০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালি সিন্ডিকেটের ধামাচাপা! ময়নাতদন্ত না করেই নিহত শিশুর লাশ চব্বিশ ঘন্টা পর মর্গ থেকে কবরে

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৮:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১০৪ Time View

 

মোবারক হোসাইন, ঈদগাঁও প্রতিনিধি 

 

অবৈধ বালি সিন্ডিকেটের সৃষ্ট গর্তে পড়ে নিহত শিশু কন্যা মুনতাহা (৪) এর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে ২৪ ঘন্টারও অধিক সময় রাখার পর অবশেষে বালি সিন্ডিকেটের প্রভাব ও অর্থের কাছে হেরে ময়না তদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে দাফনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

 

অভিযুক্ত বালি সিন্ডিকেট প্রধান হোসেন মাঝির মোবাইলে বারবার কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ ,ইতিপূর্বেও এ অবৈধ বালি খেকো চক্র উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এলাকাবাসীর উপর অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বনবিভাগ ও সরকারের জায়গায় অনুমোদনহীন অবৈধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালি উত্তোলনের কারণে সৃষ্ট গভীর গর্তে পড়ে একাধিক শিশুর অকালে মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনাও চক্রটি প্রভাবশালী মহলের চাপ ও অবৈধ অর্থের মাধ্যমে ধামাচাপা দেয় । যার কারণে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি সরকারি অর্থে নির্মিত গ্রামীণ রাস্তা গুলো নষ্ট হয়ে সারাবছর চলাচল অনুপযোগী হয়ে আছে। এবারও একই ভাবে শিশু মুনতাহার মৃত্যু হলে তার পিতা মোঃ: সাগর বালি খেকো চক্রের প্রধান হোসেন মাঝির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ঈদগাঁও পুলিশের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

 

এলাকাবাসী আশা করছিল এবার হয়ত চিহ্নিত বালিখেকো চক্র আইনের আওতায় আসবে। কিন্তু নিহত শিশুকে মর্গে নেয়ার ২৪ ঘন্টা পরও ময়না তদন্ত সম্পন্ন না করে লাশ মর্গে রেখে দেয়। এরই মধ্যে নিহতের পরিবারকে প্রভাবশালী মহলের চাপ ও অর্থের প্রলোভনে বশে আনে।যার কারণে নিহত অবুঝ শিশুর লাশ ২৪ ঘন্টারও অধিক সময় মর্গে ফেলে রেখে পরে ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

নিহতের পিতা মোঃ: সাগরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি

 

তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবাইদুল্লাহ জানান, নিহত ও অভিযুক্ত পক্ষের মধ্যে বুঝা পড়া হওয়াতে পরদিন মর্গ থেকে ময়না তদন্ত বিহীন লাশ এনে দাফন করা হয়েছে । তবে তাদের মধ্যে কি রকম বুঝাপড়া হয়েছে তিনি জানেন না।

 

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ: মছিউর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর পর বিনা ময়না তদন্তে লাশ দাফনের জন্য ভিকটিম পক্ষ কতৃক এডিএম বরাবর আবেদন পর্যন্ত তিনি জানেন।পরে তাকে আর কিছু অবগত করেননি।

 

উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ফুলছড়ি রেঞ্জের অধীন কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাদ ইউনিয়নের রাজঘাট বনবিট এলাকার অবৈধ বালি সিন্ডিকেটের প্রধান হোসেন মাঝির অবৈধ বালির গর্তে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় একই এলাকার মোঃ: সাগরের শিশু কন্যা সিদরাতুল মুনতাহা (৪) এর।পরে তার পিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ঈদগাঁও পুলিশ লাশ উদ্ধার করে একই দিন বিকালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বালি সিন্ডিকেটের ধামাচাপা! ময়নাতদন্ত না করেই নিহত শিশুর লাশ চব্বিশ ঘন্টা পর মর্গ থেকে কবরে

Update Time : ১২:৩৮:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

মোবারক হোসাইন, ঈদগাঁও প্রতিনিধি 

 

অবৈধ বালি সিন্ডিকেটের সৃষ্ট গর্তে পড়ে নিহত শিশু কন্যা মুনতাহা (৪) এর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে ২৪ ঘন্টারও অধিক সময় রাখার পর অবশেষে বালি সিন্ডিকেটের প্রভাব ও অর্থের কাছে হেরে ময়না তদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে দাফনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

 

অভিযুক্ত বালি সিন্ডিকেট প্রধান হোসেন মাঝির মোবাইলে বারবার কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ ,ইতিপূর্বেও এ অবৈধ বালি খেকো চক্র উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এলাকাবাসীর উপর অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বনবিভাগ ও সরকারের জায়গায় অনুমোদনহীন অবৈধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালি উত্তোলনের কারণে সৃষ্ট গভীর গর্তে পড়ে একাধিক শিশুর অকালে মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনাও চক্রটি প্রভাবশালী মহলের চাপ ও অবৈধ অর্থের মাধ্যমে ধামাচাপা দেয় । যার কারণে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি সরকারি অর্থে নির্মিত গ্রামীণ রাস্তা গুলো নষ্ট হয়ে সারাবছর চলাচল অনুপযোগী হয়ে আছে। এবারও একই ভাবে শিশু মুনতাহার মৃত্যু হলে তার পিতা মোঃ: সাগর বালি খেকো চক্রের প্রধান হোসেন মাঝির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ঈদগাঁও পুলিশের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

 

এলাকাবাসী আশা করছিল এবার হয়ত চিহ্নিত বালিখেকো চক্র আইনের আওতায় আসবে। কিন্তু নিহত শিশুকে মর্গে নেয়ার ২৪ ঘন্টা পরও ময়না তদন্ত সম্পন্ন না করে লাশ মর্গে রেখে দেয়। এরই মধ্যে নিহতের পরিবারকে প্রভাবশালী মহলের চাপ ও অর্থের প্রলোভনে বশে আনে।যার কারণে নিহত অবুঝ শিশুর লাশ ২৪ ঘন্টারও অধিক সময় মর্গে ফেলে রেখে পরে ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

নিহতের পিতা মোঃ: সাগরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি

 

তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবাইদুল্লাহ জানান, নিহত ও অভিযুক্ত পক্ষের মধ্যে বুঝা পড়া হওয়াতে পরদিন মর্গ থেকে ময়না তদন্ত বিহীন লাশ এনে দাফন করা হয়েছে । তবে তাদের মধ্যে কি রকম বুঝাপড়া হয়েছে তিনি জানেন না।

 

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ: মছিউর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর পর বিনা ময়না তদন্তে লাশ দাফনের জন্য ভিকটিম পক্ষ কতৃক এডিএম বরাবর আবেদন পর্যন্ত তিনি জানেন।পরে তাকে আর কিছু অবগত করেননি।

 

উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ফুলছড়ি রেঞ্জের অধীন কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাদ ইউনিয়নের রাজঘাট বনবিট এলাকার অবৈধ বালি সিন্ডিকেটের প্রধান হোসেন মাঝির অবৈধ বালির গর্তে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় একই এলাকার মোঃ: সাগরের শিশু কন্যা সিদরাতুল মুনতাহা (৪) এর।পরে তার পিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ঈদগাঁও পুলিশ লাশ উদ্ধার করে একই দিন বিকালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।