০১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়ে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় সন্তানসহ বাবার দায়ের কোপে খুন কলিম উল্লাহ

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩ Time View

গোয়াইনঘাট সিলেট : মোঃ মনিরুজ্জামান মনির

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৫নং পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের দীঘিরপার গ্রামে ভাইয়ের দায়ের কোপে আপন ছোট ভাই কলিম উল্লাহ (৬০) নিহত হয়েছে। নিহত কলিমউল্লা দীঘিরপার গ্রামের তুতি মিয়ার পুত্র। শনিবার বেলা ২টার দিকে দীঘিরপার গ্রামের পিছনে মতিন মিয়ার ফিসারীর পূর্ব পাশে এঘটনা ঘটে। সরজমিনে গিয়ে জানাযায়, গত সোমবার বিকেল ৫টায় কলিম উল্লাহ’র বড় মেয়ে রুনা বেগম (১৮)’কে নিজ ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষন করে খুনি সয়ফুল্লাহ’র ছেল জুবের আহমদ (২৫)। এরপর রুনা বেগম’র আর্তচিৎকারে পাশের ঘর থেকে তার অন্য এক ভাই’র স্ত্রী রাজিয়া বেগম ঘটনাস্থলে এসে জুবের আহমদ’র অনৈতিক কর্মকান্ড দেখে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে জুবের আহমদকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাতেনাতে আটক করে। পরে এ ঘটনার খবর এলাকায় চাউর হওয়াতে দুটি পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের উদ্যোগে আগামী বুধবার সন্ধ্যায় সালিশ বৈঠকের দিনতারিখ নির্ধারন করে জুবের আহমদকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিচার সালিশের দিনক্ষণ সামনে রেখে ধর্ষনের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে তাৎক্ষণিক তার পিতা সয়ফুল্লাহ (৬৫) ছেলে জুবের আহমদ’র জন্য পার্শবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত গ্রামে বিয়ে ঠিকটাক করে গত শুক্রবার রাতেই আকদ সম্পন্ন করে ফেলেন। এদিকে আপন ভাইয়ের ছেলে কর্তৃক অনৈতিক কর্মকান্ডের ঘটনায় স্থানীয় সালিশি বিচার রেখে শুক্রবার দিবাগত রাতে জুবের আহমদ বিয়ের পিড়িতে বসেন।
স্থানীয় বিচার না পেয়ে শনিবার দুপুরে গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কলিম উল্লাহ। অভিযোগ দায়ের’র পরপর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ওমর ফারুক মোড়ল থানার এসআই নাঈমুল’কে নিয়োগ করেন। পরবর্তীতে এসআই নাঈমুল ও এএসআই অনুপ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জুবের আহমদ এবং তার পিতা সয়ফুল্লাহ দেশীয় অস্ত্র সশস্ত্র নিয়ে কলিম উল্লাহ (৬০)’র উপর আক্রমণ করে। সয়ফুল্লাহ’র অতর্কিত হামলায় (দা’র) আঘাতে কলিম উল্লাহ’র গলার বাম পাশে গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই কলিম উল্লাহ নিহত হয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা কলিমউল্লাহকে উদ্ধার করে দ্রুত গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কলিমউল্লাহকে মৃত ঘোষনা করেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে লাশ থানায় নিয়ে যায়।
এবিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ওমর ফারুক মোড়ল জানান, তাৎক্ষণিক থানা পুলিশ সয়ফুল্লা’র ছেলে আমির উদ্দিন(২৮)’কে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপরাপর আসামিদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মেয়ে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় সন্তানসহ বাবার দায়ের কোপে খুন কলিম উল্লাহ

Update Time : ১২:৫৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

গোয়াইনঘাট সিলেট : মোঃ মনিরুজ্জামান মনির

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৫নং পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের দীঘিরপার গ্রামে ভাইয়ের দায়ের কোপে আপন ছোট ভাই কলিম উল্লাহ (৬০) নিহত হয়েছে। নিহত কলিমউল্লা দীঘিরপার গ্রামের তুতি মিয়ার পুত্র। শনিবার বেলা ২টার দিকে দীঘিরপার গ্রামের পিছনে মতিন মিয়ার ফিসারীর পূর্ব পাশে এঘটনা ঘটে। সরজমিনে গিয়ে জানাযায়, গত সোমবার বিকেল ৫টায় কলিম উল্লাহ’র বড় মেয়ে রুনা বেগম (১৮)’কে নিজ ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষন করে খুনি সয়ফুল্লাহ’র ছেল জুবের আহমদ (২৫)। এরপর রুনা বেগম’র আর্তচিৎকারে পাশের ঘর থেকে তার অন্য এক ভাই’র স্ত্রী রাজিয়া বেগম ঘটনাস্থলে এসে জুবের আহমদ’র অনৈতিক কর্মকান্ড দেখে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে জুবের আহমদকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাতেনাতে আটক করে। পরে এ ঘটনার খবর এলাকায় চাউর হওয়াতে দুটি পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের উদ্যোগে আগামী বুধবার সন্ধ্যায় সালিশ বৈঠকের দিনতারিখ নির্ধারন করে জুবের আহমদকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিচার সালিশের দিনক্ষণ সামনে রেখে ধর্ষনের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে তাৎক্ষণিক তার পিতা সয়ফুল্লাহ (৬৫) ছেলে জুবের আহমদ’র জন্য পার্শবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত গ্রামে বিয়ে ঠিকটাক করে গত শুক্রবার রাতেই আকদ সম্পন্ন করে ফেলেন। এদিকে আপন ভাইয়ের ছেলে কর্তৃক অনৈতিক কর্মকান্ডের ঘটনায় স্থানীয় সালিশি বিচার রেখে শুক্রবার দিবাগত রাতে জুবের আহমদ বিয়ের পিড়িতে বসেন।
স্থানীয় বিচার না পেয়ে শনিবার দুপুরে গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কলিম উল্লাহ। অভিযোগ দায়ের’র পরপর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ওমর ফারুক মোড়ল থানার এসআই নাঈমুল’কে নিয়োগ করেন। পরবর্তীতে এসআই নাঈমুল ও এএসআই অনুপ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জুবের আহমদ এবং তার পিতা সয়ফুল্লাহ দেশীয় অস্ত্র সশস্ত্র নিয়ে কলিম উল্লাহ (৬০)’র উপর আক্রমণ করে। সয়ফুল্লাহ’র অতর্কিত হামলায় (দা’র) আঘাতে কলিম উল্লাহ’র গলার বাম পাশে গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই কলিম উল্লাহ নিহত হয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা কলিমউল্লাহকে উদ্ধার করে দ্রুত গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কলিমউল্লাহকে মৃত ঘোষনা করেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে লাশ থানায় নিয়ে যায়।
এবিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ওমর ফারুক মোড়ল জানান, তাৎক্ষণিক থানা পুলিশ সয়ফুল্লা’র ছেলে আমির উদ্দিন(২৮)’কে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপরাপর আসামিদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।