১০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে মাধ্যমিক স্তরের চার বছরের বই বিক্রি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫
  • / ৯৯ Time View

 

মাহাবুর রহমান -কেশবপুর (যশোর)

কেশবপুরের মাধ্যমিক স্তরের অব্যবহৃত চার বছরের পাঠ্য বই বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার কমিটির তথ্য অনুযায়ী ২ হাজার ২০ কেজি বই বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতা বলছেন তিনি ক্রয় করেছেন ৮ হাজার ৮০০ কেজি।
এদিকে, মধ্য রাতে কেশবপুর পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গুদাম থেকে বের করে তিনটি ট্রাক যোগে যশোরে নিয়ে রনজিৎ নামে এক ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গভীর রাতে বই বিক্রি করায় প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

সূত্র জানায়, এই বই বিক্রির লক্ষে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির প্রধান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন ও সদস্য সচিব হলেন কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ এস এম জিলুর রশিদ। নামকাওয়াস্তে একটি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই বই বিক্রির টেন্ডার কমিটি ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪ বছরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত গুদামজাত করে রাখা বই বিক্রি করেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের তথ্য মতে, পাঠ্য পুস্তক বিক্রয় কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে অবিতরণকৃত বই উন্মুক্ত নিলাম ডাকের মাধ্যমে গত ৪ মার্চ বিক্রয় করা হয়। নিলাম ডাকে সর্বোচ্চ দরদাতা ছিলেন নাহিদ এন্টারপ্রাইজ। গত ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার কার্যাদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কমিটি ২ হাজার ২০ কেজি বইয়ের দাম হয় ২০.৬০ টাকা দরে ৪১ হাজার ৬১২টাকা। এরসাথে ৭.৫% হারে ভ্যাট এবং ৫% হারে আয়করসহ মোট ১২.৫% হারে ৫২০৩ টাকা (পাঁচ হাজার দুইশত তিন) টাকা করসহ মোট দাম হয় ৪৬ হাজার ৮১৪ টাকা।

অথচ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার যে তথ্য দিয়েছেন বাস্তবের সাথে মিল নেই। নিলাম ডাকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নাহিদ এন্টারপ্রাইজের নামমাত্র কমিটিতে উপস্থিত করা হয়। এটা ছাড়াও কেশবপুরের জিয়াউর রহমান এন্টারপ্রাইজ, যশোরের আব্দুল হালিম এন্টারপ্রাইজ এই প্রতিষ্ঠানের নামগুলোর কাছে বই বিক্রি করেছেন বলে দরপত্রের তুলনামূলক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেন বলে সূত্র জানায়। এ সকল বই ক্রয় করছেন যশোর শহরস্থ খালধার রোডে অবস্থিত অন্তর স্টোরের মালিক রনজিত কুমার।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, মোট বইয়ের পরিমাণ ৮ হাজার ৮০০ কেজি। যা হিসাব করলে পাওয়া যায় ২২০ মন যার মূল্য ১ লক্ষ্য ১০ হাজার টাকা। বই টেন্ডার কমিটির কেজির সংখ্যাসহ সকল কিছুর ক্ষেত্রে সত্যের মিল নেই। তারপরও গভীর রাতে গোপনে বইগুলো তিনটি ট্রাক ভর্তি করে কেশবপুর থেকে অতি গোপনে যশোর নেয়া হয় বলে সূত্র জানায়।
এবিষয়ে রিপন হোসেন, জাহিদ হোসেনসহ অনেকেই বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক ঘটনা উদঘাটন করে জনগণের সামনে উন্মোচন হওয়া উচিৎ।
জানতে চাইলে কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার এ এস এম জিলুর রশিদ জানান, নিয়ম অনুযায়ী বই বিক্রি করা হয়েছে। নিলামের থেকে বেশি বই বিক্রি করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব কথা বলা যাবে না।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কেশবপুরে মাধ্যমিক স্তরের চার বছরের বই বিক্রি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ

Update Time : ১০:৫৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫

 

মাহাবুর রহমান -কেশবপুর (যশোর)

কেশবপুরের মাধ্যমিক স্তরের অব্যবহৃত চার বছরের পাঠ্য বই বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার কমিটির তথ্য অনুযায়ী ২ হাজার ২০ কেজি বই বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতা বলছেন তিনি ক্রয় করেছেন ৮ হাজার ৮০০ কেজি।
এদিকে, মধ্য রাতে কেশবপুর পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গুদাম থেকে বের করে তিনটি ট্রাক যোগে যশোরে নিয়ে রনজিৎ নামে এক ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গভীর রাতে বই বিক্রি করায় প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

সূত্র জানায়, এই বই বিক্রির লক্ষে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির প্রধান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন ও সদস্য সচিব হলেন কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ এস এম জিলুর রশিদ। নামকাওয়াস্তে একটি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই বই বিক্রির টেন্ডার কমিটি ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪ বছরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত গুদামজাত করে রাখা বই বিক্রি করেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের তথ্য মতে, পাঠ্য পুস্তক বিক্রয় কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে অবিতরণকৃত বই উন্মুক্ত নিলাম ডাকের মাধ্যমে গত ৪ মার্চ বিক্রয় করা হয়। নিলাম ডাকে সর্বোচ্চ দরদাতা ছিলেন নাহিদ এন্টারপ্রাইজ। গত ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার কার্যাদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কমিটি ২ হাজার ২০ কেজি বইয়ের দাম হয় ২০.৬০ টাকা দরে ৪১ হাজার ৬১২টাকা। এরসাথে ৭.৫% হারে ভ্যাট এবং ৫% হারে আয়করসহ মোট ১২.৫% হারে ৫২০৩ টাকা (পাঁচ হাজার দুইশত তিন) টাকা করসহ মোট দাম হয় ৪৬ হাজার ৮১৪ টাকা।

অথচ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার যে তথ্য দিয়েছেন বাস্তবের সাথে মিল নেই। নিলাম ডাকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নাহিদ এন্টারপ্রাইজের নামমাত্র কমিটিতে উপস্থিত করা হয়। এটা ছাড়াও কেশবপুরের জিয়াউর রহমান এন্টারপ্রাইজ, যশোরের আব্দুল হালিম এন্টারপ্রাইজ এই প্রতিষ্ঠানের নামগুলোর কাছে বই বিক্রি করেছেন বলে দরপত্রের তুলনামূলক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেন বলে সূত্র জানায়। এ সকল বই ক্রয় করছেন যশোর শহরস্থ খালধার রোডে অবস্থিত অন্তর স্টোরের মালিক রনজিত কুমার।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, মোট বইয়ের পরিমাণ ৮ হাজার ৮০০ কেজি। যা হিসাব করলে পাওয়া যায় ২২০ মন যার মূল্য ১ লক্ষ্য ১০ হাজার টাকা। বই টেন্ডার কমিটির কেজির সংখ্যাসহ সকল কিছুর ক্ষেত্রে সত্যের মিল নেই। তারপরও গভীর রাতে গোপনে বইগুলো তিনটি ট্রাক ভর্তি করে কেশবপুর থেকে অতি গোপনে যশোর নেয়া হয় বলে সূত্র জানায়।
এবিষয়ে রিপন হোসেন, জাহিদ হোসেনসহ অনেকেই বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক ঘটনা উদঘাটন করে জনগণের সামনে উন্মোচন হওয়া উচিৎ।
জানতে চাইলে কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার এ এস এম জিলুর রশিদ জানান, নিয়ম অনুযায়ী বই বিক্রি করা হয়েছে। নিলামের থেকে বেশি বই বিক্রি করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব কথা বলা যাবে না।