১১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকতার ​মূলভাব।

Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৪ Time View

 

মোঃ আবুল হোসেন :

 

সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো নিরপেক্ষতা, সত্যনিষ্ঠা এবং বস্তুনিষ্ঠতা। কিন্তু যখন কোনো সাংবাদিক নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর অন্ধ স্বার্থরক্ষায় কলম ধরেন, তখন তিনি আর সাংবাদিক থাকেন না; রূপান্তরিত হন সেই দলের কেবল একজন প্রচারক বা মুখপাত্রে।

সাংবাদিকতার ​সম্প্রসারিত ভাব
সংবাদপত্রকে বলা হয় সমাজের দর্পণ এবং গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। একজন নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকের মূল কাজ হলো সত্য তুলে ধরা, ক্ষমতার অপব্যবহারের সমালোচনা করা এবং নিরপেক্ষভাবে সমাজের বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করা। গণমাধ্যমের শক্তি অর্জিত হয় জনগণের আস্থা থেকে। সাংবাদিকরা যখন কোনো ভয় বা লোভে নতিস্বীকার না করে নিরপেক্ষভাবে সত্য প্রকাশ করেন, তখনই তা প্রকৃত সাংবাদিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
​কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আধুনিক যুগে অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে দলীয় ভাবাদর্শ ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা দেখা যায়। যখন কোনো সংবাদকর্মী কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রভাবশালী মহলের তোষামোদে ব্যস্ত থাকেন, সত্য গোপন করে দলীয় অপকর্মের সাফাই গান এবং একপেশে সংবাদ পরিবেশন করেন, তখন তা সাংবাদিকতার সংজ্ঞাকেই কলঙ্কিত করে। দলীয় অনুগত ব্যক্তির লেখায় বা বক্তব্যে সত্যের নিরপেক্ষ প্রকাশ থাকে না; বরং সেখানে থাকে দলের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্য।
​নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা এবং দলের পক্ষে প্রচারণা চালানো—এ দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বিষয়। একজন দলীয় মুখপাত্রের কাজই হলো তার দলের নীতি ও কর্মকাণ্ডকে যেকোনো মূল্যে সঠিক প্রমাণ করা। তাই কোনো সংবাদকর্মী যদি একই আচরণ করেন, তবে সাংবাদিকতার সম্মানজনক পোশাকটি তার জন্য নেহাতই এক ধরনের মুখোশ। সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা জাতির বিবেক বিক্রি করার শামিল।

​সর্বশেষ বলা যায়
প্রকৃত সাংবাদিকতা কখনোই কোনো বিশেষ দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তিস্বার্থের অনুগামী হতে পারে না। সাংবাদিকদের হতে হবে কেবল সত্য ও ন্যায়ের অনুসারী। যে মুহূর্ত থেকে সাংবাদিকতার কলম দলীয় স্বার্থে পরিচালিত হতে শুরু করে, ঠিক সেই মুহূর্তেই তার ‘সাংবাদিক’ পরিচয় বিলুপ্ত হয় এবং তিনি দলীয় ‘মুখপাত্র’ হিসেবে চিহ্নিত হন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সাংবাদিকতার ​মূলভাব।

Update Time : ০২:১৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

 

মোঃ আবুল হোসেন :

 

সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো নিরপেক্ষতা, সত্যনিষ্ঠা এবং বস্তুনিষ্ঠতা। কিন্তু যখন কোনো সাংবাদিক নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর অন্ধ স্বার্থরক্ষায় কলম ধরেন, তখন তিনি আর সাংবাদিক থাকেন না; রূপান্তরিত হন সেই দলের কেবল একজন প্রচারক বা মুখপাত্রে।

সাংবাদিকতার ​সম্প্রসারিত ভাব
সংবাদপত্রকে বলা হয় সমাজের দর্পণ এবং গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। একজন নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকের মূল কাজ হলো সত্য তুলে ধরা, ক্ষমতার অপব্যবহারের সমালোচনা করা এবং নিরপেক্ষভাবে সমাজের বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করা। গণমাধ্যমের শক্তি অর্জিত হয় জনগণের আস্থা থেকে। সাংবাদিকরা যখন কোনো ভয় বা লোভে নতিস্বীকার না করে নিরপেক্ষভাবে সত্য প্রকাশ করেন, তখনই তা প্রকৃত সাংবাদিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
​কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আধুনিক যুগে অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে দলীয় ভাবাদর্শ ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা দেখা যায়। যখন কোনো সংবাদকর্মী কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রভাবশালী মহলের তোষামোদে ব্যস্ত থাকেন, সত্য গোপন করে দলীয় অপকর্মের সাফাই গান এবং একপেশে সংবাদ পরিবেশন করেন, তখন তা সাংবাদিকতার সংজ্ঞাকেই কলঙ্কিত করে। দলীয় অনুগত ব্যক্তির লেখায় বা বক্তব্যে সত্যের নিরপেক্ষ প্রকাশ থাকে না; বরং সেখানে থাকে দলের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্য।
​নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা এবং দলের পক্ষে প্রচারণা চালানো—এ দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বিষয়। একজন দলীয় মুখপাত্রের কাজই হলো তার দলের নীতি ও কর্মকাণ্ডকে যেকোনো মূল্যে সঠিক প্রমাণ করা। তাই কোনো সংবাদকর্মী যদি একই আচরণ করেন, তবে সাংবাদিকতার সম্মানজনক পোশাকটি তার জন্য নেহাতই এক ধরনের মুখোশ। সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা জাতির বিবেক বিক্রি করার শামিল।

​সর্বশেষ বলা যায়
প্রকৃত সাংবাদিকতা কখনোই কোনো বিশেষ দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তিস্বার্থের অনুগামী হতে পারে না। সাংবাদিকদের হতে হবে কেবল সত্য ও ন্যায়ের অনুসারী। যে মুহূর্ত থেকে সাংবাদিকতার কলম দলীয় স্বার্থে পরিচালিত হতে শুরু করে, ঠিক সেই মুহূর্তেই তার ‘সাংবাদিক’ পরিচয় বিলুপ্ত হয় এবং তিনি দলীয় ‘মুখপাত্র’ হিসেবে চিহ্নিত হন।