আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস: সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ এবং চোরাচালান রোধের দাবি।
- Update Time : ০১:০৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / ৯ Time View

মো: রাজু আহমেদ (স্টক রিপোর্টার)।
বাঘ আমাদের জাতীয় অহংকার ও শৌর্যবীর্যের প্রতীক। কিন্তু বাসস্থান সংকট, জলবায়ুর প্রভাব এবং চোরাশিকারীদের কারণে এই বুনো অলংকার আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে। তাই সুন্দরবনকে রক্ষা করতে না পারলে বাঘ বাঁচানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বাগেরহাটের মোংলার মিঠাখালী বাজারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ২৯ জুলাই (বুধবার) সকালে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, বাদাবন সংঘ এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে ”সুন্দরবন বাঁচাও, বাঘ বাঁচাও” শীর্ষক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ‘ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা ও পরিবেশযোদ্ধা মোঃ নূর আলম শেখ বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চোরাচালানি চক্র বর্তমানে সুন্দরবনে সক্রিয়। তারা বাঘ হত্যা করে দেহের নানা অংশ বিদেশে পাচার করছে। এসব চক্রকে দ্রুত দমন করার জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “বিষ দিয়ে মাছ নিধন, অবৈধ শিকার এবং সুন্দরবনের দূষণ বন্ধ না করলে বাঘ বিলুপ্তির পথ এড়ানো যাবে না। বাঘ রক্ষায় অবিলম্বে ‘টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান’ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, সুন্দরবন ও বাঘ আমাদের ভৌগোলিক ঐতিহ্য। এগুলো রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ শেখ রুস্তুম আলী নীতি-নির্ধারকদের সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যদিকে, পরিবেশযোদ্ধা মেহেদী হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও প্রভাবশালী চক্রের থাবায় সুন্দরবন এবং বাঘ ধ্বংসের মুখে পড়ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সভায় উপস্থিত বক্তারা আশঙ্কাজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ১৯৩০-এর দশকে পূর্ব বাংলার ১৭টি জেলার মধ্যে ১১টিতেই বাঘের বিচরণ ছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে গত ১০০ বছরে প্রায় ৯৩ শতাংশ বাঘ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উনিশ শতকে বিশ্বের ৩৩টি দেশে প্রায় ১ লাখ বাঘ থাকলেও, বর্তমানে মাত্র ৮টি দেশে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজারে।
পরিবেশযোদ্ধা মোঃ নূর আলম শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন সমাজসেবক গোলাম রসুল, শাহ আলম শিপন, এম রেজাউল ইসলাম, পরিবেশকর্মী নাজমুল হক, জানে আলম বাবু, গীতিকার মোল্লা আল মামুন এবং ছাত্রনেতা মঈন গাজী ও আরাফাত দূর্জয়।
আলোচনা সভার আগে সুন্দরবন ও বাঘ সচেতনতায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালি চাঁদপাই ও মিঠাখালী বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে বিকেলে মিঠাখালী মাঠে ‘বাঘ মহড়া’ ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

























