনপ্রিয় নেতাদের।শুধু আয়োজন না ৭দিনের বই মেলাতে আগত শিল্পী-সাংস্কৃতিক,সাউন্ড সিস্টেম,বৈদ্যুতিক ও ডেকোরেটর,স্টলে স্টলে বই বিক্রি,বাচ্চাদের নাগর দোলা,বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নানান সব পন্যের ব্যাবসায়ীর সাথে জড়িত অনেক শ্রেনীর ব্যাক্তির কাক্ষিত এককালিন উপার্জনেও পড়েছে হতাশার ছায়া।ভ্রাম্যমান বইমেলার ১ম দিনেই দৈনিক “কালবেলা” সহ কয়েকটি গনমাধ্যমে উঠে আসে ২০১৯সালের পর ৬টি বছর কোন একটি অজানা কারনে ম.শি.গো আয়োজন করতে পারেনি এই বই মেলা।সর্বশেষ বই মেলাতে দেশবরেণ্য কৌতুক অভিনেতা নুকুল কুমার বিশ্বাসকে দেখেছিলো মণিরামপুরবাসী।ম.শি.গো’র আয়োজনে জেলা প্রশাসক ও জাতীয় সাহিত্য পরিষদের নজরে আসলে বিশ্ব সাহিত্য পরিষদের পৃষ্ঠ পোশকতায় ১ম বারের মতো মণিরামপুরে ৪দিন ব্যাপি ভ্রাম্যমাণ বইমেলার এ আয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশ্ব সাহিত্য পরিষদ।সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও বইপ্রেমী,দর্শনার্থী,সুধীসমাজের পাশাপাশি ৭দিন ব্যাপি এ বই মেলার একক আয়োজক ম.শি.গো’র বিছিন্নসব সদস্যরাও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধনের দিন(রবিবার) হতেই মণিরামপুর উপজেলার সর্বমহলেই আলোচনায় “টক অব দ্যা টাইম”হয়ে দাড়িয়েছে।কি কারনে বন্ধ হলো বই মেলা?হঠাৎ ভ্রাম্যমাণ বইমেলা তাও সরকারীভাবে?অক্লান্ত পরিশ্রমী সেই আয়োজক কে কোথায়?স্থানীয় পর্যায় থেকে বিশ্ব সাহিত্যে বইমেলার যাত্রার বাহক ম.শি.গো’র কেউ কেনো জানেনা কারা বই মেলার আয়োজক?এমন কি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকেও একাধিক ভেরিফায়েড আইডি থেকে ৭দিন ব্যাপি বই মেলার আক্ষেপ প্রকাশ করেছে।
তথ্য সংক্রান্ত বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জনপ্রিয় দৈনিক যশোর বার্তার মণিরামপুর প্রতিনিধির উপস্থিতরত সময়ে ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধনীর প্রসঙ্গে উঠে আসে ৭দিন ব্যাপি ম.শি.গো’র বই মেলার কথা।সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যেপ্রেমী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না আয়োজক কমিটির সাথে প্রাথমকি স্বাক্ষাতের পর পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন।
দীর্ঘ ৬বছরের অজানা কারন ও ম.শি.গো’র সদস্যদের খোজে অনুসন্ধানের শুরুতেই হতাশার চিত্র।মনিরামপুরে ৬বছর বইমেলা হয়না সবাই জানলেও কেনো হয়না এটা বলতে পারলেন না জনসাধারন তো দূরের মণিরামপুর উপজেলার শীর্ষ কোন পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গ।মেলার একক সাউন্ড সিস্টেমের বিল্লালের সাথে কথা হলেও তার কাছ থেকেও চরম হতাশা পাওয়া গেলো।বিল্লালের কথা মোতাবেক ১ম থেকে ২০১৯সালের আয়োজনেও একক সাউন্ড সিস্টেমে থেকেও জানেন না কেনো বন্ধ হলো বই মেলা,আয়োজকদের কারো যোগাযোগ নাম্বারও পেলেননা মোবাইলের ফোনবুকে।বই মেলা না হওয়াতে তারও আপসোস,সাউন্ডের প্রাপ্য মজুরী না তিনি বইমেলার দর্শনার্থী হিসাবে চান বইমেলাটি আবার হোক।
প্রথম পর্যায়ে কয়েকজন গোপন করলেও ম.শি.গো’র হাস্যউজ্জল সদস্য রাসেদ রেজার সাথে যোগাযোগ হলে তিনি অজানা সেই কারনের রহস্যের হাড়ি ভেঙে দেন।জানালেন আ”লীগের দলীয় গ্রুপিংয়ের রোষানলে পড়ে কয়েক বছর মেলা বন্ধ আছে।মুঠোফোনে সুমন রাহাতের সাথে যোগাযোগ করলে ম.শি.গো’র সভাপতি সঞ্জয় দেবনাথের কথা বললে স্বাক্ষাত করতে যোগাযোগ করলে তিনি আর না বললেন না।
বই মেলার একক আয়োজক ম.শি.গো’র প্রতিষ্ঠাকলীন সভাপতি সঞ্জয় দেবনাথ জানালেন রহস্যঘেরা অজানা কারন,ব্যাক্ত করলেন নিজের অভিমত!তিনি জানান,বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ভ্রাম্যমান বই মেলার বিষয়ে আমরা জানতাম না।তবে যে উদ্দেশ্যে প্রতিবছর বই মেলার আয়োজন করেছি সেই স্বপ্ন পূরন হয়েছে।মণিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাবার্ষীকি উপলক্ষে আয়োজিত মেলাটি আজ বিশ্ব সাহিত্য জায়গা পেয়েছে,মানুষ বই পড়তে শিখেছে এটাই বড় প্রাপ্তী।
বিগত আ”লীগ সরকারের আমলে ২০১৯ সালে সর্বশেষ বইমেলার আয়োজনের পর সাবেক প্রতিমন্ত্রী তার নিজের কব্জায় মেলাটি নেওয়ার জন্য অনেক পায়তারা করেছিলো।আমি তাতে সম্মতি না দেওয়ায় কয়েক বছর মণিরামপুরের বই মেলাটি তিনি বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে।
কয়েকটি বিছিন্নঘটনাও ঘটেছিলো ২০১৯শের বই মেলাতে।দলীয় প্রভাব খাটিয়ে স্টল,দোকান সহ বেশকয়েকটি মাধ্যম থেকে বই মেলার নামে স্বপনের লোকেরা চাঁদা তোলাতে নানান প্রশ্নের সম্মুখে আমাকে পড়তে হয়েছে।আমি চাইনা এসমস্ত কিছু আর ঘটুক।একক আয়োজক হিসাবে ম.শি.গো’র ধারাবাহিক আয়োজনটি যদি আমাদের সংগঠনের অনূকুলে থাকে তাহলে আবারও ফিরতে পারে প্রানের সেই “বইমেলা”।
স্বাক্ষাতকালে তিনি আরো জানান,মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন ও উপজেলা প্রশাসনের স্বতস্ফুর্ততা থাকলে চলতি বছরের আয়োজনে বা আগামিতে কোন প্রতিবন্ধকতা আটকাতে পারবেনা ম.শি.গো’র সেই মণিরামপুরবাসীর কাক্ষিত বই মেলা।
দীর্ঘদিন যাবত বন্দ থাকা বই মেলার আয়োজোকদের সাথে প্রাথমিক স্বাক্ষাতের কথা মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না জানালেও দলীয় কাউন্সিলিংয়ে ব্যাস্ততার কারনে বই মেলার অভিব্যাক্তটি দিতে পারেননি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন।তবে উপজেলা বিএনপির বিশ্বস্ত মাধ্যমে জানা গেছে প্রানের বই মেলার আয়োজনে মণিরামপুরবাসীর দাবি অবশ্যই রাখবেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫(মণিরামপুর) এর সংসদ সদস্য প্রার্থী ও মণিরামপুরের রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের কাছে “ব্লাক ডায়মন্ড”খ্যাত এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন।